kalerkantho

সোমবার  । ১৯ শ্রাবণ ১৪২৭। ৩ আগস্ট  ২০২০। ১২ জিলহজ ১৪৪১

শারীরিক সম্পর্কের লোভ দেখিয়ে বাসায় ডেকে এনে হত্যা

নিজস্ব প্রতিবেদক   

১৪ জুলাই, ২০২০ ০০:২০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



শারীরিক সম্পর্কের লোভ দেখিয়ে বাসায় ডেকে এনে হত্যা

ব্যবসায়ী সাইফুল হত্যার সঙ্গে জড়িত অভিযোগে এক দম্পতিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। গ্রেপ্তারকৃতরা বলছে, স্ত্রীকে শ্লীলতাহানির চেষ্টার কারণে ও আত্মরক্ষার্থে খুন করা হয় ব্যবসায়ী সাইফুল ইসলামকে।

অন্যদিকে পুলিশের তদন্তে বের হয়ে আসে নারীর সঙ্গে শারীরিক সম্পর্কের লোভ দেখিয়ে বাসায় ডেকে এনে টাকা আদায় করাই ছিল এই দম্পতির পেশা। টাকা আদায় নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে খুন করা হয় সাইফুলকে।

রাজধানীর ভাটারায় গত জুনের শেষের দিকে ঘটে যাওয়া সাইফুল হত্যা মামলার রহস্য উন্মোচন করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা গুলশান বিভাগের গুলশান জোনাল টিম। সেই সঙ্গে এই হত্যাকাণ্ডের অভিযোগে তিনজনকে গ্রেপ্তার করেছে ডিএমপির গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তারা হলেন- আপেল আহমেদ (২৭), শান্তা ইসলাম ওরফে আলভী (২০) ও আব্দুর রাকিব চৌধুরী (২২)। গত রবিবার (১২ জুলাই) বিকাল সাড়ে ৩টার দিকে ভাটারা থানার বাঁশতলা এলাকা থেকে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়। গ্রেপ্তারের পর তাদের দেখানো মতে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত চাকু উদ্ধার করে জব্দ করা হয়েছে।

সাইফুল হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে গোয়েন্দা গুলশান জোনাল টিমের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) মো. গোলাম সাকলায়েন বলেন, গত ২৪ জুন নিহত সাইফুল ইসলামের স্ত্রী মিনারা পারভীন তার স্বামী নিখোঁজ সংক্রান্তে হাজারীবাগ থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। তিনি জিডিতে উল্লেখ করেন যে, তার স্বামী সাইফুল ইসলাম দুপুর অনুমানিক ২টার দিকে তার ব্যবহৃত প্রাইভেটকার নিয়ে বাসা থেকে বের হয়ে আর ফিরে আসেন নাই। 

ওই জিডি ও গাড়ির সূত্র ধরে ২৬ জুন ভাটারা থানা পুলিশ পরিত্যক্ত অবস্থায় ভাটারা থানার মাদানী এভিনিউস্থ ১০০ ফিট থেকে উক্ত গাড়িটি উদ্ধার করে। গাড়ি উদ্ধারের পরের দিন অর্থাৎ ২৭ জুন ভাটারা থানার সাঈদ নগর পূর্ব পাড়া মসজিদ গলির আনোয়ার হোসেনের বাসার ২য় তলা থেকে সাইফুল ইসলামের অর্ধগলিত লাশ উদ্ধার করে থানা পুলিশ।

গোয়েন্দা এই কর্মকর্তা বলেন, উক্ত হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি থানা পুলিশের পাশাপাশি গোয়েন্দা (গুলশান) বিভাগের গুলশান জোনাল টিমও ছায়া তদন্ত শুরু করে। তদন্ত চলাকালীন তথ্য প্রযুক্তি ও গোয়েন্দা সূত্রে প্রাপ্ত তথ্য বিশ্লেষণ করে হত্যাকারীদের শনাক্ত করতে সক্ষম হয়। আসামিদের অবস্থান নিশ্চিত হয়ে ভাটারা থানার বাঁশতলা ক্যাম্বব্রিয়ান স্কুল এন্ড কলেজের সম্মুখস্থ বাসস্ট্যান্ড এলাকা থেকে তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়।

প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে প্রাপ্ত তথ্য সম্পর্কে এডিসি গোলাম সাকলায়েন বলেন, গ্রেপ্তারকৃত মো. আপেল আহমেদের নির্দিষ্ট কোনো পেশা নেই। সে ফুটপাতে কখনো ভ্যানে করে কাপড় বিক্রি করে, কখনো ভাসমান রেস্টুরেন্ট, কখনো ফলমূল বিক্রি করে জীবিকা নির্বাহ করত। করোনার কারণে আয়ের পথ বন্ধ হলে সে আর্থিক সংকটে পড়ে।

ভিকটিম সাইফুলের কাছে টাকা পেত আপেলের বন্ধু রাফি। রাফি’র পাওনা টাকা উদ্ধারের জন্য রাফির সঙ্গে পরিকল্পনা করে আপেলের স্ত্রী শান্তা ইসলাম ফোনে শারীরিক সম্পর্কের প্রলোভন দেখিয়ে সাঈদ নগর তাদের বাসায় সাইফুলকে নিয়ে আটকে রাখে। প্রথমে ভিকটিমকে বিবস্ত্র করে চাকু’র উল্টা দিক দিয়ে মারধর করে এবং টাকা চাইতে থাকে। 

এদিকে পূর্বেই আপেল স্থানীয় নোমান ও হাসানকে ডেকে এনেছিল। পাশাপাশি আপেলের দুসর্ম্পকীয় ফুফাতো ভাই রাকিবকেও ডেকে এনেছিল ঘটনাস্থলে। একপর্যায়ে নোমান ও হাসান চলে যায়। কোনো এক সুযোগে ভিকটিম পালানোর চেষ্টাকালে রাকিব প্রথমে টেনে ধরে এবং আপেল উপর্যুপরি ছুরিকাঘাতে ভিকটিম সাইফুল ইসলামকে হত্যা করে। এ সময় আপেলের স্ত্রী সাইফুলের মুখ চেপে ধরে রেখেছিল। পরবর্তীতে সাইফুলের মুখে ওড়না গুজে দিয়ে গলা কাটে। নিহত সাইফুল স্বাস্থ্যবান ও লম্বা হওয়ায় তার লাশটিকে গুম করতে না পেরে খাটের নিচে লুকিয়ে রেখে তারা পালিয়ে যায়। 

গ্রেপ্তারকৃতদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা