kalerkantho

সোমবার  । ১৯ শ্রাবণ ১৪২৭। ৩ আগস্ট  ২০২০। ১২ জিলহজ ১৪৪১

বড়দের বিবাদের বলি হলো শিশু আনিতা, কুপিয়ে হত্যা

কিশোরগঞ্জ প্রতিনিধি   

৫ জুলাই, ২০২০ ১৭:৫৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



বড়দের বিবাদের বলি হলো শিশু আনিতা, কুপিয়ে হত্যা

বড়দের বিবাদের বলি হলো পাঁচ বছরের শিশু নূরে আনিতা আজাদ। এ ঘটনায় ১০ বছর বয়সী নাইমা সুলতানা মিথিলা নামে আরেক শিশু গুরুতর জখম হয়।

কিশোরগঞ্জের হোসেনপুরে বড়দের বিরোধের জের ধরে নূরে আনিতা আজাদ নামে পাঁচ বছরের এক শিশুকে কুপিয়ে হত্যা ও ১০ বছর বয়সী নাইমা সুলতানা মিথিলা নামে আরেক শিশুকে জখম করেছে প্রতিপক্ষের লোকজন। আজ রবিবার সকাল ৮টার দিকে উপজেলার সাহেদল ইউনিয়নের গলাচিপা গ্রামে এ নৃশংস ঘটনা ঘটে। নিহত আনিতা একই ইউনিয়নের বীর পাইকশা গ্রামের মো. আলমগীরের মেয়ে। আর গুরুতর আহত মিথিলা মো. ওসমানের মেয়ে। নিহত আনিতা সম্পর্কে ওসমানের নাতি হয়।

দুই দিন আগে আনিতা মায়ের সঙ্গে নানার বাড়ি গলাচিপা গ্রামে বেড়াতে গিয়েছিল। রবিবার তাদের ফিরে যাওয়ার কথা ছিল। নানার বাড়ির লোকজনের সঙ্গে প্রতিপক্ষের বিরোধের জের ধরে হত্যাকাণ্ডের শিকার হয় সে। 

এলাকাবাসী জানায়, গ্রামের সিরাজ মিয়া ও মো. ওসমানের মধ্যে জমি নিয়ে বিরোধ চলছিল অনেকদিন ধরে। তারা সম্পর্কে চাচাতো ভাই। এ নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া-বিবাদ হতো। বিষয়টি মীমাংসায় সালিস হওয়ার কথা ছিল।

হোসেনপুর থানার ওসি শেখ মোস্তাফিজুর রহমানের ভাষ্য হলো, বিবদমান দুটি পক্ষই পরস্পরের আত্মীয়-স্বজন। বড়রা ঝগড়া-বিবাদ করলেও ছোটদের মধ্যে এর কোনো প্রভাব ছিল না। বড়রা সকালে সালিস আয়োজন নিয়ে ব্যস্ত ছিল। আর ছোটরা সকালে লুডু খেলছিল। একপর্যায়ে লুডু খেলাকে কেন্দ্র করে ছোটদের মধ্যে ঝগড়া হয়। এতে যোগ দেয় বড়রাও। তখন সিরাজ দা নিয়ে মিথিলা ও আনিতাকে কুপিয়ে জখম করে পালিয়ে যায়। 

গুরুতর আহত অবস্থায় দুই শিশুকে কিশোরগঞ্জের ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর চিকিৎসক আনিতাকে মৃত ঘোষণা করেন। আর মিথিলাকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ময়মনসিংহ মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।

হতাহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে দাবি করা হচ্ছে, বড়দের বিরোধকে করে লুডু খেলায় ছোটদের ঝগড়ার অজুহাতে প্রতিপক্ষ পরিকল্পিতভাবে এই দুটি শিশুকে হত্যার উদ্দেশ্যে হামলা চালায়। তবে আরেকটি সূত্র জানায়, সকালে দুই পক্ষের মধ্যে প্রথমে ঝগড়া ও পরে সংঘর্ষ হয়। সংঘর্ষের সময় একপক্ষের আঘাতে এই হতাহতের ঘটনা ঘটে। এ ব্যাপারে স্থানীয় বেশ কয়েকজনের সঙ্গে ফোনে যোগোযোগ করা হলেও কেউ এ বিষয়ে মুখ খুলতে রাজি হয়নি।

এদিকে খবর পেয়ে হোসেনপুর সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সোনাহর আলীর নেতৃত্বে পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে একজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করে। তবে অভিযুক্ত সিরাজ পরিবারের লোকজন নিয়ে পালিয়ে যাওয়ায় তাকে ধরতে পারেনি পুলিশ। তিনি জানান, এ ব্যাপারে থানায় মামলার প্রস্তুতি চলছে। একই সঙ্গে ঘটনার তদন্তেও নেমে গেছে পুলিশ। ময়নাতদন্তের জন্য আনিতার লাশ মর্গে পাঠানো হয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা