kalerkantho

সোমবার  । ১৯ শ্রাবণ ১৪২৭। ৩ আগস্ট  ২০২০। ১২ জিলহজ ১৪৪১

মনোহরগঞ্জে করোনা উপসর্গে মৃত্যু

এগিয়ে আসেনি কেউ, লাশ দাফন করলেন একদল স্বেচ্ছাসেবী

লাকসাম (কুমিল্লা) প্রতিনিধি   

৬ জুলাই, ২০২০ ০৪:৩৬ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



এগিয়ে আসেনি কেউ, লাশ দাফন করলেন একদল স্বেচ্ছাসেবী

কুমিল্লার মনোহরগঞ্জে করোনা উপসর্গ নিয়ে মারা যাওয়া এক ব্যক্তির মরদেহ দাফন কাজে এলাকার কেউ এগিয়ে আসেনি। এমন অমানবিক আচরণের সংবাদ পেয়ে উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. জাকির হোসেনের অনুরোধে অবশেষে ১৫ ঘণ্টা পর ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের একদল স্বেচ্ছাসেবী ওই ব্যক্তির দাফন সম্পন্ন করেন। ঘটনাটি ঘটেছে গতকাল রবিবার উপজেলার বিপুলাসার ইউনিয়নের জাওড়া গ্রামে।

নিহতের পরিবার ও স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, ওই গ্রামের ভূঁইয়াবাডির মো. জাহিদুল ইসলাম ভূঁইয়া (৫৫) সপ্তাহখানেক ধরে জ্বর, সর্দি, কাশিসহ করোনা উপসর্গে ভুগছিলেন। তিনি চিকিৎসকের পরামর্শে নিয়মিত ওষুধ সেবন করেন। একপর্যায়ে শনিবার (৫ জুলাই) রাতে তিনি নিজ বাড়িতে মারা যান।

এদিকে করোনা উপসর্গে মারা যাওয়ায় সংক্রমণের ভয়ে ওই এলাকার কেউ তাঁর মরদেহের গোসল ও দাফনে এগিয়ে আসেনি। প্রায় ১৫ ঘণ্টা বাড়িতে লাশ পড়ে থাকে। 

মনোহরগঞ্জ উপজেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মো. জাকির হোসেন রবিবার সকালে এমন অমানবিক সংবাদ পেয়ে তাৎক্ষণিক ওই ব্যক্তির লাশ দাফনে সহযোগিতার জন্য অনুরোধ জানিয়ে চরমোনাই পীরের অনুসারী ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ’র স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবীদের ফোন করেন। পরে তারা এসে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা অনুসারে ইসলামী শরীয়া বিধি মোতাবেক ওই ব্যক্তির মরদেহ দাফন সম্পন্ন করেন।

উপজেলা চেয়ারম্যান মো. জাকির হোসেন করোনা আক্রান্ত কোনো রোগী অথবা মৃত ব্যক্তির সঙ্গে কোনো রকম অমানবিক আচরণ না করার অনুরোধ করেন।

তিনি বলেন, করোনা আক্রান্তরা আমাদের কারো না কারো স্বজন। তাই করোনা আক্রান্তদের সঙ্গে সহনশীল আচরণের মাধ্যমে সব ধরনের সহযোগিতার জন্য সবার প্রতি আহবান জানান।

কুমিল্লা জেলা করোনা সংক্রমণ প্রতিরোধ সমন্বয়ক এবং মনোহরগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নিসর্গ মেরাজ চৌধুরী করোনা উপসর্গে জাহিদুল ইসলাম ভূঁইয়ার মৃত্যুর বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি জানান, ওই পরিবারের কারো শরীরে উপসর্গ দেখা দিলে নমুনা সংগ্রহ করা হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা