kalerkantho

শনিবার । ১১ আশ্বিন ১৪২৭ । ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০। ৮ সফর ১৪৪২

করোনায় মারা গেলেন সরিষাবাড়ীর মাদরাসাশিক্ষক

জামালপুর ও সরিষাবাড়ী প্রতিনিধি   

৯ জুলাই, ২০২০ ০৩:১৮ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



করোনায় মারা গেলেন সরিষাবাড়ীর মাদরাসাশিক্ষক

জামালপুরের শেখ হাসিনা মেডিক্যাল কলেজের করোনা আইসোলেশন সেন্টারে চিকিৎসাধীন মো. মহিউদ্দিন (৫৫) নামে এক মাদরাসাশিক্ষকের মৃত্যু হয়েছে। গতকাল বুধবার রাত পৌনে ১০টার দিকে তিনি মারা যান। তিনি জেলার সরিষাবাড়ী পৌরসভার মাইজবাড়ী গ্রামের মৃত কলিম উদ্দিনের ছেলে।

সরিষাবাড়ী পৌরসভার কোনাবাড়ী দাখিল মাদরাসার সহকারী শিক্ষক ছিলেন তিনি। জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ ও সরিষাবাড়ী উপজেলা প্রশাসন মৃত মহিউদ্দিনের মরদেহ স্বাস্থ্যবিধি মেনে দাফনের প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে নিশ্চিত করেছেন জামালপুরের সিভিল সার্জন।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হওয়া ছাড়াও মো. মহিউদ্দিনের ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও তীব্র শ্বাসকষ্ট ছিল। গত ১ জুলাই নমুনা পরীক্ষায় তাঁর করোনা পজিটিভ শনাক্ত হয়। পরের দিন ২ জুলাই তাঁকে শেখ হাসিনা মেডিক্যাল কলেজের করোনা আইসোলেশন সেন্টারে ভর্তি করা হয়েছিল। 

গতকাল বুধবার রাত পৌনে ১০টার দিকে সেখানেই চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান তিনি। এর আগে করোনায় আক্রান্ত হয়ে তার দুই ছেলে কাউছার ও কাফি মিয়াও একই সেন্টারে চিকিৎসাধীন ছিলেন। বুধবার দুই ভাইকে সুস্থতার সনদ দিয়েছে আইসোলেশন সেন্টার কর্তৃপক্ষ।

কিন্তু বাবার শারীরিক অবস্থা সংকটাপন্ন হওয়ায় তাঁরা বৃহস্পতিবার সকালে আইসোলেশন সেন্টার ত্যাগ করতে চেয়েছিলেন। রাতে তাঁদের বাবার মৃত্যুতে দুই ভাই কান্নায় মূর্ছা যান। তাঁরা দুজন রাতেই তাঁদের বাবার মরদেহবাহী অ্যাম্বুল্যান্সে করেই বাড়িতে যান। 

করোনা আইসোলেশন সেন্টারের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ও জামালপুর সদর হাসপাতালের সহকারী পরিচালক ডা. মোহাম্মদ মাহফুজুর রহমান সোহান কালের কণ্ঠকে জানান, মহিউদ্দিনের ডায়াবেটিস, উচ্চ রক্তচাপ ও তীব্র শ্বাসকষ্ট ছিল। বুধবার রাত পৌনে ১০টার দিকে তিনি মারা যান। এর আগে ভর্তি হওয়া তাঁর দুই ছেলে করোনামুক্ত হওয়ায় তাঁদের সুস্থতার সনদ দেওয়া হয়েছে। রাতেই আইসোলেশন সেন্টারের অ্যাম্বুল্যান্সে করে মহিউদ্দিনের মরদেহ তাঁর গ্রামের বাড়ি সরিষাবাড়ী পৌরসভার মাইজবাড়ীতে পাঠানো হয়েছে।

জামালপুরের সিভিল সার্জন ডা. প্রণয় কান্তি দাস কালের কণ্ঠকে বলেন, আইসোলেশন সেন্টারে মৃত মহিউদ্দিনের মরদেহ স্বাস্থ্যবিধি মেনে দাফন করা হবে। এ বিষয়ে সরিষাবাড়ী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা স্থানীয় ইউএনও এবং থানার ওসির সঙ্গে পরামর্শ করে মরদেহ দাফনের ব্যবস্থা করবেন।

সিভিল সার্জন আরো জানান, করোনাভাইরাসে সংক্রমিত হয়ে মারা যাওয়া মহিউদ্দিনসহ এ পর্যন্ত জামালপুর জেলায় মোট ১০ জনের মৃত্যু হলো। তাঁদের মধ্যে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ছয়জন এবং করোনার উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়ার পর নমুনা পরীক্ষায় চারজনের করোনা পজিটিভ আসে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা