kalerkantho

শনিবার । ২৪ শ্রাবণ ১৪২৭। ৮ আগস্ট  ২০২০। ১৭ জিলহজ ১৪৪১

রংপুরে মারাত্মক ঝুঁকিতে তিস্তা ডানতীর বাঁধ

স্বপন চৌধুরী, রংপুর   

১৩ জুলাই, ২০২০ ২০:০০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রংপুরে মারাত্মক ঝুঁকিতে তিস্তা ডানতীর বাঁধ

রংপুরে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় চরম দুর্ভোগে পড়েছেন পানিবন্দি পরিবারগুলো। গঙ্গাচড়ায় তিস্তার ডানতীর রক্ষা বাঁধটি (মূলবাঁধ) মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে। পানির প্রবল স্রোতে ভাঙন আতঙ্কে চরম উৎকণ্ঠায় রয়েছে সেখানকার নদী তীরবর্তী অসহায় মানুষ।

আজ সোমবার বিকেল ৩টায় দেশের সর্ববৃহৎ সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টে নদীর পানি বিপদসীমার (৫২ দশমিক ৬০ মিটার) ২০ সেন্টিমিটার উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। যদিও রবিবার রাতে বিপদসীমার ৪৮ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয় তিস্তার পানি। ভারী বর্ষণ ও উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢলে ভয়ঙ্কর রূপে গর্জে উঠেছে তিস্তা। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে তিস্তা ব্যারাজের সবকটি (৪৪টি) জলকপাট খুলে দিয়েছে পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো)।

তিস্তায় সৃষ্ট বন্যায় নীলফামারী, রংপুর, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও গাইবান্ধা জেলার ব্যাপক এলাকা প্লাবিত হয়ে নদীপারের পরিবারগুলো পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। রংপুরের গঙ্গাচড়া, কাউনিয়া ও পীরগাছা উপজেলার নদী কূলবর্তী ৫০ গ্রাম তলিয়ে যাওয়ায় পানিবন্দি হয়ে পড়েছে প্রায় ২০ হাজার পরিবার। এর মধ্যে গঙ্গাচড়ায় ১০ হাজার পরিবার, কাউনিয়ায় ছয় হাজার পরিবার ও পীরগাছায় চার হাজার পরিবার। বিশেষ করে চরাঞ্চল তলিয়ে যাওয়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। 

সরেজমিনে রংপুরের গঙ্গাচড়ার বন্যাকবলিত এলাকা গিয়ে দেখা যায়, চরের বাড়িগুলোর চারপাশে শুধু পানি আর পানি। রান্তাঘাট তলিয়ে যাওয়ায় চরাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। ঘরবাড়ি তলিয়ে যাওয়ায় অনেকে তিস্তার বাঁধে গবাদীপশুসহ আশ্রয় নিয়েছে। অনেকের ঘরে হাটু কিংবা কোমর পানি ওঠায় গতকালও চুলা জ্বালাতে পারেনি চরের পরিবারগুলো। অন্যদিকে বিভিন্ন এলাকায় নদী ভাঙন দেখা দেওয়ায় লোকজন তাদের ঘরবাড়ি অন্যত্র সরিয়ে নিয়ে যাচ্ছে। বন্যাকবলিত এলাকায় খাদ্য ও বিশুদ্ধ পানির সংকট দেখা দিয়েছে।

এদিকে বন্যা পরিস্থিতির অবনতি হওয়ায় গঙ্গাচড়ায় তিস্তার ডানতীর রক্ষা বাঁধটি (মূলবাঁধ) মারাত্মক ঝুঁকিতে রয়েছে। নোহালী ইউনিয়নের ফোটামারি টিহেড গ্রয়িং হতে ফোটামারী আলসিয়াপাড়া স্পার পর্যন্ত ডানতীর রক্ষা বাঁধ রক্ষায় পানি উন্নয়ন বোর্ড জিও ব্যাগ ফেলছে।

ওই এলাকার মমিনুর, রফিক, রমজান, লেবু ও মকবুল জানান, তিন চার মাস আগে ডানতীর রক্ষা বাঁধের প্রায় ৬০০ ফিট সম্পূর্ণ ভেঙে গেছে। বাঁধের বিভিন্ন অংশে ভালো কাজ হয়নি। এ কারণে এখন আবার বন্যায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় গঙ্গাচড়ার বৈরাতি এলাকায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের ২০ মিটারের বেশি পানির তোড়ে ধসে গেছে। আলমবিদিতর ইউনিয়নের প্রতিরক্ষা বাঁধটিতেও ভাঙন ধরেছে।

স্থানীয়রা অভিযোগ করেন, পানি উন্নয়ন বোর্ড টেকসই কাজ না করায় ভাঙন ঝুঁকি বেড়েছে। নোহালী ইউপি চেয়ারম্যান আবুল কালাম আজাদ টিটুল জানান, ডানতীর রক্ষা বাঁধটির ভাঙন ঠেকাতে না পারলে বিস্তীর্ণ এলাকার ক্ষয়ক্ষতি হবে। 

এদিকে রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ডেন নির্বাহী প্রকৌশলী মেহেদী হাসান বলেন, ট্রাস্টফোর্সের মাধ্যেমে ডানতীর রক্ষা বাঁধের কাজ করা হয়েছে, কোথাও অনিয়ম হয়নি। ভাঙন কবলিত এলাকাগুলোতে খোঁজ নিয়ে জিও ব্যাগ ফেলানো হচ্ছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা