kalerkantho

সোমবার  । ১৯ শ্রাবণ ১৪২৭। ৩ আগস্ট  ২০২০। ১২ জিলহজ ১৪৪১

করোনা: ফেসবুকে ৯ লাখ টাকা তুলে কেনা হলো 'হাই-ফ্লো নেজাল ক্যানোলা'

বরগুনা প্রতিনিধি   

৫ জুলাই, ২০২০ ১৭:৪২ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



করোনা: ফেসবুকে ৯ লাখ টাকা তুলে কেনা হলো 'হাই-ফ্লো নেজাল ক্যানোলা'

বরগুনায় করোনায় আক্রান্ত জটিল রোগীদের চিকিৎসায় হাই ফ্লো নেজাল ক্যানোলা সংকট। আর এই সংকট সমাধানে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে অর্থিক সহায়তার আবেদন। 'আমরা আমাদের জন্য' শ্লোগানকে সামনে রেখেই আবেদনে সাড়া দেন বরগুনার বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষ। সবার সহযোগিতায় ওঠে ৯ লাখ টাকা। আর এই টাকা দিয়েই ক্রয় করা হলো ২ টি ‘হাই ফ্লো নেজাল ক্যানোলা’ মেশিন। 

আজ রবিবার সকালে বরগুনা জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে স্থানীয় সামাজিক, সাংস্কৃতিক, রাজনৈতিক ও সাংবাদিক অঙ্গনের গন্যমান্য ব্যাক্তিবর্গের উপস্থিতিতে জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ, সিভিল সার্জন ডা. মো. হুমায়ুন শাহিন খান এবং জেনারেল হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মো. সোহরাব উদ্দি খানের কাছে আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর করা হয় এই মেশিন।

বরগুনা জেনারেল হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, জটিল করোনা রোগীদের যখন সাধারণ অক্সিজেন সিলিন্ডারে কাজ হয় না, আইসিউ বা ভেন্টিলেটরের প্রয়োজন পরে তখন এই মেশিন দিয়ে আইসিইউ বা ভেন্টিলেটরের কাছাকাছি পর্যায়ের সাপোর্ট দেওয়া যায়। এরকম একেকটি মেশিনের দাম সব কিছু মিলিয়ে প্রায় চার লাখ টাকা।

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বরগুনা জেনারেল হাসপাতালে একটি মাত্র হাই ফ্লো নেজাল ক্যানোলা মেশিন রয়েছে যা রোগীর সংখ্যার তুলনায় একেবারেই অপ্রতুল। তাই এটি ক্রয়ের ভিন্ন উদ্যোগ নেন বরগুনা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও প্রবীণ সাংবাদিক আব্দুল আলীম হিমু ও সাংবাদিক, সাংস্কৃতিককর্মী মুশফিক আরিফ। ‘আমাদের জন্য আমরা’ এই শ্লোগান নিয়ে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডে দুটি ‘হাই ফ্লো নেজাল ক্যানোলা’ মেশিন ক্রয়ের জন্য ফেসবুকে আর্থিক সহযোগিতার জন্য আবেদন জানান। মুশফিক আরিফের এ আহ্বানে অর্থায়ন করেন দেশ বিদেশের বিভিন্ন শ্রেণি পেশার মানুষসহ স্থানীয় জনগন।

এ বিষয়ে বরগুনা জেনারেল হাসপাতালের করোনা ওয়ার্ডের একমাত্র মেডিসিন স্পেশালিস্ট ডা. কামরুল আজাদ বলেন, যেহেতু এ হাসপাতালে সেন্ট্রাল অক্সিজেন মেনিফোল্ড সিস্টেম আছে, তাই 'হাই ফ্লো নেজাল ক্যানোলা' মেশিন ক্রিটিক্যাল করোনা রোগীদের জন্য অনেকটাই সাপোর্ট দেবে। তিনি বলেন, সাধারণ সিলিন্ডারের মাধ্যমে প্রতি মিনিটে সাধারণত ১৫ লিটারের বেশি অক্সিজেন দেওয়া যায় না। এ কারণে রোগীর অবস্থা খারাপ হয়ে গেলে তখন আইসিইউ প্রয়োজন হয়। কিন্তু এই মেশিনের মাধ্যমে একজন রোগীর জন্য প্রতি মিনিটে ৭০ থেকে ৮০ লিটার পর্যন্ত অক্সিজেন সরবরাহ করা যায়।

এ বিষয়ে সাংবাদিক মুশফিক আরিফ জানান, আমরা শুধু শুরুটা করেছি। আমাদের উপর আস্থা রেখে বাকিটা সম্পন্ন করেছে বরগুনার স্থানীয় সমস্যা ও সম্ভাবনা নিয়ে ভাবেন এমন প্রিয়জনরা। এখানে সকল ক্রেডিট তাদের যারা আমাদের আহ্বানে সাড়া দিয়ে এগিয়ে এসেছেন।

তিনি আরও বলেন, দুটি মেশিনের একটি ইতোমধ্যেই বরগুনায় চলে এসেছে। অপর মেশিনটি বরগুনায় এসে পৌঁছাতে আরও দুএকদিন সময় লাগবে। তিনি আরও বলেন, শুধু এ দুটি মেশিনই নয় এর সাথে বিপি মেশিন, পালস অক্সিমিটার এবং কেএন-৯৫-মাস্কসহ আরও বেশ কিছু চিকিৎসাসমাগ্রী কেনা হয়েছে।

এ বিষয়ে বরগুনা প্রেসক্লাবের সাবেক সভাপতি ও প্রবীণ সাংবাদিক আব্দুল আলীম হিমু বলেন, বরগুনা প্রেসক্লাবের সাংবাদিকদের উদ্যোগে বিভিন্ন সময়ে বরগুনার বিভিন্ন সংকটে এমন অনেক মহৎ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হয়েছে। তিনি তরুণ সাংবাদিক মুশফিক আরিফকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, এ কাজটির জন্য গুরুদায়িত্ব পালন করেছেন মুশফিক আরিফ। আমি শুধু তাঁর পাশে থেকে তাকে সাহস যুগিয়েছি, পরামর্শ দিয়েছি।

বরগুনার জেলা প্রশাসক মোস্তাইন বিল্লাহ বলেন, সরকারের পক্ষ থেকে প্রতিটি হাসপাতালেই এ মেশিন পৌঁছানোর প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তবে সারা দেশে তা পৌঁছতে হয়ত কিছুটা সময় লাগবে। সরকারের পাশাপাশি সর্বস্তরের সাধারণ জনগন এগিয়ে এলে স্থানীয় অনেক সমস্যার সমাধান সম্ভব। এসব মেশিন ক্রয়ের জন্য জেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে একলাখ টাকা দেওয়া হবে জানিয়ে তিনি এ উদ্যোগের সাথে সম্পৃক্ত সবাইকে এবং যারা অর্থ দিয়ে সহযোগিতা করেছেন তাদের সকলকেও ধন্যবাদ জানান।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা