kalerkantho

রবিবার। ২৫ শ্রাবণ ১৪২৭। ৯ আগস্ট ২০২০ । ১৮ জিলহজ ১৪৪১

মুরগি রক্ষার ফাঁদে প্রাণ গেল প্রতিবন্ধীর

রাউজান (চট্টগ্রাম) প্রতিনিধি   

৫ জুলাই, ২০২০ ০০:৪৫ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



মুরগি রক্ষার ফাঁদে প্রাণ গেল প্রতিবন্ধীর

রাউজানে মুরগির খামারে বৈদুৎতিক তার দিয়ে পাতানো ফাঁদে এক মানসিক প্রতিবন্ধীর মৃত্যু হয়েছে। গতকাল শনিবার বিকেল ৪টার দিকে উপজেলার ৯ নম্বর পাহাড়তলী ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের মহামুনি বিহারের পূর্ব পাশে চিন্তাদিরঘাটা নামকস্থানে ডিম উৎপাদনকারী মুরগির খামারে (লেয়ার) এই ঘটনাটি ঘটে। 

স্থানীয় ইউপি সদস্য লিটন বড়ুয়া ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, খামারটির মালিক স্থানীয় প্রসেনজিৎ চৌধুরী ও লাবু বড়ুয়া। শেয়ালসহ নানান বন্যপ্রাণীর হাত থেকে মুরগিকে করার জন্য খামারের চারপাশে বৈদুৎতিক তারের ফাঁদ পাতানো হয়। ওই ফাঁদে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে একজন মানসিক প্রতিবন্ধীর মৃত্যু হয়েছে। বিকাল ৫টার দিকে তার স্বজনরা তার মরদেহ উদ্ধার করে নিয়ে যান।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, নিহত মানসিক প্রতিবন্ধীর নাম নুরুল আবচার প্রকাশ নুরু পাগলা (৬০)। তিনি একই ইউনিয়নের ৮নং ওয়ার্ডের শেখপাড়া গ্রামের দারোগা'র বাড়ির মৃত বাদশা মিয়ার মেজ পুত্র। 

নিহতের ভাই নুর মোহাম্মদ বলেন, বেলা আড়াইটার দিকে গরুর জন্য ঘাস কাটার উদ্যেশ্যে ঘর হতে বের হন। বিকাল পাঁচটার দিকে মোবাইল ফোনে জানতে পারি মহামুনি বিহারের পাশে একটি মুরগির খামারে আমার ভাইয়ের লাশ পড়ে আছে। ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখি খামারের পাশে একটি চটের বস্তার ওপর পলিথিন দিয়ে লাশ ঢাকা আছে। ৬টার দিকে লাশ বাড়িতে নিয়ে আসি। আমার কাছে ভাইয়ের মৃত্যু রহস্যজনক মনে হচ্ছে। 

এই বিষয়ে কথা বলতে খামারের মালিক লাবু বড়ুয়ার সাথে মোবাইল ফোনে বারবার যোগাযোগ করার চেষ্ট হলেও বন্ধ পাওয়া যায়। 

স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান রোকন উদ্দিন বলেন, খামারে বিদ্যুৎস্পৃষ্টে নুরু পাগলা নামে এক মানসিক প্রতিবন্ধী মৃত্যুর সংবাদ শুনেছি। তবে কোনো পক্ষই আমার সাথে যোগাযোগ করেননি। খামারে দিন দুপুরে বন্যপ্রাণী মারার জন্য যে বৈদ্যুতিক ফাঁদ বসানো হয়েছে তা মারাত্মক অন্যায়। 

রাউজান উপজেলা বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কর্মকর্তা ফরিদ উদ্দিন বলেন, ঘটনাস্থলে গিয়ে দেখতে হবে ফাঁদটি বন্যপ্রাণী হত্যার ফাঁদ কি-না। আর ফাঁদে যদি কোনো বন্যপ্রাণী মারা যায় তাহলে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

রাউজান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা কেপায়েত উল্লাহ বলেন, আমার এখনো পর্যন্ত এই ধরনের কোনো সংবাদ পায়নি। বিষয়টি আমরা দেখছি।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা