kalerkantho

শনিবার । ২৪ শ্রাবণ ১৪২৭। ৮ আগস্ট  ২০২০। ১৭ জিলহজ ১৪৪১

চৌবাড়িয়া পশুর হাট

এই হলো 'সামাজিক দূরত্ব', স্বাস্থ্যবিধি?

মান্দা (নওগাঁ) প্রতিনিধি   

৪ জুলাই, ২০২০ ১৬:৪১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



এই হলো 'সামাজিক দূরত্ব', স্বাস্থ্যবিধি?

আসন্ন ঈদুল আজহা সামনে রেখে স্বাস্থ্যবিধি মেনে বসার কথা পশুর হাট। রাখার কথা স্বাস্থ্য সুরক্ষার সব ব্যবস্থা। মানার কথা সরকারের বিভিন্ন নির্দেশনা। অথচ নওগাঁর মান্দা উপজেলার চৌবাড়িয়া পশুর হাট কর্তৃপক্ষ হয়তো বিষয়গুলো ভুলেই গেছে। সেখানে করোনা প্রতিরোধে নেই কোনো ব্যবস্থা। হাটে আগতদের মাস্ক ব্যবহারের বালাই নেই। কোরবানির পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য নেই পশুচিকিৎসক। এ অবস্থায় হাটে আগতদের মাধ্যমে করোনাভাইরাসের সংক্রমণ ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

এ ছাড়া পশুর হাটে খাজনার অতিরিক্ত অর্থ আদায় করা হচ্ছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। ইজারাপ্রাপ্তির তিন মাসেও হাটে টাঙানো হয়নি সরকার নির্ধারিত খাজনা (টোল) আদায়ের তালিকা। আর এ সুযোগ কাজে লাগিয়ে ইজারাদারের লোকজন ক্রেতা-বিক্রেতা উভয়ের কাছ থেকে ইচ্ছামতো আদায় করছেন খাজনা।

সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, উত্তরাঞ্চলের বৃহত্তম পশুর হাট চৌবাড়িয়া। চলতি ১৪২৭ সালে আয়কর, ভ্যাটসহ হাটটি ইজারা প্রদান করা হয়েছে পাঁচ কোটি ৪১ লাখ টাকায়। ইজারা নিয়েছেন নওগাঁ সদর উপজেলা চেয়ারম্যান আলহাজ রফিকুল ইসলাম। গতকাল শুক্রবার চৌবাড়িয়া হাটে গিয়ে দেখা গেছে, হাটে আগত মানুষের মুখে মাস্ক নেই। স্বাস্থ্যবিধি না মেনেই চলাচল করছে লোকজন। প্রচণ্ড ভিড় ঠেলে হাটের ভেতরে প্রবেশের ফাঁক নেই। ইজারাদারের লোকজন হাটের বিভিন্ন স্থানে টেবিল-চেয়ার পেতে আদায় করছে খাজনার টাকা। এ সময় দেখা যায়, সরকার নির্ধারিত খাজনা ছাড়াও আদায় করা হচ্ছে অতিরিক্ত অর্থ।

শুধু ক্রেতার কাছ থেকে খাজনার টাকা আদায়ের নিয়ম থাকলেও তা মানছে না ইজারাদারের লোকজন। বিক্রেতাদেরও গুনতে হচ্ছে অর্থ। এ ছাড়া বিভিন্ন ফান্ডের কথা বলেও আদায় করা হচ্ছে টাকা। কোরবানির পশুর স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য দেখা মেলেনি কোনো চিকিৎসকের।

হাটে আগত ক্রেতারা অভিযোগ করে বলেন, আমাদের কাছ থেকে গরুপ্রতি ৫০০ টাকা করে নেওয়া হলেও ইজারাদারের লোকজন রসিদে টাকার অঙ্ক উল্লেখ করছেন না। ওই স্থান ফাঁকা রেখেই আমাদের রসিদ সরবরাহ করা হচ্ছে।

হাট ইজারাদার আলহাজ রফিকুল ইসলাম বলেন, করোনাভাইরাসের কারণে গত দুই মাস হাট করা সম্ভব হয়নি। এ সময় হাটে ক্রেতা-বিক্রেতার উপস্থিতি ছিল না। হাটে তালিকা না টাঙানো ও গরুপ্রতি ৫০০ টাকা করে খাজনা নেওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে পরে কথা হবে বলে মোবাইলফোনের লাইন কেটে দেন।

এ প্রসঙ্গে মান্দা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা  আব্দুল হালিম বলেন, বিষয়টি আমি শুনেছি। এ বিষয়ে কাজ চলছে। আগামী হাটগুলোতে ভ্রাম্যমাণ আদালতের অভিযান পরিচালনা করা হবে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা