ফরিদপুরে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে হত্যা করায় স্বামী মো. লালন মোল্লা (৫৪)কে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুরে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শামীমা পারভীন এ রায় দেন।
একই সঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানা অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।
রায় ঘোষণার সময় লালন আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২০০৪ সালে বোয়ালমারী উপজেলার ভাটদি গ্রামের সাজেদা বেগমকে বিয়ে করেন লালন। এটি ছিল তার দ্বিতীয় বিয়ে। তারা ফরিদপুর শহরের পশ্চিম আলীপুর এলাকায় থাকতেন। লালন একটি ভবনের কেয়ারটেকার হিসেবে কাজ করতেন।
অভিযোগে বলা হয়, লালন মাদকাসক্ত ছিলেন। মাদকের টাকা জোগাড় করতে তিনি স্ত্রীকে বাবার বাড়ি থেকে টাকা আনতে চাপ দিতেন। কয়েকবার টাকা দেওয়ার পরও নির্যাতন বন্ধ হয়নি।
২০২২ সালের আগস্টে তিনি আবার ৫০ হাজার টাকা যৌতুক দাবি করেন। টাকা না পেয়ে স্ত্রীকে মারধর করেন।
ওই বছরের ২৩ আগস্ট ভোরে ঘরের ভেতরে হাতুড়ি দিয়ে মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে সাজেদাকে হত্যা করেন লালন।
ঘটনার দিনই নিহতের ছোট বোন মাজেদা বেগম ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় লালনকে একমাত্র আসামি করা হয়।
তদন্ত শেষে ২০২৪ সালের ১১ জানুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন তদন্ত কর্মকর্তা এসআই জগন্নাথ দাস।
বিচার চলাকালে ১২ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দেন। সাক্ষ্য, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন ও অন্যান্য আলামত পর্যালোচনা করে আদালত লালনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে রায় দেন।
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া বলেন, যৌতুকের দাবিতে হত্যার মতো অপরাধের বিরুদ্ধে এ রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত।
নিহতের পরিবারের সদস্যরা রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তারা বলেন, দীর্ঘ অপেক্ষার পর তারা ন্যায়বিচার পেয়েছেন।





