kalerkantho

শনিবার । ২৪ শ্রাবণ ১৪২৭। ৮ আগস্ট  ২০২০। ১৭ জিলহজ ১৪৪১

সরকারি চাল সংগ্রহ অভিযান : লোকসানে চালকল মালিকরা

নেত্রকোনা প্রতিনিধি   

১৬ জুলাই, ২০২০ ১৪:৩৫ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সরকারি চাল সংগ্রহ অভিযান : লোকসানে চালকল মালিকরা

নেত্রকোনায় সরকারি খাদ্য গুদামে চাল দিতে গিয়ে বিশাল আর্থিক লোকসানের মুখে পড়েছেন চালকল মালিকরা। মিল মালিকরা জানিয়েছেন, বাজারে ধানের মূল্য বেশি। কিন্তু সরকার ধানের মূল্যের সাথে সামঞ্জস্য না রেখে চালকল মালিকদেরওপর যে ঋণের বোঝা চাপিয়ে দিয়েছেন তা পূরণ করতে বিশাল আর্থিক লোকসানে পড়েছেন তারা। সরকারকে চাল দিতে গিয়ে হিমশিম খাচ্ছেন মিল মালিকরা। তারা জানিয়েছেন, সারা দেশের এই ক্রান্তিকালে শ্রমিক সংকট মাথায় নিয়ে অতিরিক্ত ভর্তুকি দিয়ে মিলগুলো চালু রাখতে হয়েছে তাদের। বর্তমান বাজারমূল্যে ধান কিনে চাল দিয়ে সরকারের চুক্তি বাস্তবায়ন করতে বড় ধরনের লোকসানের মুখে পড়বেন মিল মালিকরা। মিল মালিকদের চাল সংগ্রহে অনীহার কারণে ভেস্তে যেতে পারে সরকারের চাল সংগ্রহ অভিযান।

নেত্রকোনা জেলা চালকল মালিক সমিতির সভাপতি আলহাজ এইচ আর খান সাকি ও সাধারণ সম্পাদক উজ্জল সাহা তাদের কার্যালয়ে সাংবাদিকদের জানান, প্রতিকেজি চালের সরকারি মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ৩৬ টাকা। গত মে ২০২০ তারিখে সারা দেশে করোনায় লকডাউনের কারণে মিলগুলোতে শ্রমিক সংকট দেখা দেয়। এবং সরকার মে মাসে চাল ক্রয় সংগ্রহ অভিযান শুরু করে। আগামী ৩১ আগস্ট পর্যন্ত এ অভিযান চলবে। বর্তমানে ধানের মূল্য বাজারে হু হু করে বেড়ে উঠছে। প্রতিমণ ধানের বর্তমান মূল্য ৯৫০ টাকা। সে ক্ষেত্রে বর্তমান বাজারে যে ধান তা ক্রাশ করলে চাল হয় ২৫ থেকে ২৫.৫  কেজি। যার মূল্য দাঁড়ায় ৪০ টাকার ওপরে। মিল মালিকদের প্রতিকেজি চাল গুদাম পর্যন্ত পৌঁছে দিতে খরচ হয় ৪০ টাকার ওপরে। প্রতিকেজি চাল সরকারকে দিতে ৫ টাকা করে লোকসান গুনতে হচ্ছে তাদের। সরকার যদি চালের মূল্য বৃদ্ধি না করে তাহলে তারা এই বিশাল আর্থিক ক্ষতি কোনোভাবেই কাটিয়ে উঠতে পারবেন না। এ বিষয়ে তারা গত ৮ মে খাদ্যমন্ত্রী বরাবর চালের মূল্য বৃদ্ধি করে মিল মালিকদের এই বিশাল অর্থিক ক্ষতির হাত থেকে বাঁচানোর দাবি জানান। তারা আরো দাবি জানিয়েছেন করোনায় আর্থিক ক্ষতি পূরণের জন্য সরকার প্রণোদনার ঘোষণা দিয়েছে। সরকার একটু সুদৃষ্টি দিলে চালকল মালিকরাও প্রণোদনায় অংশ নিতে পারে। সেই সাথে আর্থিক ক্ষতির হাত থেকে বাঁচাতে পারে দেশের বিশাল চালশিল্প।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন চালকল মালিক জানান, ২০১৪, ১৫, ১৬ সালে সরকার ৩৮ টাকা কেজি দরে চাল ক্রয় করেছিল। এ বছর এটি ২৬ টাকা করা হয়েছে। ধানের প্রকৃত মূল্য না পেয়ে গত কয়েক বছর ধরে হাওরাঞ্চলের কৃষক ধানের আবাদ না করার চিন্তা ভাবনা করেছিল। এবার সারা দেশে বাম্পার ফলন হয়েছে। অথচ একটি চক্র ভারত থেকে চাল ক্রয়ে সরকারকে উদ্ভুদ্ধ করছে। এই চক্রটি প্রতিকেজি চাল ৫০ টাকা দরে কেনার পাঁয়তারা করছে। যা ভারতে গো-খাদ্য হিসাবে পরিচিত। ভারত থেকে কম মূল্যে গো-খাদ্য কিনে সেই চাল রিক্র্যাশ করে সরকারি গুদামে ঢুকিয়ে দিয়ে তারা হাতিয়ে নিতে চাচ্ছে কোটি কোটি টাকা।

চালকল মালিকদের অভিযোগের বিষয়ে জানতে চাইলে নেত্রকোনা জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক সুরাইয়া খাতুন জানান, নেত্রকোনা চালকল মালিকরা চালের মূল্যের বিষয়ে জোরালো আবেদন করলে সরকার বিবেচনা করতেও পারে। এবার নেত্রকোনা হাওরের রাজধানী বলে খ্যাত খালিয়াজুরী উপজেলায় অকল্পনীয় ফলন হয়েছে। কিন্তু মিল মালিকরা ওখানকার খাদ্য গুদাম থেকে দূরত্ব ও বন্যার পানির কারণে ধান চাল সংগ্রহ করতে অনাগ্রহ জানাচ্ছে। এ নিয়ে সংকটে আছি। জেলায় মোট বরাদ্দ : সিদ্ধ ৩৬,৫২৪ মেট্রিকটন। আতপ ৪,৯৭১ মেট্রিকটন। ধান ২,৯১০ মেট্রিকটন। সংগ্রহ ১৩,৬৪৯ মেট্রিকটন। ধান ৩,৯০০ মেট্রিকটন। বোরো-আতপ ৯৭৩ মেট্রিকটন।

নেত্রকোনা জেলা প্রশাসক মঈন উল ইসলাম জানান, চালকল মালিকরা সরকারের সাথে চুক্তি করেছে তারা চাল দেবে- এটাই আমার বিশ্বাস। ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষ এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেবে, এ বিষয়ে আমি কিছু বলতে পারব না।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা