kalerkantho

সোমবার  । ১৯ শ্রাবণ ১৪২৭। ৩ আগস্ট  ২০২০। ১২ জিলহজ ১৪৪১

করোনা মোকাবেলায় অনুসরণযোগ্য স্থানীয় উদ্যোগ

বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে হাই ফ্লো নেজাল ক্যানোলা মেশিন দিল স্পন্দন গ্লোবাল ফাউন্ডেশন

বরগুনা প্রতিনিধি   

১৬ জুলাই, ২০২০ ১৪:৪১ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে হাই ফ্লো নেজাল ক্যানোলা মেশিন দিল স্পন্দন গ্লোবাল ফাউন্ডেশন

বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের করোনা ইউনিটের জন্য একটি হাই ফ্লো নেজাল ক্যানোলা মেশিন দিয়েছেন স্পন্দন গ্লোবাল ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও বরগুনা জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য এস এম মশিউর রহমান শিহাব। এ নিয়ে স্থানীয় সাংবাদিকদের উদ্যোগে সর্বস্তরের পেশাজীবীদের সহযোগিতায় বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের করোনা ইউনিটে মোট চারটি হাই ফ্লো নেজাল ক্যানোলা মেশিন যোগ হলো, যা করোনা রোগীদের চিকিৎসায় কার্যকর ভূমিকা রাখবে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকসহ স্থানীয়রা।

আজ বৃহস্পতিবার সকালে বরগুনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহর উপস্থিতিতে বরগুনার সিভিল সার্জন ডা. হুমায়ুন শাহিন খান এবং করোনা ইউনিটের মেডিসিন স্পেশালিস্ট ডা. এম কে আজাদের কাছে এ মেশিন হস্তান্তর করেন স্পন্দন গ্লোবাল ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগ নেতা এস এম মশিউর রহমান শিহাব। এর আগেও করোনাভাইরাস সংক্রমণের শুরুর দিকে বরগুনা জেলার সব হাসপাতালের চিকিৎসকসহ সব স্বাস্থ্যকর্মীর জন্য এন-৯৫ মাস্ক বিতরণ করেন মশিউর রহমান শিহাব। এ ছাড়া করোনা মহামারিতে কর্মহীন হয়ে পড়া প্রায় ৫০ হাজার দরিদ্র পরিবারের মধ্যে বিভিন্ন সময়ে খাদ্যসামগ্রীও বিতরণ করেন তিনি। 

এর আগে 'আমাদের জন্য আমরা' স্লোগান নিয়ে বরগুনার প্রবীণ সাংবাদিক আব্দুল আলীম হিমু এবং তরুণ সাংবাদিক  মুশফিক আরিফের নেতৃত্বে বরগুনা প্রেস ক্লাবের সাংবাদিকদের উদ্যোগে ফেসবুকে আবেদন জানিয়ে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের করোনা ইউনিটের জন্য দুটি হাইফ্লো নজেল ক্যানোলা মেশিন ক্রয় করা হয়। এ উদ্যোগের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে আর্থিক সহযোগিতা প্রদান করেন দেশ-বিদেশে অবস্থানরত বরগুনাবাসীসহ স্থানীয় জনগণ। এ উদ্যোগের সঙ্গে একাত্মতা ঘোষণা করে মশিউর রহমান শিহাবসহ নাভানা গ্রুপ থেকে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের জন্য দুটি হাই ফ্লো নেজাল ক্যানোলা মেশিন প্রদান করা হয়। করোনা মহামারি মোকাবেলায় স্থানীয় এমন উদ্যোগ সারা দেশের জন্য একটি অনুসরণীয় উদাহরণ বলে মনে করছে স্থানীয় সচেতন মহল। 

বরগুনা জেনারেল হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, জটিল করোনা রোগীদের যখন সাধারণ অক্সিজেন সিলিন্ডারে কাজ হয় না। যখন আইসিইউ বা ভেন্টিলেটরের প্রয়োজন পড়ে, তখন এই মেশিন দিয়ে আইসিইউ বা ভেন্টিলেটরের কাছাকাছি পর্যায়ের সাপোর্ট দেওয়া যায়। এ রকম একেকটি মেশিনের দাম সব কিছু মিলিয়ে প্রায় চার লাখ টাকা পড়ে যায়।  

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে একটি মাত্র হাই ফ্লো নেজাল ক্যানোলা মেশিন ছিল, যা রোগীর সংখ্যার তুলনায় একেবারেই অপ্রতুল। এ বিষয়ে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডের একমাত্র মেডিসিন স্পেশালিস্ট ডা. কামরুল আজাদ বলেন, যেহেতু এ হাসপাতালে সেন্ট্রাল অক্সিজেন মেনিফোল্ড সিস্টেম আছে, সেহেতু হাইফ্লো নেজাল ক্যানোলা মেশিন ক্রিটিক্যাল করোনা রোগীদের জন্য অনেকটাই সাপোর্ট দেবে। তিনি বলেন, সাধারণ সিলিন্ডারের মাধ্যমে প্রতি মিনিটে সাধারণত ১৫ লিটারের বেশি অক্সিজেন দেওয়া যায় না। এ কারণে রোগীর অবস্থা খারাপ হয়ে গেলে তখন আইসিইউ প্রয়োজন হয়। কিন্তু এই মেশিনের মাধ্যমে একজন রোগীর জন্য প্রতি মিনিটে ৭০ থেকে ৮০ লিটার পর্যন্ত অক্সিজেন সরবরাহ করা যায়। তা ছাড়া আইসিইউ কিংবা ভেন্টিলেটর পদ্ধতিতে যেমন হাইলি স্কিল্ড ম্যানপাওয়ার লাগে, এই মেশিন ব্যবহারে তার প্রয়োজন হয় না। যেকোনো চিকিৎসক, নার্স বা টেকনোলজিস্ট এটা একবার দেখেই ব্যবহার করতে পারেন।

এ বিষয়ে 'আমাদের জন্য আমরা' প্রকল্পের প্রধান সমন্বয়কারী সাংবাদিক মুশফিক আরিফ জানান, আমরা শুধু শুরুটা করেছি। আমাদের ওপর আস্থা রেখে বাকিটা সম্পন্ন করেছে বরগুনার স্থানীয় সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে ভাবেন এমন প্রিয়জনরা। এখানে সব ক্রেডিট তাঁদের, যাঁরা আমাদের আহ্বানে সাড়া দিয়ে এগিয়ে এসেছেন। তিনি আরো বলেন, দুটি মেশিনের একটি এরই মধ্যে বরগুনায় চলে এসেছে। অন্য মেশিনটি বরগুনায় এসে পৌঁছাতে আরো দু-এক দিন সময় লাগবে। তিনি আরো বলেন, শুধু এ দুটি মেশিনই নয়, এর সঙ্গে বিপি মেশিন, পালস অক্সিমিটার এবং কেএন-৯৫ মাস্কসহ আরো বেশ কিছু চিকিৎসাসমাগ্রী কেনা হয়েছে।
 
এ বিষয়ে বরগুনা প্রেস ক্লাবের সাবেক সভাপতি ও বরগুনার সাংবাদিক নির্যাতন প্রতিরোধ কমিটির সভাপতি সাংবাদিক আব্দুল আলীম হিমু বলেন, বরগুনা প্রেস ক্লাবের সাংবাদিকদের উদ্যোগে বিভিন্ন সময়ে বরগুনার বিভিন্ন সংকটে এমন অনেক মহৎ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়েছে। তিনি তরুণ সাংবাদিক মুশফিক আরিফকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, এ কাজটির জন্য গুরুদায়িত্ব পালন করেছেন মুশফিক আরিফ। আমি শুধু তাঁর পাশে থেকে তাঁকে সাহস জুগিয়েছি, পরামর্শ দিয়েছি। তিনি এ প্রকল্পের জন্য যাঁরা প্রকাশ্যে বা গোপনে অর্থ দিয়ে এবং মেশিন কিনে দিয়ে সহযোগিতা করেছেন, তাঁদের সবার প্রতিও কৃতজ্ঞতা জানান। 

বরগুনার জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিটি হাসপাতালেই এ মেশিন পৌঁছানোর প্রক্রিয়া চলমান। তবে সারা দেশে তা পৌঁছাতে হয়তো কিছুটা সময় লাগবে। সরকারের পাশাপাশি সর্বস্তরের সাধারণ জনগণ এগিয়ে এলে স্থানীয় অনেক সমস্যার সমাধান সম্ভব। এ সময় তিনি স্পন্দন গ্লোবাল ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগ নেতা এম এম মশিউর রহমান শিহাব ও নাভানা গ্রুপসহ 'আমাদের জন্য আমরা' কর্মসূচির সঙ্গে সম্পৃক্ত সবাইকে এবং যাঁরা অর্থ দিয়ে সহযোগিতা করেছেন তাঁদের সবাইকে ধন্যবাদ জানান।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা