kalerkantho

শনিবার । ২৪ শ্রাবণ ১৪২৭। ৮ আগস্ট  ২০২০। ১৭ জিলহজ ১৪৪১

পাকুন্দিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

আট বছর ধরে তালাবদ্ধ অস্ত্রোপচার ও এক্স-রে কক্ষ

পাকুন্দিয়া (কিশোরগঞ্জ) প্রতিনিধি    

৭ জুলাই, ২০২০ ১৭:৩৬ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আট বছর ধরে তালাবদ্ধ অস্ত্রোপচার ও এক্স-রে কক্ষ

উদ্বোধনের প্রায় আট বছর পার হলেও অপারেশন কার্যক্রম চালু হয়নি কিশোরগঞ্জের পাকুন্দিয়া উপজেলার ৫০ শয্যা হাসপাতালে। আধুনিক মানের একটি অস্ত্রোপচার কক্ষ থাকলেও প্রয়োজনীয় চিকিৎসক না থাকায় অপারেশন থিয়েটার (ওটি) চালু করা যাচ্ছে না বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। তাই অপারেশন থিয়েটারের মূল্যবান যন্ত্রপাতি প্রায় আট বছর ধরে বাক্সবন্দি অবস্থায় তালাবদ্ধ কক্ষে পড়ে আছে। এ ছাড়া গুরুত্বপূর্ণ এক্স-রে মেশিনটিও বিকল হয়ে পড়ায় ৯ বছর ধরে তালাবদ্ধ কক্ষে পড়ে আছে। এর ফলে সরকারি এ হাসপাতালটিতে গর্ভবতী মায়েদের সিজারসহ রোগিরা বঞ্চিত হচ্ছে সার্জারী ও এক্স-রে সেবা থেকে।

পাকুন্দিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্রে জানা যায়, পাকুন্দিয়া উপজেলা হাসপাতালটি ২০১২ সালের আগষ্ট মাসে ৩১ শয্যা থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হয়। স্বাস্থ্য সেবা পেতে উপজেলার চার লাখ মানুষের একমাত্র ভরসাস্থল এ হাসপাতালটি। প্রতিদিন গড়ে চার শতাধিক রোগী সেবা নিতে এখানে আসে। হাসপাতালটি অবকাঠামোগত উন্নয়ন হলেও অ্যানেসথেসিয়া ও সার্জারী জুনিয়র কনসালটেন্ট না থাকায় প্রায় আট বছর তা তালাবদ্ধ রয়েছে। টেকনেশিয়ান থাকলেও ২০১১ সালের জুন মাস থেকে গুরুত্বপূর্ণ এক্স-রে মেশিনটিও যান্ত্রিক ত্রুটির কারণে ৯ বছর বিকল হয়ে পড়ে আছে। হাসপাতালটি ৫০ শয্যায় উন্নীত হওয়ার পর থেকে আজ পর্যন্ত কোন গরীব রোগী এখানে সিজারিয়ান অপারেশন ও এক্স-রে করতে পারেনি। বিদ্যুতের বিকল্প ব্যবস্থা না থাকায় রোগীরা অন্য সেবা থেকেও বঞ্চিত হচ্ছে। 

পাকুন্দিয়া উপজেলা স্বাস্থ্যসেবা কমিটির সদস্য সুখিয়া ইউপি চেয়ারম্যান মো. আবদুল হামিদ টিটু জানান, চিকিৎসক সংকটের পাশাপাশি এক্সরে মেশিন বিকল ও অস্ত্রোপচার কক্ষ বন্ধ আছে। ফলে দরিদ্র রোগীরা বিভিন্ন প্রাইভেট ক্লিনিক ও ডায়গনস্টিক সেন্টারে অতিরিক্ত টাকা দিয়ে চিকিৎসা নিতে বাধ্য হচ্ছে। 

পাকুন্দিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. জমির মো. হাসিবুস ছাত্তার ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, এলাকার গুরুত্বপূর্ণ সরকারি এ হাসপাতালে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকসহ নানা সংকট লেগেই আছে। সমাধানে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অনেকবার অবহিত করা হয়েছে। কিন্তু তাতে কোন কাজ হচ্ছে না। 

এ ব্যাপারে কিশোরগঞ্জ জেলা সিভিল সার্জন ডা. মো. মজিবুর রহমান বলেন, কিশোরগঞ্জের ২৫০ শয্যা বিশিষ্ট হাসপাতাল ও সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে সিজারিয়ান অপারেশনের কার্যক্রম চালু আছে। সেখানেই উপজেলা থেকে বিভিন্ন রোগীরা সিজারিয়ান অপারেশন করাতে পারছেন। করোনাকালীন এই সময়ে উপজেলা পর্যায়ে সিজারিয়ান অপারেশনের কার্যক্রম চালু করা সম্ভব হবে না বলে তিনি মনে করেন। তবে অচিরেই যাতে নতুন একটি এক্স-রে মেশিন এ হাসপাতালে আনা যায় এ ব্যাপারে তিনি চেষ্টা করবেন বলে আশ্বাস দেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা