kalerkantho

শুক্রবার । ২৩ শ্রাবণ ১৪২৭। ৭ আগস্ট  ২০২০। ১৬ জিলহজ ১৪৪১

লোকসানের শঙ্কায় বাঘার পদ্মার চরের গরু মালিকরা

বাঘা (রাজশাহী) প্রতিনিধি   

১২ জুলাই, ২০২০ ২০:৪৫ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



লোকসানের শঙ্কায় বাঘার পদ্মার চরের গরু মালিকরা

রাজশাহীর বাঘা উপজেলার পদ্মার মধ্যে চকরাজাপুর চরে করোনার কারণে গরু পালনকারীরা এবার লোকসানের আশঙ্কা করছেন। পদ্মার মধ্যে ১৫টি চরের আয়তন ৪৬ কিলোমিটার। জনসংখ্যা রয়েছে সাড়ে ১৫ হাজার। জমির পরিমাণ ৬ হাজার একর। পতিত জমি রয়েছে ১ হাজার ২০০ একর। এই চরে মানুষের বসবাস প্রায় সাড়ে ৩ হাজার। চরে প্রত্যেক পরিবারে সর্বনিম্ন ২টা থেকে ১৫টি পর্যন্ত গরু রয়েছে।

এই গরু তারা রাজশাহী সিটিহাট, রুস্তমপুরহাট, কাকনহাট, তেবাড়িয়াহাট থেকে ক্রয় করে নিয়ে আসেন। তারা একটি গরু ৯-১০ মাস লালন পালন করে কোরবানির হাটে বিক্রির জন্য প্রস্তুত করেন। গরু প্রতি খরচ হয় প্রায় ৩০-৩৫ হাজার টাকা। ফলে গরু উৎপাদন খরচ বাড়লেও করোনা কারণে কমে গেছে দাম। এবার করোনার কারণে লোকসান গুনতে হবে বলে আশঙ্কা গরু পালনকারীদের। তারা আশঙ্কা করছেন প্রতিটি গরু প্রতি লোকসান হবে ২০ থেকে ২৫ হাজার টাকা।

তারা অনেকে এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে গরু ক্রয় করে পালন করেছেন। লোকসান হলে একদিকে ঋণের কিস্তি অন্যদিকে পালনকারীরা পড়বেন বেকায়দায়। তারা নেপালি, অস্ট্রেলিয়ান, ফিজিয়ান, হরিয়ানাসহ নানা জাতের গরু পালন করেন। গরু পালনে লাভজনক হওয়ায় বসতবাড়িতে এগুলো পালন করা তাদের প্রধান কাজ।

পদ্মার মধ্যে কালিদাসখালী চরের গরু পালনকারী আসলাম উদ্দিন বলেন, চরের একেকটি বাড়ি যেন একেকটি খামার। পরিবার প্রধান নারী-পুরুষ মিলে গরুর পরিচর্যা করেন। গরুগুলো পরম যত্নে নিজের সন্তানের মতোই আদর করা হয়। এই গরুগুলো যেন বেঁচে থাকার অনুপ্রেরণা। কোরবানির পশু হাটে নায্যমূল্য নিশ্চিত হলে তারা এবারও লাভবান হবেন। কিন্তু করোনার কারণে এবার লোকসান হবে।

এদিকে সোহেল রানা স্থানীয় এনজিও থেকে ঋণ নিয়ে ২ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা দিয়ে দুটি গরু ক্রয় করে পালন করছেন। যে খরচ হয়েছে, সেটা বাদ দিয়ে গরু বিক্রি করা হলেও তেমন লাভ হবে না। এবার করোনার কারণে গরুর চাহিদা না থাকায় ঋণ পরিশোধ নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন।

আবদুল মান্নান বলেন, গত কোরবানির পর ৮০ হাজার টাকা দিয়ে দুটি বাছুর গরু কেনা হয়। লালন পালনে খরচ গেছে ৩০ হাজার টাকা। বর্তমান বাজারে গরুটির দাম উঠেছে এক লক্ষ ১০ হাজার টাকা। তাই তিনি সরকারিভাবে গরু পালনকারীদের জন্য প্রণোদনা দাবি করেন।

গুলবার আলী ঈদকে সামনে রেখে ৩টি গরু প্রস্তুত করেছেন। খাদ্যসহ উপকরণের দাম বৃদ্ধিতে ব্যয় বেড়েছে। করোনার কারণে এবার ক্রেতাদের কোনো সাড়া মিলছে না। তবে এবার অনেক গরু পালনকারীরা পুঁজি হারিয়ে ফেলবে। গত কোরবানির ঈদে বেপারিরা চরের বাড়ি বাড়ি গিয়ে গরুর দাম করে বায়না করতেন। কিন্তু এবার করোনার কারণে ক্রেতা না আসায় চিন্তায় রয়েছি।

উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. আমিনুল ইসলাম বলেন, করোনার কারণে গরু ক্রেতাদের মধ্যে আগ্রহ কম। তারপর অ্যাপ্সের মাধ্যমে ঈদের দেড়-দুই সপ্তাহ আগে থেকে বেচাকেনা শুরু হবে। আশা করছি কোরবানির পশু কিনবেন ক্রেতারা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা