• ই-পেপার

করোনা দুর্যোগের মধ্যে হিজড়াদের তাণ্ডব

বাচ্চা লাচাইতে দে নইলে বিপদে পড়বি!

ফরিদপুরে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী হত্যা, স্বামীর যাবজ্জীবন

ফরিদপুর প্রতিনিধি
ফরিদপুরে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রী হত্যা, স্বামীর যাবজ্জীবন
ছবি: কালের কণ্ঠ

ফরিদপুরে যৌতুকের দাবিতে স্ত্রীকে হত্যা করায় স্বামী মো. লালন মোল্লা (৫৪)কে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুরে ফরিদপুরের নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক (জেলা ও দায়রা জজ) শামীমা পারভীন এ রায় দেন।

একই সঙ্গে তাকে ২০ হাজার টাকা জরিমানা করা হয়। জরিমানা অনাদায়ে আরও এক বছরের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ভোগ করতে হবে।

রায় ঘোষণার সময় লালন আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।

মামলার নথি থেকে জানা যায়, ২০০৪ সালে বোয়ালমারী উপজেলার ভাটদি গ্রামের সাজেদা বেগমকে বিয়ে করেন লালন। এটি ছিল তার দ্বিতীয় বিয়ে। তারা ফরিদপুর শহরের পশ্চিম আলীপুর এলাকায় থাকতেন। লালন একটি ভবনের কেয়ারটেকার হিসেবে কাজ করতেন।

 

অভিযোগে বলা হয়, লালন মাদকাসক্ত ছিলেন। মাদকের টাকা জোগাড় করতে তিনি স্ত্রীকে বাবার বাড়ি থেকে টাকা আনতে চাপ দিতেন। কয়েকবার টাকা দেওয়ার পরও নির্যাতন বন্ধ হয়নি।

২০২২ সালের আগস্টে তিনি আবার ৫০ হাজার টাকা যৌতুক দাবি করেন। টাকা না পেয়ে স্ত্রীকে মারধর করেন।

ওই বছরের ২৩ আগস্ট ভোরে ঘরের ভেতরে হাতুড়ি দিয়ে মাথাসহ শরীরের বিভিন্ন স্থানে আঘাত করে সাজেদাকে হত্যা করেন লালন।

ঘটনার দিনই নিহতের ছোট বোন মাজেদা বেগম ফরিদপুর কোতোয়ালি থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলায় লালনকে একমাত্র আসামি করা হয়।

 

তদন্ত শেষে ২০২৪ সালের ১১ জানুয়ারি আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন তদন্ত কর্মকর্তা এসআই জগন্নাথ দাস।

বিচার চলাকালে ১২ জন সাক্ষী আদালতে সাক্ষ্য দেন। সাক্ষ্য, ময়নাতদন্ত প্রতিবেদন ও অন্যান্য আলামত পর্যালোচনা করে আদালত লালনের বিরুদ্ধে অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে বলে রায় দেন।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী গোলাম রব্বানী ভূঁইয়া বলেন, যৌতুকের দাবিতে হত্যার মতো অপরাধের বিরুদ্ধে এ রায় একটি গুরুত্বপূর্ণ দৃষ্টান্ত।

 

নিহতের পরিবারের সদস্যরা রায়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। তারা বলেন, দীর্ঘ অপেক্ষার পর তারা ন্যায়বিচার পেয়েছেন।

খুলনায় মাটিচাপা দেওয়া অজ্ঞাত ব্যক্তির কঙ্কাল উদ্ধার

খুলনা অফিস
খুলনায় মাটিচাপা দেওয়া অজ্ঞাত ব্যক্তির কঙ্কাল উদ্ধার
প্রতীকী ছবি

খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের আওতাধীন হরিনটানা থানা এবং ডুমুরিয়া উপজেলার কৈয়া বাজার সংলগ্ন নতুন আবাসিক এলাকার একটি বাড়ির আঙিনা থেকে মাটিচাপা দেওয়া অবস্থায় অজ্ঞাত ব্যক্তির কঙ্কাল উদ্ধার করেছে পুলিশ।

সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুরে খবর পেয়ে ঘটনাস্থলে যায় হরিনটানা থানা পুলিশ। পরে বাড়ির আঙিনা খুঁড়ে কঙ্কালটি উদ্ধার করা হয়।

হরিনটানা থানার ওসি মো. হেলাল উদ্দিন বলেন, ‘প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, গত রমজান মাসের কোনো এক সময় দুর্বৃত্তরা অজ্ঞাত ওই ব্যক্তিকে হত্যা করে বাড়ির আঙিনায় মাটিচাপা দিয়ে রাখে। দীর্ঘ সময় পার হওয়ায় মরদেহটি কঙ্কালে পরিণত হয়েছে।’

তিনি আরো জানান, নিহত ব্যক্তির পরিচয়, হত্যার কারণ এবং এ ঘটনায় কারা জড়িত, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ঘটনার রহস্য উদ্ঘাটনে তদন্ত শুরু হয়েছে।

কালের কণ্ঠে সংবাদ প্রকাশ, সিভিল সার্জন ডা. মামুনুরের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা

হাসিব খান, গাজীপুর
কালের কণ্ঠে সংবাদ প্রকাশ, সিভিল সার্জন ডা. মামুনুরের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা
ছবি: কালের কণ্ঠ

‘পচছে সরকারি ওষুধ!’ স্বাস্থ্যবিভাগের একজন উর্ধ্বতনকে নিয়ে এমন শিরোনামে গতবছর একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে দৈনিক কালের কণ্ঠ। এ ঘটনায় অবশেষে বিভাগীয় মামলা হয়েছে। অভিযুক্তকে নোটিশ প্রাপ্তির ১০ কর্মদিবসের মধ্যে কারণ দর্শানোর নির্দেশও দেওয়া হয়েছে।

অভিযুক্ত কর্মকর্তা ডা. মো. মামুনুর রহমান বতর্মানে গাজীপুরের সিভিল সার্জন হিসেবে কর্মরত আছেন। কাপাসিয়ার উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা থাকাকালে তার বিরুদ্ধে এ অভিযোগ ওঠে।

২০২৫ সালের ২০ এপ্রিল কালের কণ্ঠে প্রকাশিত অনুসন্ধানী প্রতিবেদনে প্রকাশ পায় হাসপাতালের সরকারি ওষুধ নিয়ে অনিয়মের ভয়াবহ চিত্র। হাসপাতালের পরিত্যক্ত কোয়ার্টার ভবনের পাঁচ কক্ষে কয়েক বছর ধরে বিপুল পরিমাণ সরকারি ওষুধ ও চিকিৎসা সরঞ্জাম ফেলে রাখা হয়েছিল। রোগীদের মাঝে বিতরণ না করার কারণে ২০২৩ ও ২০২৪ সালের মধ্যে অধিকাংশ ওষুধের মেয়াদ উত্তীর্ণ হয়ে যায়।

প্রতিবেদনে যুক্ত ভিডিও চিত্রে দেখা যায়, স্টোর রুমের বাথরুমের মেঝেতেও সরকারি ওষুধ ছড়িয়ে-ছিটিয়ে পড়ে আছে। 
প্রতিবেদনে বলা হয়, একদিকে সরকারি ওষুধ পরিত্যক্ত ভবনে নষ্ট হচ্ছে। অন্যদিকে হাসপাতালে ভর্তি হওয়া রোগীরা প্রয়োজনীয় ওষুধ না পেয়ে বাইরের ফার্মেসি থেকে কিনতে বাধ্য হচ্ছেন। এতে অভিযোগ ওঠে, সরকারির ওষুধপত্র বিতরণ না করে রোগীদের বাইরে থেকে ওষুধ কিনতে বাধ্য করার পেছনে কোনো অসাধু চক্রের ‘কমিশন বাণিজ্য’ কাজ করে থাকতে পারে।

প্রতিবেদন প্রকাশের পর দেশব্যাপী ব্যাপক সমালোচনার সৃষ্টি হলে স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় তিন সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে। একই সময়ে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) অভিযান চালিয়ে অভিযোগের সত্যতা পায় । 

সেই আলোচিত ঘটনায় অবশেষে ডা. মামুনুর রহমানের বিরুদ্ধে বিভাগীয় মামলা করেছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। গত ৮ জুলাই স্বাস্থ্যসচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরীর স্বাক্ষরিত অভিযোগনামার মাধ্যমে এই বিভাগীয় মামলা হয়। 

অভিযোগে বলা হয়, যেহেতু আপনার বিরুদ্ধে দৈনিক কালের কণ্ঠ অনলাইন প্লাটফর্মে ২০২৫ সালের ২০ এপ্রিল প্রকাশিত সংবাদে কাপাসিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে ‘পঁচছে সরকারি ঔষধ’ শিরোনামে সংবাদ প্রকাশিত হয় এবং যথাযথ তদারকির ব্যর্থতার অভিযোগ পাওয়া যায়; যেহেতু আপনার বিরুদ্ধে উক্ত অভিযোগের প্রাথমিক সত্যতা পাওয়া যায়; যেহেতু আপনার উপর্যুক্ত কার্যকলাপ সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ এর বিধি ৩(খ) মোতাবেক অসদাচরণ হিসেবে গণ্য; সেহেতু আপনাকে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা, ২০১৮ এর বিধি ৩(খ) মোতাবেক অসদাচরণের এর দায়ে অভিযুক্ত করা হলো এবং কেন আপনাকে উক্ত বিধিমালার অধীনে চাকরি হতে বরখাস্তকরণ অথবা কোনো উপযুক্ত দণ্ড প্রদান করা হবে না, সে বিষয়ে এ নোটিশ প্রাপ্তির ১০ কর্মদিবসের মধ্যে নিম্নস্বাক্ষরকারীর নিকট কারণ দর্শানোর জন্য নির্দেশ প্রদান করা হলো। একইসঙ্গে, আপনি ব্যক্তিগত শুনানি চান কিনা তাও লিখিতভাবে জানাতে নির্দেশ প্রদান করা হলো।

ঝিনাইদহ

ড্রেন নির্মাণকাজের সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে শ্রমিকের মৃত্যু

ঝিনাইদহ সংবাদদাতা
ড্রেন নির্মাণকাজের সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে শ্রমিকের মৃত্যু
প্রতীকী ছবি

ঝিনাইদহের মহেশপুরে ড্রেন নির্মাণকাজের সময় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে শ্রী রাম (২৬) নামের এক শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। সোমবার (১৩ জুলাই) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে মহেশপুর পৌর শহরের গ্রিনল্যাব ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পাশে এ মৃত্যুর ঘটনা ঘটে। 

নিহত ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ উপজেলার কোলা গ্রামের মিলন দাসের ছেলে। 

পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, সোমবার দুপুরে মহেশপুর পৌরসভায় কয়েকজন শ্রমিক ড্রেন নির্মাণের কাজ করছিলেন। কাজ চলাকালীন শর্টসার্কিটের মাধ্যমে ড্রেনের পাশে থাকা একটি দোকান বিদ্যুতায়িত হয়ে পড়ে। এ সময় অসাবধানতাবশত ও দোকানের গায়ে হাত দেন শ্রী রাম। এতে তিনি গুরুতর বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হন। পরে সঙ্গে থাকা সহকর্মীরা ও স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে মহেশপুর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

মহেশপুর থানার ওসি মেহেদী হাসান বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। এ বিষয়ে লিখিত অভিযোগ পেলে তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’ 

বাচ্চা লাচাইতে দে নইলে বিপদে পড়বি! | কালের কণ্ঠ