kalerkantho

সোমবার  । ১৯ শ্রাবণ ১৪২৭। ৩ আগস্ট  ২০২০। ১২ জিলহজ ১৪৪১

ভবন নির্মাণের অজুহাতে ভাঙা হচ্ছে 'প্রাচীন নিদর্শন'

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, ময়মনসিংহ   

১৬ জুলাই, ২০২০ ১৬:০৪ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ভবন নির্মাণের অজুহাতে ভাঙা হচ্ছে 'প্রাচীন নিদর্শন'

নতুন একাডেমিক ভবন নির্মাণের জন্য ভেঙে ফেলা হচ্ছে ময়মনসিংহের গৌরীপুরের জমিদার আমলের ঐতিহাসিক প্রচীন স্থাপনা। এ নিয়ে সুশীল সমাজ, সচেতন মহল ও এলাকাবাসী মাঝে সৃষ্টি হয়েছে তীব্র ক্ষোভ। গত প্রায় এক সপ্তাহ ধরেগৌরীপুর সরকারি কলেজে স্থাপনাটি ভেঙে ফেলার কাজ চলছে।

স্থানীয় সুত্র জানায়, ১৯৬৪ সালের ১ আগস্ট গৌরীপুর পৌর শহরের কৃষ্ণপুর এলাকায় জমিদার সুরেন্দ্র প্রসাদ লাহিড়ীর বাড়িতে যাত্রা শুরু হয় গৌরীপুর সরকারি কলেজের। ২২ একর জমির উপর গড়ে উঠা দৃষ্টিনন্দন কলেজটি। প্রাচীন নির্দশন, প্রশস্ত মনোরম ক্যাম্পাস ও প্রাকৃতি পরিবেশের কারণে ঐতিহ্যবাহী এই বিদ্যাপীঠটি ক্রমেই দর্শনীয় স্থানে পরিণত হয়।

১৯৯১ সালে কলেজটি সরকারিকরণ হয়। ২০১২ সালে কলেজে অর্নাস কোর্স চালু হয়। এই অবস্থায় শিক্ষক ও শিক্ষার্থীর সংখ্যা বেড়ে গেলে দেখা দেয়ে ভবন সংকট। সম্প্রতি কলেজে ভবন নির্মাণের জন্য একটি প্রাচীন স্থাপনা ভাঙার কাজ শুরু হয়। পরে স্থাপনা ভাঙার ছবি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়লে সমালোচনার ঝড় উঠে। কলেজে বিকল্প জায়গা থাকার পরেও কেন প্রাচীন নির্দশন ভেঙে ভবন নির্মাণ হচ্ছে সে বিষয়ে প্রশ্ন তুলেন বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ। গত বুধবার বিকালে গৌরীপুর সরকারি কলেজে গিয়ে দেখা যায় অধ্যক্ষ ভবনের পাশে প্রাচীন স্থাপনাটি ভাঙার কাজ চলছে।

কলেজের সাবেক প্রাক্তন শিক্ষার্থী মহসীন মাহমুদ শাহ বলেন, একাধিক ভবন নির্মাণের জন্য গৌরীপুর সরকারি কলেজের নিজস্ব অনেক জমি খালি রয়েছে। আমাদের দাবি ওইসব খালি জমিতে ভবন নির্মাণ করা হোক। পাশাপাশি ঐহিতহাসিক নির্দশনটি না ভেঙে এর অবকাঠামো ঠিক রেখে দৃষ্টিনন্দনভাবে সংস্কার করা হোক। 

বাংলাদেশ মানবাধিকার কমিশন গৌরীপুর শাখার সাধারণ সম্পাদক রইছ উদ্দিন বলেন, রক্ষণাবেক্ষণের অভাব, অপরিকল্পত সংস্কার ও নির্মাণ কাজের জন্য কলেজের প্রাচীন নির্দশনগুলো ধ্বংস হচ্ছে। কয়েক বছর আগে সংস্কারের নামে কলেজের প্রবেশ পথে প্রাচীণ ভবনের একাংশ ভেঙে ফেলা হয়। পরবর্তীতে সেটি মেরামত হয়নি। এখন আরেকটি প্রাচীন স্থাপনা ভাঙা হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে নিকট ভবিষ্যতে কলেজের প্রাচীন নিদর্শনগুলোর আর কোন অস্তিত্ব থাকবে না।

এ বিষয়ে গৌরীপুর উন্নয়ন সংগ্রাম পরিষদের সভাপতি মো. শফিকুল ইসলাম মিন্টু বলেন, প্রাচীন স্থাপনাটি কলেজের ছাত্র সংসদের কার্যালয় ও পরবর্তীতে শিক্ষার্থীদের কমন রুম হিসাবে ব্যবহৃত হতো। কিন্ত ভবন নির্মাণের অজুহাতে স্থাপনাটি ভেঙে ফেলা হচ্ছে এই বিষয়টি অত্যন্ত দুঃখজনক।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে গৌরীপুর সরকারি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ প্রফেসর মিল্টন ভট্টাচার্য বলেন, জমিদারের আমলের স্মৃতি বিজরিত ভবন হলেও ঐতিহাসিক স্থাপনা নয়। তাছাড়া স্থাপনাটির অবকাঠামো দুর্বল ও ঝুঁকিপুর্ণ হওয়ায় এটি সংস্কার করে সংরক্ষণের সুযোগ নেই। তাই ভবন নির্মাণের জন্য যথাযথ নিয়ম মেনে টেন্ডার প্রক্রিয়ায় এটি ভাঙা হচ্ছে। কোনো অনিয়ম করা হচ্ছে না।

এ ব্যাপারে বাংলাদেশ প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের আঞ্চলিক পরিচালক (ঢাকা বিভাগ) রাখী রায় কালের কণ্ঠকে জানান, কোনো মতেই ওই প্রাচীন স্থাপনা ভাঙতে পারে না। এ বিষয়ে আজই উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও গৌরীপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষকে স্থানীয়  স্থাপনা ভাঙার কাজ বন্ধ করতে বলা হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা