kalerkantho

শনিবার । ২৪ শ্রাবণ ১৪২৭। ৮ আগস্ট  ২০২০। ১৭ জিলহজ ১৪৪১

বাদী আসামি করেনি তবুও এজাহারভুক্ত হয়ে যুবক গ্রেপ্তার!

সৌমিত্র চক্রবর্তী, সীতাকুণ্ড (চট্টগ্রাম)    

৬ জুলাই, ২০২০ ০৩:৪৮ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



বাদী আসামি করেনি তবুও এজাহারভুক্ত হয়ে যুবক গ্রেপ্তার!

বাদী আসামি না করলেও দ্রুত বিচার আইনে দায়েরকৃত এক মামলার এজাহারভুক্ত হয়ে গ্রেপ্তারও হয়ে গেল জনি নামক এক নিরপরাধ যুবক! পেশায় সে একজন কাঠমিস্ত্রি। এ নিয়ে বাদী ও পুলিশের পরস্পর বিরোধী বক্তব্য পাওয়া গেছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা যায়, উপজেলার সীতাকুণ্ডের বড় কুমিরা সোনারপাড়া গ্রামের মো. আবুল কালাম প্রঃ আবু (৪৮) থানায় একটি মামলা দায়ের করতে আসেন। শনিবার রাতে কুমিরায় ট্রাকচালকদের কাছ থেকে চার অস্ত্রধারী যুবক চাঁদা আদায় করছিল মর্মে অভিযোগ করে চারজন আসামির নাম উল্লেখ করেন।

এরা হলেন- কুমিরা সোনারপাড়া গ্রামের মৃত মহরম আলীর ছেলে তাজ মোহাম্মদ (৫০), একই ইউনিয়নের হিঙ্গুরীপাড়া গ্রামের নাছিরের ছেলে মো. জাহাঙ্গীর (৩৫), সোনারপাড়া গ্রামের মৃত আলী আকবরের ছেলে মো. রফিক প্রকাশ কালো রফিক (৫০) ও মৃত সালাউদ্দিনের ছেলে মো. সোহেল (৩৫)। 

এদিকে বাদী এই চারজনের নাম দিলেও রবিবার রেকর্ড হওয়া মামলার এজাহার প্রস্তুত হলে তাতে পাঁচজনের নাম উল্লেখ করে পুলিশ। বাদীর দেওয়া চারজনের সঙ্গে অদৃশ্য শক্তির ইশারায় যোগ হয়ে যায় সীতাকুণ্ড পৌরসভার ১নং ওয়ার্ডের উত্তর ইয়াকুবনগর গ্রামের দিদারুল আলমের ছেলে নবীউদ্দিন জনি প্রকাশ জনির (৩২) নাম! 

শুধু তাই নয়, রবিবার বিকালে মামলার তদন্তকারী অফিসার সীতাকুণ্ড থানার এস আই সাইফুল আলম তাকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে আসে। গ্রেপ্তারকৃত জনি একজন কাঠমিস্ত্রি। আটকের পর সে থানায় এ প্রতিবেদককে ঘটনা খুলে বলে হাউমাউ করে কেঁদে ফেলেন।

তিনি বলেন, এলাকায় কয়েকজন লোকের সঙ্গে আমার শত্রুতা আছে। তারা অতীতেও আমার বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দিয়েছিল। কিন্তু পুলিশ সেসব মামলার সত্যতা পায়নি। আমি আবারো এরকমভাবে আমার শত্রুদের অদৃশ্য শক্তির প্রভাবে মামলায় আসামি হয়েছি বলে ধারণা করছি। তিনি বলেন, আমার ইচ্ছে করছে আত্নহত্যা করে বার বার মিথ্যা মামলা থেকে নিজেও বাঁচি, পরিবারকেও বাঁচাই। 

এদিকে তিনি আসামি না করলেও এজাহারে ৫নং আসামি হিসেবে নবীউদ্দিন জনির নাম অন্তর্ভুক্ত ও তার গ্রেপ্তারের খবরে বিস্মিত হন মামলার বাদী আবুল কালাম আবু। তিনি এ প্রতিবেদককে বলেন, আমার মামলার সকল আসামির বাড়ি কুমিরায়।

সীতাকুণ্ড পৌরসভার কেউ এ ঘটনার সঙ্গে সম্পৃক্ত না। ট্রাক থেকে চাঁদাবাজি কালে আমি চারজনকে নিজের চোখে দেখেছি। তাদের মধ্যে দুজনকে আটকও করেছি। তাই আমি সুনির্দিষ্ট চার আসামির নাম দিয়েছি পুলিশকে। কিন্তু এজাহারে কিভাবে নবী উদ্দিন জনির নাম এসেছে তা আমি বুঝতে পারছি না। 

এ ঘটনার সঙ্গে গ্রেপ্তারকৃত জনির কোনো সম্পর্ক নেই। আমি চাই না আমার মামলায় নির্দোষ কেউ কষ্ট পাক। তাই আমি জনির গ্রেপ্তারের কথা শুনে রাতেই থানায় এসে পুলিশকে জানিয়েছি যে নবী উদ্দিন জনিকে আমি চিনি না, তাকে আমি আসামি করিনি। তাকে যেন ছেড়ে দেওয়া হয়।

এদিকে বাদী জনিকে আসামি না করলেও পুলিশ বাদীর ওপরে দায় চাপিয়েই কর্তব্য শেষ করেছে। এ বিষয়ে মামলার তদন্তকারী অফিসার এস আই সাইফুল আলম বলেন, আমি এজাহারে জনির নাম দেখে তাকে গ্রেপ্তার করেছি। তবে পরে শুনছি সে নিরপরাধ। এখন ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষই যা করার করবেন। 

সীতাকুণ্ড থানার ওসি (তদন্ত) সুমন বণিক বলেন, বাদী নাম না দিলে তো তার নাম এজাহারে আসার কথা না। মামলা রেকর্ড হয়ে যাবার পর আবার বাদী জনির নাম দেওয়ার কথা অস্বীকার করছেন। এখন তিনি যদি আদালতে গিয়ে বলেন, যে নবী উদ্দিন জনি আসামি নয় তবে বিজ্ঞ আদালত বিষয়টি বিবেচনা করবেন। 

সীতাকুণ্ড থানার ওসি মো. ফিরোজ হোসেন মোল্লা বলেন, বাদী থানায় এসে বলছেন, নবীউদ্দিন জনি আসামি নয়। কিন্তু মামলা রেকর্ডের পর আমরা গ্রেপ্তারকৃত কাউকে ছাড়তে পারি না। এখন বাদী আদালতে গিয়ে একথা বললেই নিরপরাধ জনির বিষয়ে আদালত সিদ্ধান্ত দেবেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা