kalerkantho

শনিবার । ২৪ শ্রাবণ ১৪২৭। ৮ আগস্ট  ২০২০। ১৭ জিলহজ ১৪৪১

ছয় সাংবাদিকের হাত-পা কেটে নেওয়ার হুমকি

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি   

৯ জুলাই, ২০২০ ১৭:০৯ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



ছয় সাংবাদিকের হাত-পা কেটে নেওয়ার হুমকি

সংবাদ প্রকাশসংক্রান্ত ঘটনায় ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ছয় সাংবাদিককে হাত-পা কেটে নেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে। জেলার কসবা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান রাশেদুল কাওছার ভূঁইয়া জীবন ও পশ্চিম ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান ছায়েদুর রহমান মানিকের পক্ষ নিয়ে এ হুমকি দেওয়া হয়। তবে এ বিষয়ে বৃহস্পতিবার কসবা থানায় ছায়েদুর রহমানের করা সাধারণ ডায়েরিতে (জিডি) তিনি উল্লেখ করেছেন, হুমকি দেওয়া আইডিগুলো ফেক। এসব আইডির বিষয়ে তিনি অবগত নন। স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জানিয়ে তিনি এ বিষয়ে সাধারণ ডায়েরি করেছেন।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আর্থিক সহায়তার তালিকায় অনিয়ম নিয়ে কসবার একাধিক জনপ্রতিনিধি ও এডিপির কাজ না করেই বিল উত্তোলনের অভিযোগে বিভিন্ন গণমাধ্যমে সংবাদ পরিবেশিত হয়। এরই জের ধরে 'জীবন ভাইয়ের সৈনিক' 'মানিক চেয়ারম্যানের সৈনিক' নামে দুটি আইডি থেকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ছয়জন সাংবাদিককে হুমকি দেওয়া হয়। ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাবের সদস্যসচিব দীপক চৌধুরী বাপ্পী, আখাউড়া প্রেস ক্লাবের সভাপতি মো. মানিক মিয়া, দেশ রূপান্তরের ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি মো. মনির হোসেন, সময় টিভির ব্যুরো চিফ উজ্জল চক্রবর্তী, এনটিভির নিজস্ব প্রতিবেদক শিহাব উদ্দিন বিপু, কালের কণ্ঠের ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রতিনিধি বিশ্বজিৎ পাল বাবু কসবায় পেলে হাত-পা কেটে রেখে দেওয়া হবে বলে এসব আইডি থেকে উল্লেখ করা হয়। 

ছায়েদুর রহমান ওই জিডিতে উল্লেখ করেন, সজিবুর রহমান নামে একটি আইডি থেকে উপজেলা পরিষদ চেয়াম্যান রাশেদুল কাওছার ভূঁইয়ার নামেও অপপ্রচার চালানো হয়। তাঁর নামের যে আইডি থেকে সাংবাদিকদেরকে হুমকি দেওয়া হয়েছে সে বিষয়ে তিনি অবগত নন বলে জানান।

এদিকে বিষয়টি জানার পরপরই ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মোবাইল ফোনে কসবা উপজেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম আহ্বায়ক রাশেদুল কাওছার ভূঁইয়া জীবনের সঙ্গে কথা বলেন। পাশাপাশি এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থাও নিতে বলেন।

কসবা উপজেলা ছাত্রলীগের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও ঠিকাদার এমদাদুল হক পলাশ বলেন, সাংবাদিকদের সঙ্গে কসবা উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান ও অন্যান্য চেয়ারম্যানের বিরোধ সৃষ্টির জন্য কোনো একটা পক্ষ সুযোগ নিতে এ ধরনের কাজ করেছে। বিষয়টি বুঝতে পেরে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান নিজেই জিডি করার উদ্যোগ নেন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়া প্রেস ক্লাবের সদস্যসচিব দীপক চৌধুরী বাপ্পী বলেন, ফেসবুকে এসব হুমকি-ধমকি কাপুরুষদের কাজ। হুমকি-ধমকির কারণে সত্য সংবাদ প্রকাশ করা থেকে আমরা কেউ পিছপা হব না। প্রেস ক্লাবের সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলে এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার চিন্তা করছি।

প্রেস ক্লাবের মামলা
এদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে ফেসবুকে মানহানিকর ভিডিও প্রচার ও স্ট্যাটাস দেওয়ার অভিযোগে লিটন হোসেন জিহাদ ও তার ছোট ভাই আর জে শাখাওয়াত হোসেনের বিরুদ্ধে সদর থানায় ডিজিটাল নিরাপত্তা আইনে মামলা হয়েছে। গত ৭ জুলাই প্রেস ক্লাবের সদস্যসচিব দীপক চৌধুরী বাপ্পী বাদী হয়ে দায়ের করা মামলায় বলা হয়, ১৬  জুন স্ট্যাটাস ও ১৭ জুন ভিডিও প্রচারের মাধ্যমে সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে অনেক অশ্রাব্য কথা বলা হয়। লিটন হোসেন জিহাদ অনলাইন টেলিভিশন 'পথিক টিভি'র ব্যবস্থাপনা পরিচালক বলে জিডিতে উল্লেখ করা হয়।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা