kalerkantho

রবিবার। ২৫ শ্রাবণ ১৪২৭। ৯ আগস্ট ২০২০ । ১৮ জিলহজ ১৪৪১

গ্রামের নাম স্বাধীনতাবিরোধী চক্রের পরিবর্তন, মুছে দিল প্রশাসন

শরণখোলা (বাগেরহাট) প্রতিনিধি   

৪ জুলাই, ২০২০ ২২:১৮ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



গ্রামের নাম স্বাধীনতাবিরোধী চক্রের পরিবর্তন, মুছে দিল প্রশাসন

বাগেরহাটের শরণখোলার খোন্তাকাটা ইউনিয়নের পশ্চিম রাজৈর গ্রামের নাম পরিবর্তন করে রাখা হয় ‘মাদানি নগর’। আঞ্চলিক মহাসড়কের মাইল ফলক এবং গ্রামের বিভিন্ন ভবন ও বিদ্যুতের খুঁটিতে লাল-কালো রং দিয়ে লেখা নতুন নামটি বেশ কয়েক মাস ধরে বিভ্রান্তির সৃষ্টি করে মানুষের মাঝে।

এলাকাবাসী ধারণা করছে, জামায়াত অধ্যুষিত ওই এলাকার স্বাধীনতাবিরোধী চক্র শত বছরের পুরনো ও ঐতিহ্যবাহী নামটি মুছে দিয়ে তাদের অস্তিত্বের জানান দিতে চায়। এ নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে সমালোচনা ও প্রতিবাদের ঝড় ওঠে। প্রশাসনের নজরে আসে নাম পরিবর্তনের বিষয়টিও। পরে শনিবার উপজেলা প্রশাসন পরিবর্তিত নাম মুছে দেয়।

তৎকালীন পূর্ব পাকিস্তানের শিক্ষা ও রাজস্ব মন্ত্রী, একাত্তরের রাজাকার বাহিনীর প্রতিষ্ঠাতা ও জামায়াতের সাবেক কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির মাওলানা আবুল কালাম মুহাম্মদ ইউসুফের জন্মভিটা শরণখোলা উপজেলার এই পশ্চিম রাজৈর গ্রাম। যে কারণে ওই গ্রামটি জামায়াতের ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। সম্প্রতি গ্রামটির এক কিলোমিটার এলাকার বিভিন্ন স্থানে মাদানি নগর নাম লিখে দেওয়া হয়। 

প্রগতিশীল ও স্বাধীনতার পক্ষের একাধিক সূত্র জানায়, বর্তমানে জামায়াত অস্তিত্বহীন হয়ে পড়েছে। তারা প্রকাশ্যে মাঠে নামতে পারছে না। তাই এভাবে গোপনে গোপনে তারা সক্রিয় ও সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা চালাচ্ছে। ওই গ্রামের মৃত আ. খালেক আকনের ছেলে শিবির নেতা কেএইচএম রফিক আকন স্থানীয় কিছু যুবককে ধর্মীয় চেতনার ফাঁদে ফেলে এই নাম পরিবর্তন করেছে। তারা বিভিন্ন ফেসবুক মেচেঞ্জারে ওই গ্রামের নাম মাদানি নগর করা হয়েছে বলে প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন ওই প্রগতিশীলরা।

শরণখোলা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সরদার মোস্তফা শাহিন ও থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা এসকে আব্দুল্লাহ আল সাইদ বলেন, নাম পরিবর্তনের বিষয়টি নজরে আসায় তা মুছে ফেলা হয়েছে। জড়িত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা