kalerkantho

শুক্রবার । ৩০ শ্রাবণ ১৪২৭। ১৪ আগস্ট ২০২০ । ২৩ জিলহজ ১৪৪১

টাঙ্গাইলের প্রায় সব হোটেল রেস্তোরাঁয় একই চিত্র

রেস্টুরেন্ট ব্যবসায় ধস

অরণ্য ইমতিয়াজ, টাঙ্গাইল   

১১ জুলাই, ২০২০ ১১:৫৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



রেস্টুরেন্ট ব্যবসায় ধস

টাঙ্গাইল শহরের নতুন বাসটার্মিনাল এলাকায় দাওয়াত রেস্টুরেন্ট অ্যান্ড সুইটমিট। করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে প্রায় ক্রেতাশুন্য হয়ে পড়েছে রেস্টুরেন্টটি। ফলে প্রতিদিন তাদের লোকসান গুনতে হচ্ছে। এরকম অবস্থা টাঙ্গাইলের প্রায় সব রেস্টুরেন্টসহ খাবারের দোকানে। বড় ধরণের লোকসানের মধ্যে আছে এসব রেস্টুরেন্টের মালিকরা।

শুক্রবার সন্ধ্যা সোয়া ছয়টার দিকে দাওয়াত রেস্টুরেন্টে দেখা যায়, ভেতরে একজন ক্রেতাও নেই। ক্যাশবক্সে নিরব হয়ে বসে আছেন ম্যানেজার। সামনে চারজন কর্মচারী দাঁড়িয়ে অলস সময় কাটাচ্ছে। রেস্টুরেন্টের মালিক রুমেল খান জানান, অন্য সময়ের চেয়ে করোনাকালে প্রায় ৭০ ভাগ বিক্রি কমে গেছে। সাতজন কর্মকচারী রয়েছে। তাদের বেতন, দোকান ভাড়া, গ্যাস ও বিদ্যুৎ বিলসহ খরচ থেমে নেই। প্রতিদিন লোকসান হচ্ছে। তারপরও রেস্টুরেন্ট বন্ধ রাখা যাচ্ছে না। তাহলে কর্মচারী চলে যাবে। পরবর্তীতে তাদের পাওয়া কঠিন হবে। আর বসিয়ে রেখে দোকান ভাড়া দিতে হবে। তিনি বলেন, সন্ধ্যা এবং তার পরে বেশি বিক্রি হয়। অথচ সরকারি সিদ্ধান্ত মেনে তখন (সন্ধ্যা সাতটা) বন্ধ করতে হয়। আগেতো চারটার মধ্যে বন্ধ করতে হতো। সামাজিক দূরত্ব ও নিরাপত্তা মেনেই রেস্টুরেন্ট চালানো হচ্ছে। যদি নয়টা বা দশটা পর্যন্ত খোলা রাখার অনুমতি দেয়া হতো তাহলে হয়তো লোকসান কমানো যেতো। টাঙ্গাইল শহরের নিরালা রেস্টুরেন্টের ম্যানেজার বেলাল হোসেন জানান, গত চারদিন ধরে মালিককে কোনো লাভ দেয়া যাচ্ছে না। অথচ মাছ বিক্রেতা, সবজি বিক্রেতা, মসলা বিক্রেতাদের টাকা বাকি রাখা হয়েছে। কবে ভালো বিক্রি হবে তখন বাকি পরিশোধ করা হবে।

টাঙ্গাইল শহরের ভিক্টোরিয়া ফুড জোনের মালিক বদরুজ্জামান তালুকদার পরশ জানান, প্রতি মাসে তার বিপুল পরিমাণ লোকসান হচ্ছে। মে মাসে চার লাখ, জুন মাসে আড়াই লাখ টাকা লোকসান হয়েছে। করোনাকালের চার মাসে তার প্রায় ২০ লাখ টাকা লোকসান হয়েছে। তিনি বলেন, বিয়ে, জন্মদিন, পার্টিসহ সব ধরণের অনুষ্ঠান বন্ধ। এভাবে আর কতদিন লোকসান দেয়া যাবে। এক সময় দেখা যাবে ব্যবসাই বন্ধ হয়ে যাবে। বুঝতে পারছি না ভবিষ্যত কি?

টাঙ্গাইল জেলা রেস্তোরা ও মিষ্টি ব্যবসায়ী মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মির্জা মাসুদ রুবল কালের কণ্ঠকে জানান, টাঙ্গাইল জেলায় ছোট-বড় মিলিয়ে প্রায় ৭০০ রেস্তোরা রয়েছে। এসব রেস্তোরায় প্রায় ছয় হাজার কর্মচারী রয়েছে। প্রতিটি দোকানেই কম-বেশি লোকসান হচ্ছে। সীমিত খাবার তৈরি করা হলেও অনেক সময় তা বিক্রি হয় না। করোনার ভয়ে মানুষ রেস্টুরেন্টে খাওয়া কমিয়ে দিয়েছে। তাছাড়া এতোদিন বিকেল চারটার মধ্যে বন্ধ করতে হতো। এখন সন্ধ্যার মধ্যে বন্ধ করতে হয়। কর্মচারীদের বেতন, গ্যাস বিল, বিদ্যুৎ বিল ঠিকই দিতে হচ্ছে। জিনিসের মূল্যও বেড়েছে। অথচ বিক্রি নেই। কর্মচারীদের বাঁচানোর জন্যও রেস্টুরেন্ট খোলা রাখতে হচ্ছে। কিন্তু এ অবস্থা কয়দিন চলবে?

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা