kalerkantho

শুক্রবার । ২৩ শ্রাবণ ১৪২৭। ৭ আগস্ট  ২০২০। ১৬ জিলহজ ১৪৪১

অগ্নিদগ্ধে স্বামী-সন্তানের প্রাণহানি, মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, ময়মনসিংহ   

৭ জুলাই, ২০২০ ২০:৪৩ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



অগ্নিদগ্ধে স্বামী-সন্তানের প্রাণহানি, মৃত্যুর সঙ্গে লড়ছেন অন্তঃসত্ত্বা স্ত্রী

স্ত্রী সন্তান নিয়ে ঢাকার আশুলিয়ার দুর্গাপুর গ্রামের ভাড়া বাড়িতে বসবাস করতেন গার্মেন্ট শ্রমিক দম্পত্তি ফাতেমা (২৫) ও কাশেম (২৮)। তাঁদের বাড়ি ময়মনসিংহের নান্দাইল পৌরসভার চন্ডীপাশা এলাকায়। গতকাল সোমবার ভোরে নিজ বসত ঘরের একটি কক্ষে পূর্ব থেকে লিকেজ হওয়া অবৈধ গ্যাস লাইনে আগুন ধরে সন্তানসহ ওই দম্পতি অগ্নিদগ্ধ হয়। এ সময় ঘটনাস্থলেই মারা যায় শিশু আল-আমীন (১০)। পরে গুরুতর অবস্থায় স্বামী-স্ত্রীকে পাশের এনাম মেডিক্যাল কলেজে হাসপাতালে নেওয়ার পথে মারা যায় আবুল কাশেম। কোনো মতে বেঁচে থাকলেও স্ত্রী ফাতেমাকে ভর্তি করা হয় হাসপাতালে। সেখানে চিকিৎসার ব্যয়ভার মিটাতে না পেরে রাতেই পরিবারের লোকজন বাড়ির কাছেই ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসেন। এখানেও অবস্থার পরিবর্তন না হওয়ায় কর্তব্যরত চিকিৎসক ঢাকার শেখ হাসিনা বার্ন ইনস্টিউট হাসপাতালে স্থানান্তর করেন।

অন্যদিকে এতোবড় একটি দুর্ঘটনা ঘটলেও বাড়ির মালিক কোনো ধরণের খোঁজ খবর না নিয়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে উঠেপড়ে লেগেছে। সেই সাথে মোবাইল ফোনে নিহত ফাতেমার ভাইকে হুমকি দিচ্ছে ঘটনাটি নিয়ে বাড়াবাড়ি না করে পরবর্তী সিদ্ধান্তের জন্য অপেক্ষা করতে। এতে লস হবে না লাভই হবে বলে আশ্বস্থ করেন। এসব ঘটনা জানিয়েছেন নিহতের পরিবারের একজন আবু ছাইদ।

নিহতরা হচ্ছেন, নান্দাইলের চন্ডীপাশা গ্রামের মৃত আবদুর রাশিদের ছেলে আবুল কাশেম (২৮) ও তাঁর ছেলে আল আমীন (১০)। নিহতের পরিবার এ ঘটনাটি বাড়ির মালিকের অবহেলার কারণে ঘটেছে বলে অভিযোগ করে ঘটনা তদন্ত ও দায়ীদের বিচারের দাবি করেছেন।

আজ মঙ্গলবার সকাল ১০টার দিকে নিহতের বাড়িতে গেলে পরিবারের সদস্যরা কান্নায় ভেঙে পড়েন। ফাতেমার মা হালিমা বেগম বলেন, আমার বংশ নিব্বংশ হয়ে গেল। মেয়ের পেডো তো আরেকজন আছিন। হেইডার কি অইবো। আমি অহন কিতা করবাম।

পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, কাশেম ও ফাতেমা আশুলিয়া থানার আশুলিয়া ইউনিয়নের দুর্গাপুর চালা গ্রামের শহীদ হাজির (বাড়টি হাজী বাড়ি নামে পরিচিত) বাড়িতে ভাড়া থাকত। ওই দম্পতি আশুলিয়া এলাকার আলাদা দুটি পোশাক কারখানায় চাকরি করতেন। ফাতেমা বর্তমানে চার মাসের সন্তানসম্ভবা।

ফাতেমার ভাই আবু ছাইদ জানান, মৃত্যুর আগে কাশেম ও অগ্নিদগ্ধ ফাতেমা তাঁকে বলেছেন, ওই বাড়িতে গ্যাসের সংযোগ থাকলেও সেটি বৈধ ছিল না। তাই ফাতেমা দম্পতি এলপিজি সিলিন্ডার ব্যবহার করতেন। সম্প্রতি বাসার অবৈধ গ্যাস সংযোগ দিয়ে গ্যাস আসতে থাকে। ফাতেমা ওই গ্যাস দিলে রান্নার কাজ চালাতেন। কিন্তু গত তিন-চারদিন যাবৎ গন্ধ ছাড়ালে ফাতেমা বুঝতে পারেন গ্যাস লাইন দিয়ে গ্যাস লিকেজ হচ্ছে। বিষয়টি তিনি বাড়ির তত্ত্বাবধায়ককে (নাম বলতে পারেননি)। পরে ওই তত্ত্বাবধায়ক এসে মিস্ত্রি দিয়ে লাইন মেরামত না করে নিজেই সাবান লাগিয়ে গ্যাসের লিকেজ বন্ধ করে দিয়ে যান।
 
গতকাল সোমবার ভোরে ফাতেমা রান্নার আয়োজন করেন। তখন তাঁর স্বামী ও সন্তান গভীর ঘুমে আচ্ছন্ন। যাবতীয় আয়োজন শেষ করে ফাতেমা বেগম দিয়াশলাই কাঠি জ্বালানো মাত্রই বিকট শব্দ করে পুরো কক্ষে আগুন ধরে যায়। ঘটনাস্থালেই শিশু আল আমীন মারা যান। বিকট শব্দ পেয়ে স্থানীয়রা এসে অগ্নিদগ্ধ আবুল কাশেম ও ফাতেমাকে সাভারের এনাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যায়। হাসপাতালে নেওয়ার পথে কাশেমের মৃত্যু হয়। বর্তমানে ফাতেমা শেখ হাসিনা বার্ন ইউনিটে ভর্তি আছেন।

আজ দুপরে যোগাযোগ করা হলে ফাতেমার ভাই আবু ছাইদ জানান, হাসপাতাল থেকে ফাতেমাকে শেখ হাসিনা বার্ন ইউনিটে স্থানান্তরের জন্য বলা হয়েছে। তাঁরা এখন ফাতেমাকে সেখানে নেওয়ার চেষ্টা করছেন। চিকিৎসকরা জানিয়েছে তাঁর শরীরের প্রায় ৯৫ ভাগ পুড়ে গেছে।

বাড়ির মালিক ও তত্ত্বাবধায়কের সাথে যোগাযোগ করা সম্ভব হয়নি। তবে বাড়ির মালিকের এক আত্মীয় পরিচয় দিয়ে জসিম নামে একজন জানান, এখন আর কি করা। এদেরকে তো ৩০ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। তবে টাকার বিষয়ে কিছুই জানে না ফাতেমার পরিবারের লোকজন। 

এ ব্যাপারে আশুলিয়া থানার ওসি মো. রেজাউল হক বলেন, আমি তো করোনায় আক্রান্ত থেকে সদ্য যোগদান করেছে। তবে ঘটনা শুনেছি দুইজন মারা গেছে। এ ঘটনায় পুলিশের পক্ষ থেকে একটি সাধারণ ডায়েরি করা হয়েছে। পুলিশ ঘটনাটি তদন্ত করে দেখছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা