kalerkantho

বুধবার । ২৮ শ্রাবণ ১৪২৭। ১২ আগস্ট ২০২০ । ২১ জিলহজ ১৪৪১

সোনারগাঁয়ে যুবলীগ নেতাকে হত্যাচেষ্টার প্রতিবাদে বিক্ষোভ

সোনারগাঁ (নারায়ণগঞ্জ) প্রতিনিধি   

১৩ জুলাই, ২০২০ ২০:২০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



সোনারগাঁয়ে যুবলীগ নেতাকে হত্যাচেষ্টার প্রতিবাদে বিক্ষোভ

নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে করোনযোদ্ধা যুবলীগ নেতা আমিনুল ইসলামকে কুপিয়ে হত্যাচেষ্টাকারী ও তাদের মদদদাতাদের গ্রেপ্তারের দাবিতে এলাকার শতশত নারী-পুরুষ প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ মিছিল করেছেন।

উপজেলার বারদী ইউনিয়নের শান্তির বাজার এলাকায় নির্যাতিতের পক্ষে কথা বলায় ডাকাত সর্দার হাবিবুর রহমান হাবু ও তার ছেলে আশিকসহ একটি সন্ত্রাসী বাহিনী করোনাযোদ্ধা হিসেবে পরিচিত যুবলীগ নেতা ও ব্যবসায়ী আমিনুল ইসলামকে হত্যার উদ্যেশে কুপিয়ে মারাত্মকভাবে জখম করে। বর্তমানে ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। এর প্রতিবাদে এলাকার অসহায়, দরিদ্র ও দিনমজুর শ্রমজীবী মানুষ বিক্ষোভ মিছিল করেছে।

আজ সোমবার বেলা ১১টার দিকে বারদী ইউনিয়নের শান্তিরবাজার এলাকায় ৫ গ্রামের নারী পুরুষ একত্রিত হয়ে হাবু ডাকাত ও তার বাহিনীর বিচার দাবি করে বিক্ষোভ মিছিল করে। এলাকাবাসী জানান, করোনাকালে আমিনুল ইসলাম ও তার বড় ভাই লায়ন বাবুল বারদী ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকার হতদরিদ্র পরিবারের মাঝে কয়েক দফায় প্রায় ১০ হাজার প্যাকেট খাদ্যপণ্য বিতরণ করেছেন। তার উপর এ নির্মমভাবে হামলাকারী ও মদদদাতাদের গ্রেপ্তার ও বিচার দাবি করেছেন।

এদিকে আমিনুল ইসলামকে কুপিয়ে হত্যাচেষ্টা ঘটনায় তার বড় ভাই বাদী হয়ে হাবু ডাকাতকে প্রধান আসামি করে ১৮ জনের বিরুদ্ধে সোনারগাঁ থানায় মামলা দায়ের করেন।

মামলার এজহার থেকে জানা যায়, বারদী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জহিরুল হকের মদদে উপজেলার শান্তিরবাজার এলাকায় একটি জমি নিয়ে ডাকাত সর্দার হাবিবুর রহমান হাবু, ফারুক মেম্বার, সানু মেম্বার, আমজাদ হোসেন ও সানাউল্লাহ সিন্ডিকেট আব্দুল মতিনের একটি জমি জোরপূর্বক দখলে নিয়ে একটি বহুতল ভব নির্মাণ কাজ শুরু করে। এ নিয়ে গত শনিবার সকালে সোনারগাঁ থানায় একটি বিচার শালিস হয়। বিচার শালিসে সোনারগাঁ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মোশারফ হোসেন উপস্থিত হয়ে আব্দুল মতিনের জমির কাগজপত্র সঠিক পান। ওই সালিসে চেয়ারম্যান মোশারফ জমি সরেজমিনে পরিদর্শন করে বিচারের রায় ঘোষণার কথা জানান। পরদিন রবিবার সকালে মোশারফ হোসেন ঘটনাস্থলে গেলে আমিনুল ইসলাম ভুক্তভোগী আব্দুল মতিনের পক্ষে কথা বলায় হাবু ডাকাতের নেতৃত্বে ১৮-২০ জনের একটি দল এলোপাথাড়িভাবে আমিনুল ইসলামকে কুপিয়ে ও পিটিয়ে আহত করে।

আমিনুল ইসলাম রাজধানীর একটি বেসরকারী হাসপাতালে নিবীর পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র (আইসিওতে) ভর্তি রয়েছেন। এখনও আমিনুল ইসলামে জ্ঞান ফেরেনি বলে জানিয়েছেন তার বড় ভাই লায়ন বাবুল।

এলাকাবাসীর অভিযোগ, ডাকাত সর্দার হাবু এলাকায় ত্রাস সৃষ্টি ও মানুষের জমি দখল থেকে শুরু করে বিভিন্ন অপকর্ম করে যাচ্ছে। তার বিরুদ্ধে সোনারগাঁ থানাসহ বিভিন্ন থানায় ডাকাতি, চুরি, মাদক ও অস্ত্রসহ ১৯টি মামলা রয়েছে।

সোনারগাঁ থানার ওসি মনিরুজ্জামান বলেন, যুবলীগ নেতাকে কুপিয়ে হত্যাচেষ্টার ঘটনায় তার বড় ভাই বাদী হয়ে মামলা দায়ের করেছেন। অভিযুক্তদের গ্রেপ্তারের জন্য অভিযান অব্যাহত আছে। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা