kalerkantho

শনিবার । ১১ আশ্বিন ১৪২৭ । ২৬ সেপ্টেম্বর ২০২০। ৮ সফর ১৪৪২

কৃষককে মারধরের ২১ দিনেও মামলা নেয়নি পুলিশ

সাংবাদিককে প্রাণনাশের হুমকি

হাতীবান্ধা (লালমনিরহাট) প্রতিনিধি   

৪ জুলাই, ২০২০ ১৪:৩৬ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



কৃষককে মারধরের ২১ দিনেও মামলা নেয়নি পুলিশ

লালমনিরহাটের হাতীবান্ধায় মাছ চুরিতে বাধা দেয়ায় বাহার উদ্দিন (৫০) নামে এক কৃষককে বেধড়ক পিটিয়ে আহত করা হয়। 

এ ঘটনায় গত শনিবার (১৩ জুন) রাতে আহতর ভাতিজা আব্দুর রাজ্জাক বাদী হয়ে ৬ জনকে আসামী করে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। কিন্তু ঘটনার ২১ দিন পেরিয়ে গেলেও মামলা নথিভূক্ত করেনি পুলিশ। শুধু তাই নয় মামলা মিমাংসা করতে বাদিকে চাপ দিচ্ছেন স্থানীয় প্রভাবশালী ও মামলার তদন্তকারী পুলিশের উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাহবুব ইসলাম।

এ ঘটনা নিয়ে দৈনিক কালের কণ্ঠ পত্রিকায় সংবাদ প্রকাশ হওয়ায় স্থানীয় প্রতিনিধি মাহমুদ হাসানকে প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়েছে। মাহমুদ হাসান দৈনিক কালের কণ্ঠ পত্রিকার লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলা প্রতিনিধি।

আহত বাহার উদ্দিন উপজেলার ওই এলাকার মৃত আলী হোসেনের ছেলে এবং তিনি ওই এলাকায় মাছ চাষ করেন (কৃষক)।

অভিযুক্তরা হলেন, উপজেলার দক্ষিন জাওরানী এলাকার মৃত মনির উদ্দিনের ছেলে লাল মিয়া (৫৫), চাঁন মিয়া (৪৫), আজিজুল ইসলাম সুরুজ (৪০), ফালান মিয়া (৩০) ও একই এলাকার লাল মিয়ার ছেলে হায়দার আলী (২৫) এবং আজিজুল ইসলাম সুরুজের ছেলে আপেল (২০)।

জানা গেছে, উপজেলার দক্ষিন জাওরানী এলাকায় স্থানীয় বাহার উদ্দিন, নূর আমিন ও কাজল মিয়া শেয়ারে মাছ চাষ করেন। অভিযুক্তরা প্রায় রাতের আধারে নিষিদ্ধ কারেন্ট জাল দিয়ে মাছ চুরি করে। এদিকে বুধবার (১০ জুন)  ভোরে অভিযুক্তরা কারেন্ট জাল দিয়ে মাছ ধরা শুরু করলে বাহার উদ্দিন বাধা দেয়। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে অভিযুক্তরা বাহার উদ্দিনকে মারধর করেন। বাহার উদ্দিনের আর্তচিৎকারে স্থানীয়রা ছুটে আসলে তারা পালিয়ে যায়। পরে পরিবারের লোকজন বাহার উদ্দিনেক উদ্ধার করে উপজেলা স্বাস্থ্য-কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করেন।

এ ঘটনায় গত শনিবার (১৩ জুন) রাতে আহতর ভাতিজা আব্দুর রাজ্জাক বাদী হয়ে ৬জনকে আসামী করে থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দায়ের করেন। কিন্তু ঘটনার ২১ দিন পেরিয়ে গেলেও মামলা নথিভূক্ত করেনি পুলিশ।

এদিকে এ ঘটনায় ১৫ জুন দৈনিক কালের কণ্ঠ পত্রিকার অনলাইনে “হাতীবান্ধায় মাছ চুরি কৃষককে মারধর” এই শিরোনামে একটি সংবাদ প্রকাশ হয়। এর আগে খবর প্রকাশের জন্য মোবাই ফোনে অভিযুক্তদের বক্তব্য নেওয়া হয়। এর কিছুক্ষণ পর ফোন করে সাংবাদিক মাহমুদ হাসানকে হুমকি দেওয়া হয়। এ ঘটনায় থানায় একটি লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানাগেছে, সাংবাদিককে মোবাইল ফোনে প্রাণনাশের হুমকি দিয়েছেন ওই মামলার অভিযুক্ত লাল মিয়ার ছেলে হায়দার আলী।

এ বিষয়ে বাহার উদ্দিন বলেন, ‘আমি গরিব মানুষ। এলাকার একজনের সাথে যৌথভাবে মাছ চাষ করি। অভিযুক্তরা প্রায় রাতের আধারে মাছ চুরি করে। মাছ চুরির সময় তাদের বাধা দিলে তারা ক্ষিপ্ত হয়ে আমাকে বেধড়ক মারধর করে। আমার মাথায় প্রায় ২৫টি ও হাতে-পায়ে প্রায় ১০ টি সেলাই দেয়া হয়েছে। আমি এর সুষ্ঠু বিচার চাই’।

আহতের ভাতিজা আব্দুর রাজ্জাক বলেন, ‘মামলা আপোস মিমাংসা করতে তদন্তকারী কর্মকর্তা এসআই মাহবুব ও স্থানীয় প্রভাবশালীরা চাপ দিচ্ছেন। ২০ দিন পেরিয়ে গেলেও মামলাটি এখনো নথিভূক্ত করা হয়নি’।

এ বিষয়ে ওই মামলার অভিযুক্ত লাল মিয়ার ছেলে হায়দার আলী বলেন, ‘মামলাটি আপোস মিমাংসার চেষ্টা চলছে। ভেলাগুড়ি চেয়ারম্যান বিষয়টি দেখছেন। সাংবাদিককে হুমকি দিয়েছিলাম। পরে বুঝতে পারি কাজটি ঠিক হয়নি’।

এ বিষয়ে সাংবাদিক মাহমুদ হাসান বলেন, ‘আমাকে ফোন করে প্রাণনাশের হুমক দেওয়া হয়। এ ঘটনায় থানায় আমি একটি অভিযোগ করেছি’।

এ বিষয়ে ওই অভিযোগের তদন্তকারী কর্মকর্তা হাতীবান্ধা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) মাহবুব বলেন, ‘মামলটি এখনো নথিভূক্ত করা হয়নি। ওরা গরীব মানুষ তাই মীমাংসা করাই ভালো। রাজ্জাককে আসতে বলেছি মিমাংসা না হলে মামলাটি নথিভূক্ত করা হবে’।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা