kalerkantho

বুধবার । ২৮ শ্রাবণ ১৪২৭। ১২ আগস্ট ২০২০ । ২১ জিলহজ ১৪৪১

নবীনগরে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে টালবাহানা!

গৌরাঙ্গ দেবনাথ অপু, নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া)   

১৪ জুলাই, ২০২০ ০১:৪০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নবীনগরে চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন নিয়ে টালবাহানা!

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলার ইব্রাহিমপুর ইউপি’র চেয়ারম্যান ও আওয়ামী লীগ নেতা আবু মুছার বিরুদ্ধে করা হতদরিদ্রদের ৪০ দিনের কর্মসূচির লাখ লাখ টাকা আত্মসাৎ করার তদন্তে টালবাহানার অভিযোগ ওঠেছে।

জেলা প্রশাসক তিন কার্যদিবসের মধ্যে ওই অভিযোগের তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে নবীনগরের ইউএনওকে গত ৯ জুন নির্দেশ দিলেও ইতিমধ্যে ১ মাস ৩ দিন পার হয়ে গেলেও রহস্যজনক কারণে সেই তদন্ত প্রতিবেদন এখনো জমা দিচ্ছেন না গঠিত তদন্ত কমিটি। অভিযোগ ওঠেছে, আওয়ালীগ নেতা ওই চেয়ারম্যানকে বাঁচাতেই তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন জমা দিতে পরিকল্পিতভাবে টালবাহানা করছে। 

জানা গেছে, গত ২ জুন ইব্রাহিমপুর কয়েকজন দরিদ্র শ্রমিক ইউপি চেয়ারম্যান আবু মুছার বিরুদ্ধে হতদরিদ্রদের কর্মসংস্থানের ৪০ দিনের কর্মসূচির কয়েক লাখ টাকা আত্মসাতের অভিযোগ এনে একটি আবেদন জেলা প্রশাসক হায়াত উদ দৌলা খানের কাছে জমা দেয়। 

পরে ওই অভিযোগের তদন্ত করে সর্বোচ্চ ৩ কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে গত ৯ জুন জেলা প্রশাসক চিঠি দেন নবীনগরের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ মাসুমকে। ওই নির্দেশনা পেয়ে ইউএনও মাসুম উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা আবু মাসুদকে প্রধান করে ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে দেন। কিন্তু এলাকাবাসী অভিযোগ, এরপর একমাসের বেশি সময় পেরিয়ে গেলেও অদ্যাবধি তদন্ত রিপোর্ট জমা দেয়নি তদন্ত কমিটি।

এ বিষয়ে নবীনগরের ইউএনও মোহাম্মদ মাসুম বলেন, ‘তদন্ত কমিটিকে দ্রুত তদন্ত প্রতিবেদন জমা দিতে আমি নির্দেশ দিয়েছি। আশা করছি, শিগগিরই তদন্ত প্রতিবেদন পেয়ে যাব।’

এ বিষয়ে তদন্ত কমিটির প্রধান উপজেলা সিনিয়র মৎস্য কর্মকর্তা আবু মাসুদ সোমবার কালের কণ্ঠকে বলেন, ‘তিন কার্যদিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেওয়ার কথা থাকলেও, জুন ক্লোজিং এবং অফিসের নানা ব্যস্ততায় তদন্ত প্রতিবেদনটি জমা দিতে পারিনি। সেজন্য দুঃখিত। তবে শিগগিরই তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেব।’

অভিযুক্ত চেয়ারম্যান আপনাদের (তদন্ত কমিটি) ম্যানেজ করে ফেলেছে বিধায় তদন্ত রিপোর্ট দিতে দেরী হচ্ছে, এলাকাবাসীর এমন অভিযোগের বিষয়ে তদন্ত কমিটি প্রধান আবু মাসুদ বলেন, ‘এটি কাল্পনিক অভিযোগ। মূলত দেরী হওয়ায় হয়তো এ ধরনের মিথ্যা অভিযোগ ছড়ানো হচ্ছে।চেয়ারম্যান দোষী হলে তদন্ত রিপোর্টে সেটি পরিষ্কারভাবে উল্লেখ করা হবে।’

তবে অভিযুক্ত চেয়ারম্যান ও ইব্রাহিমপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মো. আবু মুছা বরাবরের মতো আনীত এ অভিযোগ সরাসরি অস্বীকার করে এটিকে 'ষড়যন্ত্রমূলক' আখ্যা দিয়ে বলেন, 'সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ তদন্ত হলে এ অভিযোগের বিন্দুমাত্র সত্যতাও খুঁজে পাওয়া যাবে না।'

প্রসঙ্গত, গত ৪ জুন কালের কণ্ঠে ‘নবীনগরে এবার হতদরিদ্রদের ৪০ দিনের টাকা আত্মসাতের অভিযোগ’ শিরোনামে একটি সচিত্র প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা