kalerkantho

শুক্রবার । ৩০ শ্রাবণ ১৪২৭। ১৪ আগস্ট ২০২০ । ২৩ জিলহজ ১৪৪১

বন বাগান ন্যাড়া করে সবজি চাষ

শ্রীবরদী (শেরপুর) প্রতিনিধি   

৭ জুলাই, ২০২০ ১৮:০০ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



বন বাগান ন্যাড়া করে সবজি চাষ

শেরপুরের শ্রীবরদী ও ঝিনাইগাতীর গারো পাহাড়ের টিলায় বন বাগান ন্যাড়া করে সবজি চাষ করা হচ্ছে। এতে ক্ষয় হচ্ছে পাহাড়ের মাটি। হারাচ্ছে ওষধি বৃক্ষ, জীব বৈচিত্র ও সৌন্দর্য্য। রাজস্ব হারাচ্ছে সরকার। কৃষকদের কাছ থেকে বন বিভাগের নামে একটি দালাল চক্র মোটা অংকের টাকা আদায় করছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

জানা যায়, শ্রীবরদী ও ঝিনাইগাতী উপজেলার সীমান্তে বালিজুরি ও রাংটিয়া রেঞ্জের অধীনে লাউচাপড়া, কর্ণঝোড়া, মালাকোচা, বালিজুরি সদর, তাওয়াকোচা ও গজনী বিট অফিস। এখানে শতশত পাহাড়ি টিলা। যার পরিমাণ হবে সহস্রাধিক একর জমি। ওইসব টিলায় ছিল বন বাগান আর ওষধি বৃক্ষসহ জীব বৈচিত্র। এবার টিলার বন বাগান ন্যাড়া করে সবজি চাষ করছেন স্থানীয়রা। সূত্র জানায়, স্থানীয়ভাবে দালাল চক্র বন বিভাগের নামে কৃষকদের কাছ থেকে আদায় করছে মোটা অংকের টাকা।

কর্ণঝোড়া বিটের ঐতিহ্যবাহী রাজার পাহাড়। এটি বিশাল টিলা ভূমি। এর ওপর ছিল শতশত একর জমির বন বাগান। প্রতিদিন এ পাহাড় দেখতে আসতো অনেকে। এখন বৃক্ষ নিধণ করে সবজি চাষ করা হয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দা ইব্রাহিম, ফারুক, আমিনুলসহ অনেকে জানান, কয়েকজন দালাল বন বিভাগের নামে সবজি চাষিদের কাছ থেকে মোটা অংকের টাকা নিচ্ছে। এসব টাকার বিনিময়ে সবজি চাষিরা এখানে করলা, ঝিঙা, কদু, পুটল ও লাউসহ বিভিন্ন জাতের সবজি চাষ করছে জানান কয়েকজন সবজি চাষি। তাঁরা বলেন, টাকা না দিলে পাহাড়ি জমিতে সবচি চাষ করতে দিবে না। তাদের মতে, প্রতি কাঠা জমিতে সবজি চাষে ৪ হতে ৫০০ টাকা দিতে হয়। 

খিষ্ট্রানপাড়া গ্রামের আদিবাসী নেতা ব্রতীন মারাক বলেন, পাহাড়ের নিচে আবাদি জমি। টিলায় সবজি চাষ করায় বৃষ্টির পানিতে মাটি খসেপড়ে ফসল নষ্ট হচ্ছে। ওষধি বৃক্ষ ও জীববৈচিত্র হারাচ্ছে। পাহাড় সমতল হচ্ছে। টিলার নিচের ফসলি জমিতে মাটি পড়ে অনাবাদী হচ্ছে। 

বালিজুরি বিট অফিসার রবিউল ইসলাম বলেন, আমরা প্রতিবাদ করি। কিন্তু মানছে না।

তবে টাকা লেনদেনের বিষয়টি অস্বীকার করে বালিজুরি রেঞ্জ অফিসার আব্দুল্লাহ আল মামুন বলেন, সবজি চাষ বন্ধের জন্যে কর্তৃপক্ষকে অবগত করেছি। নির্দেশ পেলেই প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেব।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা