kalerkantho

শুক্রবার । ৩০ শ্রাবণ ১৪২৭। ১৪ আগস্ট ২০২০ । ২৩ জিলহজ ১৪৪১

প্রেমিকা নিয়ে দ্বন্দ্ব, বন্ধুর হাতে বন্ধু খুন

নীলফামারী প্রতিনিধি   

৪ জুলাই, ২০২০ ১৯:৩৪ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



প্রেমিকা নিয়ে দ্বন্দ্ব, বন্ধুর হাতে বন্ধু খুন

নীলফামারীতে প্রেমিকাকে নিয়ে দ্বন্দ্বের জেরে বন্ধুর ছুরিকাঘাতে খুন হয়েছেন শামীম ইসলাম (১৮) নামের এক শিক্ষার্থী। গতকাল শুক্রবার রাত ১০টার দিকে জেলা সদরের পলাশবাড়ী ইউনিয়নে তরণীবাড়ী রেলস্টেশনে ওই খুনের ঘটনা ঘটে। আজ শনিবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে নিহতের ময়নাতদন্ত শেষে পরিবারের কাছে লাশ হস্তান্তর করা হয়েছে।

খুনের শিকার শামীম পলাশবাড়ী ইউনিয়নের তরণীবাড়ী মাদরাসাপাড়া গ্রামের মৃত সোনা মিয়ার ছেলে। শামীম এবার তরণীবাড়ী স্কুল অ্যান্ড কলেজ থেকে এসএসসি পাস করেছে। এ ঘটনায় শামীমের বন্ধু রবিউল ইসলাম বাবুকে (১৮) আসামি করে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে বলে জানা গেছে। অন্যদিকে রবিউল ইসলাম বাবু একই গ্রামের শুকুর আলীর ছেলে।

শামীমের অপর বন্ধু একই ইউনিয়নের তরণীবাড়ী বাবুপাড়া গ্রামের সানাউল হোসাইন (১৮) বলেন, ‌‌'শুক্রবার সন্ধ্যায় তরণীবাড়ী বাজারে বসে শামীমসহ কথা বলছিলাম। এ সময় রবিউল ইসলাম বাবু সেখানে এসে শামীমকে রেলস্টেশনের দিকে ডেকে নেয়। আমি তাদের পিছু নিয়ে সেখানে পৌঁছতেই বাবু চলে যায়। এরপর কিছু বুঝে ওঠার আগেই ‘বাবু আমাকে খুন করল’ বলেই শামীম স্টেশনের প্ল্যাটফর্মে পড়ে যায়। তার বুকের নিচ থেকে রক্ত ঝরতে দেখে চিৎকার করলে এলাকাবাসী এগিয়ে আসে।

সানাউল জানায়, শামীমের প্রেমিকাকে নিয়ে বাবুর সঙ্গে দ্বন্দ্ব ছিল। তাঁর (শামীমের) প্রেমিকার সঙ্গে দুই বছর আগে প্রেম থাকার দাবি করে আসছিল বাবু। ওই দ্বন্দ্বের জেরে খুনের ঘটনাটি ঘটেছে। বাজারে কথা বলার সময়ও মামীম ওই দ্বন্দ্বের কথা উল্লেখ করেছিল।

শামীমের বড় ভাই নূর আমীন (২৫) বলেন, আমার ভাইকে খুনের পর বাবু আমাকে ফোনে বলে, ‘তোর ভাইয়ের লাশ প্ল্যাটফর্মে পড়ে আছে, এসে নিয়ে যা।' আমি দ্রুত স্টেশনঘরের সামনে গিয়ে প্ল্যাটফর্মে আমার ভাইকে রক্তাক্ত অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখি। সেখানে উপস্থিত এলাকাবাসীর সহযোগিতায় হাসপাতালে নিলে চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। বাবুকে আসামি করে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি নিচ্ছি।'

তিনি বলেন, শামীমের প্রেমিকার সঙ্গে বাবুর প্রেম থাকার কথা দাবি করে বাবু একাধিকবার আমার মোবাইলে এসএমএস পাঠায়। আমার ছোট ভাইকে দেখে নেওয়ার হুমকিও দেয় মোবাইল ফোনে। আমরা নিশ্চিত, ওই দ্বন্দ্ব থেকে খুনের ঘটনাটি ঘটেছে।

এলাকাবাসী জানায়, সানাউলের চিৎকারে এগিয়ে এসে ওই খুনের ঘটনা দেখতে পাওয়া যায়। অচেতন অবস্থায় তাকে নীলফামারী জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়।

নীলফামারী সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মমিনুল ইসলাম বলেন, খবর পেয়ে রাতে লাশ উদ্ধার করে ময়নাতদন্ত শেষে আজ শনিবার বিকেল সাড়ে ৩টার দিকে পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। রেলস্টেশন এলাকায় ঘটনাটি ঘটায় আমরা সৈয়দপুর রেলওয়ে থানা পুলিশকে খবর দিয়েছি। সেখানে মামলা দায়ের হবে। জিজ্ঞাসাবাদের জন্য শামীমের বন্ধু সানাউল হোসাইনকে থানায় আনা হয়েছে।

সৈয়দপুর জিআরপি থানার উপপরিদর্শক শাহজাহান আলী মণ্ডল বলেন, এ ঘটনায় মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা