kalerkantho

শনিবার । ২৪ শ্রাবণ ১৪২৭। ৮ আগস্ট  ২০২০। ১৭ জিলহজ ১৪৪১

আরএনপিপির ৫৯-সহ দুদিনে শনাক্ত ৮৭, আতঙ্ক

ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি   

৫ জুলাই, ২০২০ ১৭:২৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আরএনপিপির ৫৯-সহ দুদিনে শনাক্ত ৮৭, আতঙ্ক

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে কর্মরত শ্রমিক-কর্মচারীদের মধ্যে ৫৯ জনসহ ঈশ্বরদীতে দুদিনে ৮৭ জনের করোনাভাইরাস পজিটিভ রিপোর্ট এসেছে। এ খবরে পুরো প্রকল্পসহ ঈশ্বরদীবাসী আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে। গত শনিবার ও রবিবার ঢাকা, রাজশাহী ও বগুড়া থেকে এসব রিপোর্ট ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আসে। আর এ নিয়ে ঈশ্বরদীতে করোনাভাইরাস পজিটিভের সংখ্যা হলো ১২২ জন। আজ (রবিবার) দুপুরে উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এফ এ আসমা খান ও হাসপাতালের আবাসিক চিকিৎসক শফিকুল ইসলাম শামীম এসব তথ্য কালের কণ্ঠকে নিশ্চিত করেছেন।

ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স সূত্র জানায়, গত ৮ জুন রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের (আরএনপিপি) সাব-ঠিকাদারি ভারতীয় প্রতিষ্ঠান পাহাড়পুর কুলিং টাওয়ার লিমিটের এক শ্রমিকের করোনা পজিটিভ রিপোর্ট আসে। এরপর ওই কম্পানিতে কর্মরত ৭০০ শ্রমিক, কর্মচারী ও কর্মকর্তার করোনা পরীক্ষার নির্দেশনা আসে। কিন্তু হাসপাতালে নমুনা সংগ্রহের অ্যাম্পল বা কিট না থাকায় কম্পানিটি নিজ উদ্যোগে ঢাকার প্যাথ ল্যাবে নমুনা পাঠায়। সেখান থেকেই ৫৯ জনের পজিটিভ রিপোর্ট এসেছে। 

রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রের ভারতীয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান পাহাড়পুর কুলিং টাওয়ার লিমিটেডের প্রশাসনিক কর্মকর্তা মি. কারিব জানান, গত ৮ জুন কম্পানিতে কর্মরত জনি নামের এক শ্রমিকের করোনা পজিটিভ রিপোর্ট আসে। তখন প্রকল্প নির্মাণের রাশিয়ার মূল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এটমস্ট্রয় এক্সপোর্ট ও প্রধান সাব-ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এএসই থেকে পাহাড়পুর কুলিং টাওয়ার কম্পানি লি. ১৬ সিকিউরিটি ছাড়া বাকি ৭০০ জন শ্রমিক, কর্মকর্তা ও কর্মচারীকে হোম কোয়ারেন্টিন ও কয়েকজনকে আইসোলেশনে পাঠানো হয়। একই সঙ্গে প্রত্যেকের করোনা রিপোর্ট ছাড়া প্রকল্পে প্রবেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করা হয়। 

মি. কারিব আরো জানান, ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে করোনাভাইরাসের নমুনা সংগ্রহের দীর্ঘসূত্রতা এবং অ্যাম্পল ও কিটের সমস্যা থাকায় কম্পানির নিজস্ব উদ্যোগে নমুনা সংগ্রহ করে ঢাকার প্যাথ ল্যাবে পাঠানো হয়। সেখান থেকে ৭০০ জনের মধ্য থেকে ৫৯ জনের করোনা পজিটিভ রিপোর্ট এসেছে। গত ৯ জুন থেকেই কম্পানির সবাইকে হোম কোয়ারেন্টিনে ও আইসোলেশনে রাখা হয়েছে। 

ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. এফ এ আসমা খান কালের কণ্ঠকে জানান, ঢাকার প্যাথ ল্যাব থেকে আরএনপিপিতে কর্মরত পাহাড়পুর কুলিং টাওয়ার কম্পানি লিমিটেডের ৫৯ জনের, বগুড়া টিএমএসএস হাসপাতাল থেকে চারজন ও শনিবার ঢাকা ল্যাব থেবে ২৪ জনের রিপোর্ট আসে। এর আগে ঈশ্বরদীর আরো ৩৫ জনের করোনা পজিটিভ রিপোর্ট এসেছে। 

এদিকে আরএনপিপিতে ও ঈশ্বরদীতে একযোগে ১২২ জন করোনা পজিটিভ হওয়ায় আতঙ্কিত হয়ে পড়েছে প্রকল্পে কর্মরত সব কম্পানির শ্রমিক-কর্মচারী ও ঈশ্বরদীবাসী। তবে প্রকল্পে করোনা প্রতিরোধে সব ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে বলেও বিভিন্ন রাশিয়ান কম্পানির পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা