kalerkantho

সোমবার  । ১৯ শ্রাবণ ১৪২৭। ৩ আগস্ট  ২০২০। ১২ জিলহজ ১৪৪১

দুর্নীতিবাজ ওসি

জয়পুরহাট প্রতিনিধি   

৫ জুলাই, ২০২০ ০৭:৩৮ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



দুর্নীতিবাজ ওসি

ঘুষ, দুর্নীতি, ক্ষমতার অপব্যবহার ও মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোসহ নানা অভিযোগে জয়পুরহাটের আক্কেলপুর থানার ওসি আবু ওবায়েদকে গত শুক্রবার রাতে প্রত্যাহার করা হয়েছে। অভিযোগের তদন্ত চলাকালে ওসির পক্ষ নিয়ে সাক্ষীদের প্রকাশ্যে হত্যার হুমকি দেওয়ায় স্থানীয় চার যুবলীগকর্মীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।

গ্রেপ্তারকৃরা হলেন উপজেলার তিলকপুর ইউনিয়ন যুবলীগের আহ্বায়ক মেহেদি হাসান দীপু, যুবলীগকর্মী আরিফুল ইসলাম মানিক, দেলোয়ার হোসেন ও রেজাউল হোসেন মানিক। পরে তদন্ত কমিটির সদস্য ও পুলিশের বিশেষ শাখার (ডিএসবি) পরিদর্শক কাউছার আলী বাদী হয়ে তাঁদের বিরুদ্ধে আক্কেলপুর থানায় মামলা করেন। পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সালাম কবির ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন।

জেলা পুলিশ সূত্রে জানা যায়, আক্কেলপুর উপজেলার তিলকপুর ইউনিয়ন পরিষদের সদস্য সিরাজুল ইসলাম ওসি আবু ওবায়েদের বিরুদ্ধে পুলিশ সুপারের কাছে অনিয়ম ও ঘুষ দাবির লিখিত আভিযোগ করেন। একইভাবে বিভিন্ন সূত্রে ওসি ওবায়েদের নানা অপকর্মের অভিযোগও এসপির কাছে যায়। অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সদর সার্কেল) আবদুস সালামকে প্রধান করে তিন সদস্যের কমিটি গঠন করে তদন্তের নির্দেশ দেন পুলিশ সুপার। তদন্তদলের অন্য সদস্যরা হলেন—অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (হেডকোয়ার্টার্স) সাজ্জাদ হোসেন ও পুলিশের বিশেষ শাখার (ডিএসবি) পরিদর্শক কাউছার আলী।

তদন্ত কমিটি গত শুক্রবার দুপুরে তিলকপুর ইউনিয়ন পরিষদ ভবনে তদন্তকাজ শুরু করলে সাক্ষীদের প্রকাশ্যে বাধা ও হত্যার হুমকি দিয়ে তদন্তকাজে বাধা সৃষ্টি করে তিলকপুর ইউনিয়ন যুবলীগের ওই চার কর্মী। এ সময় তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আবদুস সালামের নির্দেশে তাঁদের আটক করে পুলিশ। পরে আক্কেলপুর থানায় তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা করা হয়। ওই চার যুবলীগকর্মী ওসি ওবায়েদের সিন্ডিকেট দলের সক্রিয় সদস্য বলে স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে। তদন্তে অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়ায় শুক্রবার রাতেই ওসি ওবায়েদকে থানা থেকে পুলিশ লাইনে প্রত্যাহার করা হয়। পরে থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সেলিম মালিককে ওসির দায়িত্ব অর্পণ করা হয়।

অভিযোগে জানা গেছে, আক্কেলপুর থানায় যোগদান করার পর থেকে আবু ওবায়েদ স্থানীয় ক্ষমতাসীন চক্রের সঙ্গে সিন্ডিকেট গড়ে অবাধে ঘুষ, দুর্নীতি ও নানা অপকর্ম চালিয়ে অঢেল টাকা কামিয়েছেন। আক্কেলপুরের কয়াগোপীনাথপুর ও চারদিঘী গ্রামের উজ্জ্বল হোসেন, রাজু আহম্মদ ও আলিফ হোসেন নামের তিন যুবক অভিযোগ করেন, ওসি ওবায়েদের বিরুদ্ধে পুলিশ সুপারের কাছে ঘুষ নিয়ে আসামি ছেড়ে দেওয়ার অভিযোগ করায় মাদক ও অপহরণের পৃথক দুটি মামলায় তাঁদের ফাঁসিয়ে দেওয়া হয়েছে। মামলায় ১৪ দিন কারাগারে থাকার পর তাঁরা জামিন পান। পরে ওই মামলায় ওসি ওবায়েদের দেওয়া তিনজন সাক্ষী আসামিদের পক্ষে আদালতে ওসির ষড়যন্ত্রের বিষয়ে সাক্ষ্য দেয়। যুবক উজ্জ্বল দাবি করেন, তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো অভিযোগ ছিল না। শুধু পুলিশ সুপারের কাছে অভিযোগ করায় তাঁদের তিনজনকে থানায় ধরে এনে চোখ বেঁধে নির্যাতন চালিয়েছে ওসি।

নওগাঁর মহাদেবপুর এলাকার ওসমান অ্যাগ্রো লিমিটেডের ব্যবস্থাপক রঞ্জন কুমার অভিযোগ করেন, গত বুধবার আক্কেলপুর বাজারের ওপর দিয়ে ধানবোঝাই ট্রাক আসার সময় একটি দুর্ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় ওসি আবু ওবায়েদ তাঁদের ধানবোঝাই তিনটি ট্রাক জব্দ করে থানা হেফাজতে নিয়ে ঘুষ দাবি করেন।

সদ্য দায়িত্বপ্রাপ্ত ওসি সেলিম মালিক বলেন, ‘প্রত্যাহার করা ওসি ওবায়েদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হলে স্থানীয় চার যুবলীগকর্মী সাক্ষীদের প্রকাশ্যে বাধা দেয়। এ ঘটনায় তাঁদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে। একই সঙ্গে রাতে ওসি ওবায়েদকে থানা থেকে প্রত্যাহার করে নিয়ে পুলিশ লাইনে সংযুক্ত করা হয়েছে।’

পুলিশ সুপার (এসপি) মোহাম্মদ সালাম কবির বলেন, ‘আক্কেলপুর থানার ওসির বিরুদ্ধে অনিয়ম ও বিভিন্ন অভিযোগের সত্যতা পাওয়ায় তাঁকে শুক্রবার রাতে থানা থেকে প্রত্যাহার করে নেওয়া হয়েছে। এখন তাঁর বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার প্রস্তুতি চলছে।’

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা