kalerkantho

শনিবার । ২৪ শ্রাবণ ১৪২৭। ৮ আগস্ট  ২০২০। ১৭ জিলহজ ১৪৪১

কক্সবাজারে থামছে না ইয়াবাপাচার, ৩ লাখ ইয়াবা ও অস্ত্র উদ্ধার

বিশেষ প্রতিনিধি, কক্সবাজার   

১০ জুলাই, ২০২০ ০৪:১৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



কক্সবাজারে থামছে না ইয়াবাপাচার, ৩ লাখ ইয়াবা ও অস্ত্র উদ্ধার

মিয়ানমার থেকে ইয়াবারপাচার করে আনার কাজটিকে রোহিঙ্গারা এখন অত্যন্ত সহজ হিসেবেই বেছে নিয়েছে। প্রায় প্রতিদিনই পাচারকালে ধরা পড়ছে রোহিঙ্গা। আবার কথিত বন্দুকযুদ্ধে রোহিঙ্গারা প্রাণও হারাচ্ছে। সর্বশেষ গতকাল বৃহস্পতিবার ভোরে তিনজন রোহিঙ্গা কথিত বন্দুকযুদ্ধে মারা গেছেন। তার পরেও থামছে না ইয়াবাপাচার।

বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ-বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, সাম্প্রতিক সময়ে মিয়ানমার-বাংলাদেশ সীমান্তের ঘুংধুম-তুমবুরু সীমান্তে ব্যাপক আকার ধারণ করেছে ইয়াবাপাচারের ঘটনা। পাচারের কাজে জড়িতদের শতকরা নব্বই ভাগই রোহিঙ্গা। ইয়াবাপাচারের জন্য রোহিঙ্গারা সন্ধ্যায় সীমান্ত পাড়ি দিয়ে ভোরেই এপারে চলে আসে। আবার ভোরে গেলে সন্ধ্যায়ই ফেরে।

সীমান্তের শূন্যরেখা কোনারপাড়া শিবিরের রোহিঙ্গাদের এ ক্ষেত্রে কাজে লাগায় অন্যান্য শিবিরের সংঘবদ্ধ রোহিঙ্গারা। ঘুংধুম-তুমবুরু সীমান্ত এলাকাটির দুই দেশেরই স্থলভাগ হওয়ায় রোহিঙ্গারা পাহাড়ি পথ বেয়ে অতি সহজেই ইয়াবা পাচার করতে পারে।  কয়েক মাস ধরে পাচারকারীরা এ পথেই সবচেয়ে বেশি ইয়াবা পাচার করেছে বলে বিজিবির পরিসংখ্যানে জানা গেছে।

গতকাল সংঘটিত বন্দুকযুদ্ধের ঘটনা প্রসঙ্গে কক্সবাজারের ৩৪ বিজিবি ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লে. কর্নেল আলী হায়দার আজাদ আহমেদ জানিয়েছেন, মিয়ানমার থেকে ইয়াবার একটি বড় চালান পাচারের সংবাদ পেয়ে তিনি তুমবুরু বিওপির ১০ সদস্যের একটি আভিযানিক টহলদল প্রস্তুত করেন। দলটি উখিয়া উপজেলাধীন রাজাপালং ইউনিয়নের তুলাতলী জলিলের গোদা নামক স্থানে অবস্থান নেয়। ভোরে ১০/১২ জনের একটি দল পাহাড়ি এলাকা দিয়ে বাংলাদেশের দিকে আসতে দেখে তাদের চ্যালেঞ্জ করলে তাদের হাতে থাকা অস্ত্রশস্ত্র দিয়ে টহলদলকে লক্ষ্য করে এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ শুরু করে। 

বিজিবি সদস্যরাও এ সময় তাঁদের জান-মাল রক্ষার্থে পাল্টা গুলি করেন। একপর্যায়ে অজ্ঞাতনামা ইয়াবা ব্যবসায়ীরা পার্শ্ববর্তী পাহাড়ি জঙ্গলের ভেতরে পালিয়ে যায়। টহলদল ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে গুলিবিদ্ধ তিন পাচারকারীকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য উখিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাদের মৃত ঘোষণা করেন। বিজিবি সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে তিন লাখ ইয়াবা, দুটি পাইপগান ও পাঁচ রাউন্ড গুলি উদ্ধার করে। উদ্ধার করা ইয়াবার দাম ৯ কোটি টাকা বলে জানিয়েছে বিজিবি।

নিহত রোহিঙ্গা পাচারকারীরা হচ্ছেন- যথাক্রমে তুমবুরু শূন্যরেখা কোনারপাড়ার রোহিঙ্গা নুর আলম (৪৫), বালুখালী এক নম্বর ক্যাম্পের রোহিঙ্গা মোহাম্মদ হামিদ (২৫) ও কুতুপালং ২ নম্বর ক্যাম্পের রোহিঙ্গা নাজির হোসেন (২৫)। 

প্রসংগত কক্সবাজার ৩৪ বিজিবির সদস্যরা গত ছয় মাসে অভিযান চালিয়ে ১১ লাখ ৪১ হাজার পিস ইয়াবা উদ্ধারসহ ৮৯ জন পাচারকারীকে আটক করেছেন। এ ছাড়া বিজিবির উক্ত ব্যাটালিয়নের সদস্যদের সঙ্গে বন্দুকযুদ্ধে এ সময় ৯ জন ইয়াবা ব্যবসায়ী নিহত হয়েছে।   

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা