kalerkantho

শনিবার । ২৪ শ্রাবণ ১৪২৭। ৮ আগস্ট  ২০২০। ১৭ জিলহজ ১৪৪১

প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে গিয়ে নিজেই ফেঁসে গেলেন যুবক

ছাতক (সুনামগঞ্জ) প্রতিনিধি   

১০ জুলাই, ২০২০ ০৩:৫৮ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে গিয়ে নিজেই ফেঁসে গেলেন যুবক

ছাতকে পূর্ব শত্রুতার জেরে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে গিয়ে নিজেই ফেঁসে গেছেন এক যুবক। নিজেই 'গুম নাটক' সাজিয়ে আত্মগোপনে থাকার ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই পুলিশের জালে ধরা পড়েছেন ছাতকের ভাতগাঁও ইউনিয়নের ঝিগলী (খঞ্চনপুর) গ্রামের আব্দুল মালিক (২৮) নামের এক যুবক।

বৃহস্পতিবার জাহিদপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ দিদার উল্লার নেতৃত্বে একটি ফোর্স থাকে আটক করে। 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে ঝিগলী খঞ্চনপুর গ্রামের আবাব মিয়া পক্ষ ও আবুল হাসনাত, শাবাজ মিয়া, আব্দুল হাসিম ও এজু মিয়ার পক্ষের মধ্যে দীর্ঘদিন ধরে বৈরিতা চলে আসছে। 

গত ১২ জুন দুই পক্ষের মধ্যে রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে গুলিবিদ্ধসহ শতাধিক ব্যক্তি আহত হন। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি মামলা চলছে। এর জের ধরে গত বুধবার রাতে আবুল হাসনাত ও শাবাজ মিয়া পক্ষের আব্দুল মালিক ও আবাব মিয়া পক্ষের সায়মন মিয়ার মধ্যে সংঘর্ষ হয়। এতে সায়মন মিয়া গুরুতর আহত হলে গা-ঢাকা দেন আব্দুল মালিক। 

পরিকল্পনা মতো তাদের পক্ষের নেতাদের নির্দেশে পাশের ঘরে নিজেই আত্মগোপনে থেকে রাতের মধ্যেই তার স্বজনদের পাঠান পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে। তারা অভিযোগ করেন প্রতিপক্ষের লোকজন তাদের ছেলেকে গুম করে নিয়ে গেছে। মৌখিক অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ তদন্তের জন্য ঘটনাস্থলে পৌছলে ঘর থেকে পালিয়ে যায় আব্দুল মালিক। 

এ সময় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আব্দুল মালিকের বাবা ওয়াছির আলী, মা আফতেরা বেগম, মনোয়ারা বেগম, ভাই কয়সর, আব্দুশ শহীদ ও হাসান আহমদকে পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রে নিয়ে আসা হয়। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে একপর্যায়ে তারা স্বীকার করে প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর জন্য পরিকল্পনা মতো নিজেরাই তাদের ছেলেকে গুম করার নাটক সাজিয়ে ছিল। পরে তাদের দেওয়া তথ্যমতে উপজেলার ধারন বাজার এলাকা থেকে আব্দুল মালিককে আটক করা হয়। 
পরবর্তীতে পূর্বের মামলায় গ্রেপ্তার দেখিয়ে তাকে সুনামগঞ্জ জেল হাজতে পাঠানো হয়। 

এ ব্যাপারে জাহিদপুর পুলিশ তদন্ত কেন্দ্রের ইনচার্জ দিদার উল্লা জানান, যদিও পরিবারের লোকজন মৌখিকভাবে আব্দুল মালিককে গুম করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেছিল। তবে লিখিতভাবে সে নিখোঁজ রয়েছে বলে একটি সাধারণ ডায়েরি করে। এর প্রেক্ষিতে তাকে উদ্ধার করা হয়। এবং পূর্বের মামলায় জেল হাজতে পাঠানো হয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা