kalerkantho

শনিবার । ২৪ শ্রাবণ ১৪২৭। ৮ আগস্ট  ২০২০। ১৭ জিলহজ ১৪৪১

‘বাঁচতাম না, আমার পেট কাইট্যা বংশ বাইর করো!’

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, ময়মনসিংহ   

৮ জুলাই, ২০২০ ১৪:২৮ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



‘বাঁচতাম না, আমার পেট কাইট্যা বংশ বাইর করো!’

চোখের সামনেই অগ্নিদ্বগ্ধ হয়ে মারা গেলেন স্বামী ও সন্তান। পাঁচ মাসের অন্তঃসত্ত্বা অবস্থায় নিজের শরীরের ৯৫ ভাগ পুড়ে গেলেও বাঁচার চেষ্টা করেছিলেন ফাতেমা আক্তার(২৬)। কিন্তু শেষ পর্যন্ত বাঁচতে পারলেন না। হার মানতে হলো মৃত্যুর কাছে।

এর আগে গত মঙ্গলবার বিকেলে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল থেকে ঢাকা শেখ হাসিনা বার্ন ইনস্টিটিউটে পাঠানোর আগে বড় ভাই আবু ছাঈদের কাছে বলেন,‘আমি বাঁচতাম না,আমার পেট কাইট্যা বংশ বাইর করো। না হয় নির্বংশ হয়ে যাবে। ’

রাতেই জানাযা শেষে ফাতেমার লাশ স্বামী ও সন্তানের পাশেই দাফন করা হয়েছে। ফাতেমার কথাই সত্যি হলো। রইলো না বংশ।

এই পরিবারটির বাড়ি ময়মনসিংহের নান্দাইল পৌরসভার চন্ডীপাশা মহল্লায়। গত প্রায় ১২ বছর আগে বিয়ে হয় ওই দম্পত্তির। জন্ম নেয় এক শিশু পুত্রের। পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, শিশু পুত্রকে নিয়ে কাশেম ও ফাতেমা আশুলিয়া থানার আশুলিয়া ইউনিয়নের দুর্গাপুর চালা গ্রামের শহীদ হাজির (বাড়টি হাজী বাড়ি নামে পরিচিত) বাড়িতে ভাড়া থাকতেন। ওই দম্পতি আশুলিয়া এলাকার আলাদা দুটি পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন। ফাতেমা পাঁচ মাসের সন্তান সম্ভবা ছিলেন।

ফাতেমার ভাই আবু ছাইদ জানান, মৃত্যুর আগে কাশেম ও অগ্নিগদ্ধ ফাতেমা তাঁকে বলেছেন, ওই বাড়িতে গ্যাসের সংযোগ থাকলেও সেটি বৈধ ছিল না। তাই ফাতেমা দম্পতি এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবহার করতেন। সম্প্রতি বাসার অবৈধ গ্যাস সংযোগ দিয়ে গ্যাস আসতে থাকে। ফাতেমা ওই গ্যাস দিয়ে রান্নার কাজ চালাতেন। কিন্তু গত তিন-চারদিন যাবৎ গন্ধ ছড়ালে ফাতেমা বুঝতে পারেন গ্যাস লাইন দিয়ে গ্যাস লিকেজ হচ্ছে। বিষয়টি তিনি বাড়ির তত্ত্বাবধায়ককে (নাম বলতে পারেননি) জানান। পরে ওই তত্ত্বাবধায়ক এসে মিস্ত্রি দিয়ে লাইন মেরামত না করে নিজেই সাবান লাগিয়ে গ্যাসের লিকেজ বন্ধ করে দিয়ে যান। 

এই অবস্থায় গত সোমবার ভোরে ফাতেমা রান্নার আয়োজন করেন। তখন তাঁর স্বামী ও সন্তান গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। যাবতীয় আয়োজন শেষ করে ফাতেমা বেগম দিয়াশলাই কাঠি জ্বালানোমাত্রই বিকট শব্দ করে পুরো কক্ষে আগুন ধরে যায়। ঘটনাস্থলেই শিশু আলআমীন মারা যায়। বিকট শব্দ পেয়ে স্থানীয়রা এসে অগ্নিদগ্ধ আবুল কাশেম ও ফাতেমাকে সাভারের এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। 

হাসপাতালে নেওয়ার পথে কাশেমের মৃত্যু হয়। ফাতেমাকে এনাম মেডিকেলে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হয়। কিন্তু পরিবারের পক্ষে অর্থ যোগান দেওয়া সম্ভব না হওয়ায় স্বজনরা তাঁকে গত মঙ্গলবার রাতে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন ইউনিটে এনে ভর্তি করে। সেখান থেকে ফাতেমাকে শেখ হাসিনা বার্ন ইনস্টিউটে স্থানান্তরের জন্য বলা হয়েছিল। পরে বিকেলে মারা যান ফাতেমা। 

তিনজনকেই হারিয়ে ফাতেমা ও কাশেমের পরিবার দিশেহারা। পুরো এলাকা শোকে আচ্ছন্ন। কেউই এই মৃত্যুকে মেনে নিতে পারছে না। তারা ওই বাড়ির মালিকের দৃষ্টান্তমূলক বিচার দাবি করছেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা