kalerkantho

সোমবার  । ১৯ শ্রাবণ ১৪২৭। ৩ আগস্ট  ২০২০। ১২ জিলহজ ১৪৪১

বরিশালে করোনা ও উপসর্গে ২৪ দিনের শিশুসহ ৮ জনের মৃত্যু

বরিশাল অফিস   

১৩ জুলাই, ২০২০ ০৩:১৬ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বরিশালে করোনা ও উপসর্গে ২৪ দিনের শিশুসহ ৮ জনের মৃত্যু

বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিক্যাল কলেজে (শেবাচিম) হাসপাতালে করোনায় আক্রান্ত ২৪ দিনের শিশুসহ ৮ জনের মৃত্যুর হয়েছে। শনিবার (১১ জুলাই) সকাল থেকে গতকাল রবিবার ২৪ ঘণ্টায় মধ্যে তাদের মৃত্যু হয়েছে। মৃতদের মধ্যে শিশুসহ চারজন করোনা আক্রান্ত এবং বাকি চারজন উপসর্গ নিয়ে মারা গেছেন। বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন হাসপাতালের সহকারি পরিচালক ডা. এস এম মনিরুজ্জামান।

শেবাচিম হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, গতকাল রবিবার সকাল ১০টা ১০ মিনিটে নগরীর ২১ নম্বর ওয়ার্ডের বাসিন্দা গোলাম হোসেনের ২৪ দিনের শিশু শিরিন হাসপাতালের করোনা ইউনিটে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যায়। এর আগে সে ৬ জুলাই রাতে সাড়ে ১২টায় তাকে হাসপাতালের হয়েছিল। ভর্তির সময় তার বয়স ছিল ১৭ দিন, ১ জুলাই ওই শিশুর নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট করোনা পজিটিভ আসে।

এছাড়া শনিবার বিকেল ৪টায় বরিশাল নগরীর সাগরদী এলাকার সিদ্দিক আলী (৮০) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। গত ৪ জুলাই বিকেল ৪টা ২০ মিনিটে উপসর্গ নিয়ে করোনা ওয়ার্ডে ভর্তি হয়েছিলেন। ৯ জুলাই তার নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট করোনা পজিটিভ আসে।

একই দিন পটুয়াখালী জেলার খেপুপাড়া এলাকার বাসিন্দা সূর্য্য বানু (৮৬) চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। ৭ জুলাই রাতে হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছিল। ৫ জুলাই নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট করোনা পজিটিভ আসে।

শনিবার রাত ১১টা ৫৫ মিনিটে ঝালকাঠি জেলার নলছিটি উপজেলার বাসিন্দা লুৎফর রহমান (৬৫) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। ২৮ জুন বিকেল হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে ভর্তি হন তিনি। ২৯ জুন নমুনা পরীক্ষার রিপোর্ট তার করোনা পজিটিভ আসে।

গতকাল রবিবার  সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে গৌরনদী উপজেলার বাসিন্দা কদম আলী (৬৫) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। ভোর ৪টার দিকে উপসর্গ নিয়ে তাকে হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে ভর্তি হয়। মৃত্যুর পর তার নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ল্যাবে পাঠানো হয়েছে।

গতকাল সকাল ৭টায় ঝালকাঠি জেলার রাজাপুর উপজেলার সুফিয়া বেগম (৬০) শেবাচিম হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। শনিবার রাতে উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে ভর্তি হন। তার নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ল্যাবে পাঠানো হয়েছে।

শনিবার দিবাগত রাত পৌনে ১টায় শেবাচিম হাসপাতালের আ. গনি হাওলাদার (৭০) শেবাচিম হাসপাতালের আইসিইউতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। ৭ জুলাই সকাল ৯টা ১০ মিনিটে উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে তিনি ভর্তি হন। তার নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ল্যাবে পাঠানো হয়েছে।

একই দিন বিকেলে উজিরপুর উপজেলার পূর্ব সাতলা গ্রামেন সন্তস কুমার রায় (৬৮) হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মৃত্যুবরণ করেন। ১১ জুলাই বিকেল ৩টা ৫ মিনিটে উপসর্গ নিয়ে হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে ভর্তি হন। তার শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য ল্যাবে পাঠানো হয়েছে। 

শেরে বাংলা মেডিক‍্যাল কলেজ হাসপাতালের পরিচালাক ডা. মো. বাকির হোসেন বলেন, শনিবার সকাল থেকে গতকাল বরিবার সকাল পর্যন্ত যে আট ব্যক্তি মারা গেছে তাদের মধ্যে ২৪ দিনের এক শিশুসহ চারজন করোনা পজিটিভ ছিল। বাকী চারজন মারা গেছে উপসর্গ নিয়ে। তাদের নমুনা সংগ্রহ কওে পিসিআর ল্যাবে পাঠানো হয়েছে।

রিপোর্ট পেলে তারা করোনায় আক্রান্ত ছিলেন কিনা সে বিষয়ে নিশ্চিত হওয়া যাবে। এ পর্যন্ত শেবাচিম হাসপাতালে করোনা, আইসোলেশন ও আইসিইউ ইউনিটে ১৩১ জন রোগী মৃত্যুবরণ করেছেন। যার মধ্যে ৫১ জন রোগী করোনায় আক্রান্ত ছিলেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা