kalerkantho

বুধবার । ২৮ শ্রাবণ ১৪২৭। ১২ আগস্ট ২০২০ । ২১ জিলহজ ১৪৪১

নদীগর্ভে যেতে বসেছে বিদ্যালয়

'সাগরে' রূপ নিয়েছে তাহিরপুরের ৮০ ভাগ এলাকা

তাহিরপুর (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি   

১৩ জুলাই, ২০২০ ১৯:৫৮ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



'সাগরে' রূপ নিয়েছে তাহিরপুরের ৮০ ভাগ এলাকা

মেঘালয় থেকে নেসে আসা ঢল আর টানা বৃষ্টিতে শুক্রবার থেকে তাহিরপুর উপজেলায় দ্বিতীয় দফা বন্যা দেখা দিয়েছে। পানি বৃদ্ধি, ঢেউ আর তীব্র স্রোতে সড়ক ভেঙে যাওয়ায় ১৫ দিন ধরে তাহিরপুরের সাথে সুনামগঞ্জের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন রয়েছে। ২৩০টি গ্রাম ও ১৪০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকেছে। উপজেলা পরিষদসহ অভ্যন্তরীণ রাস্তাঘাট পানিতে প্লাবিত হয়েছে। উপজেলার ছোট বড় ত্রিশটি হাট বাজারের সবগুলো পানিতে প্লাবিত হয়েছে। পানি বৃদ্ধি আর ঢেউয়ের কারণে উপজেলার দুই হাজার ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। নদীরক্ষা বাঁধ ভেঙে সোহালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি নদীগর্ভে তলিয়ে যাওয়ার উপক্রম হয়েছে।

আজ সোমবার বৃষ্টি না হওয়ায় হাওর ও নদীর পানি কিছুটা কমতে শুরু করেছে। যদি আর বৃষ্টি না হওয়ায় তবে বন্যা পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে। তবে এখন পর্যন্ত বন্যার পানিতে উপজেলার অধিকাংশ ঘরবাড়ি, শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসহ অভ্যন্তরীণ রাস্তাঘাট পানিতে ডুবে আছে। 

তাহিরপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকতার কার্যালয় থেকে জানা যায়, বড় বড় ২৩ টি হাওর নিয়ে গঠিত তাহিরপুর উপজেলার আয়তন প্রায় ৩৩৬.৩৭ বর্গ কিলোমিটার। উপজেলার ২৩০টি গ্রাম ঢেউ আর বন্যার পানিতে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হাওরপাড়ের এক হাজার ঘরবাড়ি ধ্বসে পড়েছে। তাহিরপুর-সুনামগঞ্জ সড়কের তাহিরপুর অংশে ১০ কিলোমিটার সড়ক মারাত্মক ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় ২৫ জুন থেকে উপজেলাটি জেলা শহরের সাথে সড়ক যোগাযোগ সম্পূর্ণভাবে বিচ্ছিন্ন রয়েছে। অভ্যন্তরীণ সড়কের ৩০ কিলোমিটার কাঁচা পাকা সড়ক ভেঙে গেছে। ১৪০টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পানি ঢুকে পড়ায় কম বেশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সকল হাটবাজারে মধ্যে পানি প্রবেশ করেছে। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্ষের অভ্যন্তরে পানি ঢুকেছে। তাই নীচতলার সকল চিকিৎসা কার্যক্রম গত ৪দিন ধরে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের দ্বিতীয় তলা থেকে পরিচালনা করা হচ্ছে। ঘর পানিতে ডুবে যাওয়ায় গোবাদি পশু আর গোখাদ্য (খড়) নিয়ে বিপাকে পড়েছেন হাজারো কৃষক পরিবার। সোহালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় যেকোনো সময় নদীগর্ভে বিলীন হওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে।

সোহালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ব্যবস্থাপনা কমিটির সভাপতি হাবিজ উদ্দিন বলেন, নদীর বেড়িবাঁধ ভেঙে যাওয়া সোহালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়টি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। যেকোনো সময় নদী গর্ভে তলিয়ে যেতে পারে। এতে করে প্রাক-প্রাথমিক থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত পাঠদান চলা বিদ্যালয়ের ৯ শতাধিক ছাত্রছাত্রীর পাঠদান কার্যক্রম হুমকির মুখে পড়েছে।

তাহিরপুর উপজেলা ভাইস চেয়ারম্যান রিয়াজ উদ্দিন খন্দকার লিটন বলেন, বিগত ১৬ বছরে এত পানি দেখিনি। তাছাড়া এবারের বন্যা দীর্ঘস্থায়ী হওয়ায় আর ঢেউয়ের কারণে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ অনেক বেশি।

উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা পদ্মাসিন সিংহ বলেন, বন্যায় ৮০ ভাগ এলাকায় ডুবে সাগরের মতো রূপ ধারণ করেছে। এর মধ্যে জেগে থাকা হাওরপাড়ের গ্রাম, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও রাস্তাঘাট পানি আর ঢেউয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। প্রশাসন উপজেলাবাসীর পাশে থেকে সহায়তা করার চেষ্টা করছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা