kalerkantho

সোমবার । ২৬ শ্রাবণ ১৪২৭। ১০ আগস্ট ২০২০ । ১৯ জিলহজ ১৪৪১

খুলনা-মোংলা রেললাইন প্রকল্প

কর্মকর্তার দায়ে আটকে আছে ভুক্তভোগীদের ক্ষতিপূরণের টাকা

ফকিরহাট-মোল্লাহাট (বাগেরহাট) প্রতিনিধি   

১০ জুলাই, ২০২০ ২১:৪৭ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



কর্মকর্তার দায়ে আটকে আছে ভুক্তভোগীদের ক্ষতিপূরণের টাকা

'আমরাও বঙ্গবন্ধুর স্বপ্নের সোনার বাংলার স্বপ্ন দেখি। তবে খুলনা-মোংলা রেললাইন স্থাপন প্রকল্পে  বাগেরহাটের ফকিরহাটে ক্ষতিপূরণের টাকা না দিয়ে আমাদের পথে বসিয়ে ঘরবাড়ি, সম্পদ কেড়ে নিয়ে এ কোন সোনার বাংলা বিনির্মাণের কাজ চলছে? কতিপয় কর্মকর্তার দৃশ্যমান দুর্নীতিকে আড়াল করে নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা ছাড়াই চলছে রেললাইন স্থাপনের কাজ'। সরেজমিনে অনুসন্ধানে গেলে এমন অসংখ্য অভিযোগ করেন ভুক্তভোগীরা।

২০১৯ সালের ২০ মে ভূমি মন্ত্রণালয়ের সচিব মাকছুদুর রহমান পাটওয়ারী বাগেরহাট জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের এল এ শাখার সার্ভেয়ার কামাল হোসেনকে খুলনা-মোংলা নির্মাণাধীন রেললাইন প্রকল্পের ভূমি অধিগ্রহণে পরস্পর যোগসাজশে ঘুষ গ্রহণের বিনিময়ে ক্ষতিপূরণ প্রদান, প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত ভূমি মালিকদের ক্ষতিপূরণ না দেওয়া, অধিগ্রহণের আওতাভুক্ত নয় এমন ভূমি এবং ভুয়া ভূমি মালিক সাজিয়ে তাদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া, একই দাগের ভূমির ক্ষতিপূরণ একাধিকবার দেওয়াসহ এই প্রকল্পে অনিয়ম-দুর্নীতির মাধ্যমে অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে সাময়িক বহিষ্কার করেন। যেসব অপরাধে সার্ভেয়ার কামাল বহিষ্কার হয়েছেন, তাঁর কৃতকর্মের ফল এখন ভোগ করছেন অধিগ্রহণে সম্পদহারা অসংখ্য ভুক্তভোগী। আজও পাননি অনেকেই সম্পদের ক্ষতিপূরণের অর্থ।

ভুক্তভোগী মো. মোশারেফ মোড়ল বলেন, ফকিরহাট জাড়িয়া বারুইডাঙ্গা মৌজার বিআরএস ৩২,৩৩, ৩৭,২২২, ২২৩ দাগের আমার জমি অধিগ্রহণ হয়েছে। সার্ভেয়ার কামাল হোসেন আমার জমিতে থাকা সম্পদের ক্ষতিপূরণের অর্ধেক টাকা ঘুষ দাবি করেন। তা না দিলে ৩৩, ৩৭ ও ২২২ দাগের প্রাথমিক তথ্যবিবরণী তৈরি করলেও ফিল্ড বুকে তা উল্লেখ করেননি। ৩২ দাগে যৌথ ফিল্ডবুক তৈরি হয়েছে, তবে ৭ ধারার নোটিশ পাইনি। ২২৩ দাগে থাকা আমার সম্পদের ক্ষতিপূরণের টাকা জমির মালিক না হয়েও সুরতআলী বিশ্বাস, পিতা মৃত সহির উদ্দিন বিশ্বাস সার্ভেয়ার কামাল চক্রের যোগসাজশে তুলে নিয়েছেন। বিষয়টি সংশ্লিষ্ট দপ্তরে লিখিত অভিযোগ করা হলেও অদ্যাবধি কোনো প্রতিকার পাইনি। 

জাড়িয়া মাইটকামাড়া মৌজায় ১১৬৮/বিআরএস ১৬২৯, এসএ ১১৬৫/বিআরএস ১৬৭১, ১১৬৫/বিআরএস ১৬৬৯, দাগে জমিটি ডাঙা শ্রেণিতে রেকর্ড হয়। সে অনুসারে জমির কর-খাজনা দিয়ে আসছেন জমির মালিক ডলি রানী দাশ, আব্দুল সত্তার ও বাশারাত মল্লিক। ক্ষতিপূরণের চূড়ান্ত নোটিশ ৭ ধারায় বাস্তু হিসেবে পেলেও ঘুষের টাকা দিতে না পারায় পরবর্তী সময়ে তাদের নামে বরাদ্দ হয়েছে বিলান শ্রেণির জমির ক্ষতিপূরণের মূল্য। এমন অসংখ্য অভিযোগ রয়েছে সম্পদহারা ভুক্তভোগীদের।

এ ব্যাপারে বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক মামুনুর রশিদ কালের কণ্ঠকে বলেন, যে অর্থ বরাদ্দ হয়েছে তা আপত্তি দিয়ে তুলে নিতে বলা হয়েছে ভুক্তভোগীদের। পরবর্তীতে বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।

তবে বাশারাত মল্লিক ও ডলি রানী দাশ বলেন, ২০১৭ সালে জেলা প্রশাসকের কথা অনুযায়ী আপত্তি দিয়ে আমরা টাকা উত্তোলন করলেও অদ্যাবধি ৭ ধারা নোটিশে উল্লিখিত ক্ষতিপূরণের টাকা প্রদানের জন্য কোনো তদন্ত করা হয়নি। ফলে ক্ষতিপূরণের সম্পূর্ণ অর্থ পাইনি।

অন্যদিকে অব্দুল সত্তার বলেন, আমার জমির ক্ষতিপূরণ এসেছে বাস্তু অনুসারে ৭ ধারা নোটিশে ২৫ লাখ ৩০ হাজার টাকা। আমাকে তারা দিচ্ছে জমির বিলান শ্রেণি অনুসারে ১৪ লাখ টাকা। প্রতিকার চেয়ে সংশ্লিষ্ট দপ্তরে একাধিকবার অভিযোগ করা হয়েছে। সম্পদ হারিয়ে গত তিন বছর ডিসি অফিসের টেবিলে টেবিলে ধরনা দিয়ে কোনো প্রতিকার না পেয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছি।

মো. আকবার আলী শেখ, আব্দুর রহমান, আম্বিয়া বেগম, ফেরদাউস শেখ, বাসেদ সর্দার, স্কুলশিক্ষক নিখিল কুমার ঘোষ, বিদ্যুত কুমার ঘোষ, মো. ইসরাফিল শেখ, মো. আজাহার আলী শেখ, ইব্রাহিম ফকির, মো. মুজিবর রহমান, শহিদা বেগম, মজিদা বেগম, মো. গোলাম রসুলসহ অসংখ্য ভুক্তভোগী দুর্নীতিবাজ কর্মকর্তাদের দাবীকৃত ঘুষের টাকা দিতে না পারায় একাধিকবার সংশ্লিষ্ট দপ্তরে অভিযোগ করেও অদ্যাবধি ক্ষতিপূরণের টাকা পাননি বলে জানান তারা।

ভূমি মন্ত্রণালয়ের সচিব মাকছুদুর রহমান পাটওয়ারী কালের কণ্ঠকে বলেন, দুর্নীতিগ্রস্ত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হলে মন্ত্রণালয় থেকে অবশ্যই ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। আর প্রকৃতপক্ষে যারা ক্ষতিগ্রস্ত তারা ক্ষতিপূরণের অর্থ না পেলে জেলা প্রশাসকের কাছে লিখিত আবেদন করবেন। জেলা প্রশাসক তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা গ্রহণ করবেন। ক্ষতিগ্রস্ত কেউ ক্ষতিপূরণের টাকা পেতে আবেদন না করলে অর্থ সংশ্লিষ্ট ফান্ডে জমা থাকবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা