kalerkantho

শনিবার । ২৪ শ্রাবণ ১৪২৭। ৮ আগস্ট  ২০২০। ১৭ জিলহজ ১৪৪১

ছাতকে পানিবন্দি ২ লাখ মানুষ

ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি   

১২ জুলাই, ২০২০ ১৯:৫৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ছাতকে পানিবন্দি ২ লাখ মানুষ

সুনামগঞ্জের ছাতকে ১০ দিনের মাথায় ফের বন্যায় জনদুর্ভোগ চরম আকার ধারণ করেছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন পৌরসভাসহ উপজেলার ১৩ ইউনিয়নের ২ লক্ষ মানুষ। অনেকেই পরিবার পরিজন নিয়ে বন্যা আশ্রয়কেন্দ্রে উঠেছেন।

আজ রবিবার দিনব্যাপী এসব আশ্রয়কেন্দ্রে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে শুকনো খাবার ও খিচুড়ি বিতরণ করা হয়েছে।

উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. গোলাম কবির ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) তাপশ শীল প্রতিটি আশ্রয় কেন্দ্রে উপস্থিত হয়ে এসব খাবার বিতরণ করেন। এ ছাড়া প্রতিটি ইউনিয়নে কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে বন্যার্তদের খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে। প্রয়োজন অনুযায়ী পৌঁছে দেওয়া হচ্ছে সহায়তা।

এদিকে পূর্বের বন্যার রেশ কমতে না কমতেই দ্বিতীয় দফা বন্যায় প্লাবিত হয়েছে মাঠের পর মাঠ, রাস্তাঘাট, ঘরবাড়ি, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, সরকারি প্রতিষ্ঠান ও হাটবাজার। 

ইতিমধ্যে বন্যায় উপজেলার কয়েক শ একর বীজতলা, রাস্তাঘাট, মৎস্য খামার ও ক্ষেতের ফসল তলিয়ে গেছে। নৌপথে কার্গো ও বাল্কহেড চলাচল বন্ধ থাকায় পাথর-বালু লোড ও আনলোড বন্ধ হয়ে পড়েছে। এতে কয়েক হাজার পাথর ও বালু শ্রমিক বেকার হয়ে পড়েছেন।

পৌরসভাসহ উপজেলার ১৩ টি ইউনিয়নই বন্যার পানিতে প্লাবিত হয়েছে। শহরের অলিতে-গলিতে পানি ঢুকেছে। শহরের বিভিন্ন এলাকায় নৌকা দিয়ে যাতায়াত করছে মানুষ। পৌর এলাকার অনেক বাসাবাড়িতে আবারো বন্যার পানি ঢুকেছে। তলিয়ে গেছে গ্রামাঞ্চলের অনেক ঘরবাড়ি। বন্যার পানিতে তলিয়ে যাওয়া ছাতক-সিলেট সড়কে যান চলাচল বন্ধ হওয়ায় ছাতকের সাথে সারা দেশের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। 

উপজেলা সদরের সাথে ১৩ টি ইউনিয়নের সড়ক যোগাযোগও বিচ্ছিন্ন রয়েছে। উজানে প্রবল বর্ষণ ও পাহাড়ি ঢলের কারণে সুরমা, চেলা ও পিয়াইন নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় এখানে প্রবল বন্যার সৃষ্টি হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ছাতক সুনামগঞ্জে ১৮৬ মি.মি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পানি উন্নয়ন বোর্ড সুনামগঞ্জের নির্বাহী প্রকৌশলী সাবিবুর রহমান। 

পানি উন্নয়ন বোর্ডের তথ্যমতে রবিবার বিকাল পর্যন্ত সুরমা নদীর পানি ছাতক পয়েন্টে বিপদসীমার ১৪৫ সে.মি. উপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। 

ছাতকের প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা কে এম মাহবুব রহমান জানান, বন্যার কারণে এখানে অসহায় হয়ে পড়েছেন হাজার হাজার মানুষ। ইউনিয়নের ক্ষতিগ্রস্তদের বণ্টনের জন্য ৬০ মেট্রিকটন সরকারি চাল বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।

ছাতক উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. গোলাম কবির জানান, দুর্গতদের সহযোগিতায় ছাতক শহরে দুটি ও গোবিন্দগঞ্জ এলাকায় দু'টি আশ্রয় কেন্দ্র খোলা হয়েছে। আশ্র‍য় কেন্দ্রে থাকা লোকজনের সার্বক্ষণিক খবর নেওয়া হচ্ছে। দুর্যোগ মোকাবেলার জন্য বিভিন্ন প্রস্তুতি গ্রহণ করা হয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা