kalerkantho

শনিবার । ১১ আশ্বিন ১৪২৭ । ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০। ৮ সফর ১৪৪২

স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষিত, গরু বেচাকেনাই মুখ্য

আলমডাঙ্গা (চুয়াডাঙ্গা) প্রতিনিধি   

৯ জুলাই, ২০২০ ১৪:১৬ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



স্বাস্থ্যবিধি উপেক্ষিত, গরু বেচাকেনাই মুখ্য

দুপুর হতে না হতে নদীর স্রোতের মত আলমডাঙ্গা পশুহাটে ক্রেতা বিক্রতারা উপস্থিত হয়েছেন। শরীরের সাথে শরীর লাগিয়ে দাঁড়িয়ে ছিলেন ত্রেতা-বিক্রেতা। গা-ঘেঁষে দাঁড়িয়ে কেউ দরদাম করছেন, কেউ পশু কিনে ট্রাকে তুলছেন। উপস্থিত কয়েক হাজার ক্রেতা বিক্রেতাদের অধিকাংশের ছিল না মাস্ক। সামাজিক দূরত্ব বা স্বাস্থ্যবিধির বালাই নেই পশুহাটে। সরকারি নির্দেশনার তোয়াক্কা না করেই বাজার পরিচালনা করছেন ইজারাদাররা। গতকাল বুধবার আলমডাঙ্গার পশুহাটে এমন দৃশ্য দেখা গেছে। এতে প্রাণঘাতী করোনার সংক্রমণ ভয়াবহ হতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

জানা যায়, চুয়াডাঙ্গা জেলাসহ এ অঞ্চলের সবচেয়ে বড় আলমডাঙ্গা পশুহাট। সারা বছরই এ পশুহাটে ক্রেতা-বিক্রেতার সমাগম থাকে। কিন্তু আসন্ন কোরবানি ঈদ উপলক্ষে এ হাটে বেড়েছে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ক্রেতা-বিক্রেতা। সরেজমিন গিয়ে দেখা গেছে, চুয়াডাঙ্গা, মেহেরপুর, কুষ্টিয়া, ঝিনাইদহসহ বিভিন্ন অঞ্চলের খামারিরা গরু বিক্রি করতে এসেছেন। দেশের বিভিন্ন এলাকা থেকে গরু ক্রয় করতে এসেছেন কয়েক শ ব্যাপারি। তাদের ঘিরে রয়েছেন আরও বহু সংখ্যক দালাল। তাদের বেশিরভাগ ব্যক্তির মুখে মাস্ক নেই। হাটে গরু বিক্রি করতে আসা মুন্সীগঞ্জের আল-আমিন বলেন, মেলা দিন থেকে বাড়িতে আছি। টাকা-কড়ি নাই। আইজ হাটেতে গরু বেচতি আইছি। কিন্তু হাটে এসে মনে হচ্ছে মানুষের কোনো করোনার ভয় নাই। ঠেলাঠেলি কইরে কেনাবেচা চলছে।

গরু কিনতে আসা খয়বার মুন্সি বলেন, সবকিছু স্বাভাবিক সময়ের মতোই চলছে। কেউ তো সামাজিক দূরত্ব মানছে না। এমন কি মুখে মাস্কও ব্যবহার করছে না। ব্যবসায়ীরাও ক্রেতাদের কিছু বলছে না। 

আলমডাঙ্গার কুমারী গ্রামের খামারি রানা মন্ডল জানান, কোরবানির হাটকে কেন্দ্র করে বৃহত্তর কুষ্টিয়া ও ঝিনাইদহ অঞ্চলে সবচেয়ে বেশি গরু পালন করা হয়। করোনার কারণে গত ঈদ এই এলাকার খামারিরা একটা গরুও বিক্রি করতে পারেনি। বর্তমানে করোনার ভয়াবহ অবস্থায় ঢাকা- চট্টগ্রামের হাটে আদৌ গরু নিয়ে যাওয়া যাবে কিনা তা নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। তাই খামারিরা এলাকার হাটে গরু বিক্রি করাকেই অধিক নিরাপদ ভাবছে। সে কারণে হাটে ভিড় বেশি হয়েছে।

আলমডাঙ্গা পশুহাটের ইজারাদার আব্দুল হান্নান বলেন, এ পশুহাটে নিয়মিত ব্যবসায়ীসহ ক্রেতা-বিক্রেতাদের আগেই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে, মুখে মাস্ক পরতে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। তারপরও করোনা সম্পর্কে সচেতন হওয়ার কথা বললেও তারা গুরুত্ব দিচ্ছে না।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা