kalerkantho

সোমবার  । ১৯ শ্রাবণ ১৪২৭। ৩ আগস্ট  ২০২০। ১২ জিলহজ ১৪৪১

পাঁচ ভাইয়ের সাম্রাজ্যে হত্যা, ধর্ষণ, চাঁদা ও দখলবাজি

শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি    

৫ জুলাই, ২০২০ ০৭:৩৩ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



পাঁচ ভাইয়ের সাম্রাজ্যে হত্যা, ধর্ষণ, চাঁদা ও দখলবাজি

মিলন চৌকিদার। দুর্গম পশ্চিম রাজাপুর গ্রামের স্বঘোষিত সম্রাট তিনি। চার সত্ভাই নেহারুল, মনির, ছগির ও নজরুলকে নিয়ে নিজস্ব বাহিনী গড়ে তুলেছেন মিলন। হত্যা, ধর্ষণ, চাঁদাবাজি, জমি দখল, নিরীহ মানুষকে মারধর—এমন কোনো কাজ নেই যা তাঁরা করেন না। তাঁদের নির্যাতনে অনেক পরিবারই বাড়িছাড়া। এই পাঁচ ভাইয়ের ভয়ে ভীতসন্ত্রস্ত থাকে বাগেরহাটের শরণখোলায় সুন্দরবনঘেঁষা পশ্চিম রাজাপুরের লোকজন।

মিলনের বিরুদ্ধে ভাইয়ের স্ত্রীকে হত্যাসহ বিভিন্ন অভিযাগে মামলা আছে। তিনি সোমেদ হাওলাদার ওরফে সোমেদ চৌকিদারের ছেলে। অবসরপ্রাপ্ত গ্রাম পুলিশ সোমেদের একাধিক স্ত্রী। মিলনদের বিরুদ্ধে কেউ মুখ খুললেই শুরু হয় নির্যাতন।

পশ্চিম রাজাপুরের ফাতিমা বেগম অভিযোগ করেন, স্বামী সাখাওয়াত হোসেন বিদেশে থাকার সুযোগে তাঁদের ১২ বিঘা জমি দখল করে নিয়েছে মিলন বাহিনী। প্রতিবাদ করায় আট বছরের ছেলে মুসাকে অপহরণের হুমকি দেয়। ভয়ে ছেলের স্কুলে যাওয়া-আসা বন্ধ হয়ে যায়। এ অবস্থায় ছেলেকে বাড়ি থেকে অন্তত ১০ কিলোমিটার দূরে বাংলাবাজারে বোনের বাড়িতে রেখে আসেন। এর মধ্যে গত ১২ মে তাঁদের বাড়ি থেকে দেড় লাখ টাকা, মোবাইল ফোনসেট ও স্বর্ণের চেইন লুট করা হয়। এ ঘটনায় মামলা করলে তা তুলে নিতে অব্যাহত হুমকি দিচ্ছেন মিলন ও তাঁর ভাইয়েরা।

দেলোয়ার হাওলাদারের স্ত্রী সেতারা বেগমের অভিযোগ, মিলন বাহিনী তাঁকে মারধর করে চারটি দাঁত ভেঙে দিয়েছে। তাঁদের দুটি গরু আর হাঁস-মুরগিও লুট করেছে। শুধু তাই নয়, তাঁর ভাতিজার স্ত্রীকে অনৈতিক প্রস্তাবও দেন মিলন। ভয়ে স্ত্রীকে নিয়ে তাঁর ভাতিজা গ্রাম ছেড়ে চলে গেছেন। বৃদ্ধ আইউব আলী আকন অভিযোগ করেন, মিলনের বাড়িতে তাঁর গরু ঢুকে পড়েছিল। এ জন্য তাঁকে ধরে গামছা দিয়ে গলায় ফাঁস লাগিয়ে মেরে ফেলার চেষ্টা করেন।

ইউনুচের স্ত্রী হাসিনা বেগম মোবাইল ফোনে অভিযোগ করেন, মিলনের বিরুদ্ধে মামলা দিলে তাঁর স্বামীকে মেরে আহত করা হয়।

মালেক হাওলাদার ও তাঁর স্ত্রী আলেয়া বেগম জানান, মেজ ছেলের বউকে অনৈতিক প্রস্তাব দিয়েছিলেন মিলন। এ কারণে বউকে চট্টগ্রামে ছেলের কাছে পাঠিয়ে দিয়েছেন। বউকে পাঠানোর ‘অপরাধে’ এক লাখ টাকা চাঁদা দিতে হয়েছে তাঁদের।

অন্যদিকে ধানসাগর ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান মইনুল ইসলাম টিপু, একই ইউপি সদস্য হুমাউন করিম সুমন তালুকদার ও সাবেক ইউপি সদস্য ছিদ্দিকুর রহমান অভিযোগ করেন, মিলন ও তাঁর ভাইয়েরা ক্ষমতাসীন দলের কিছু নেতার ছত্রচ্ছায়ায় থেকে দীর্ঘদিন ধরে অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড করে আসছেন।

অভিযোগের বিষয়ে কোনো কথা বলতে রাজি হননি মিলন।

তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে নেহারুল বলেন, ‘প্রতিবেশীদের সঙ্গে বিরোধ থাকায় তারা আমাদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালাচ্ছে।’

শরণখোলা থানার ওসি এস কে আব্দুল্লাহ আল সাইদ বলেন, পশ্চিম রাজাপুরে গ্রুপিং ও জমি নিয়ে বিরোধ-মামলা চলছে। যাতে বড় কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে সে জন্য সংশ্লিষ্ট চেয়ারম্যান ও ইউপি সদস্যকে নিয়ে সমঝোতার চেষ্টা চলছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা