kalerkantho

শনিবার । ৩১ শ্রাবণ ১৪২৭। ১৫ আগস্ট ২০২০ । ২৪ জিলহজ ১৪৪১

আম্ফানে ধস, বর্ষায় ক্ষয়

আঞ্চলিক প্রতিনিধি, পিরোপুর   

৩ জুলাই, ২০২০ ১৬:৫৭ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



আম্ফানে ধস, বর্ষায় ক্ষয়

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়ায় সাম্প্রতিক ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের জলোচ্ছ্বাসে বলেশ্বর নদ তীরবর্তী বড়মাছুয়া মোহনা বেড়ি বাঁধ হুমকির মুখে পড়েছে। এতে উল্লিখিত এলাকার বড়মাছুয়া লঞ্চঘাট বাজার, স্টিমারঘাটসহ বাজার বসতি বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। চলতি বর্ষা মৌসুমে এ ভাঙন আরো তীব্র আকার ধারণ করেছে। 

ভুক্তভোগী এলাকাবাসী জানায়, কয়েক দফা ঘূর্ণিঝড় ও জলোচ্ছ্বসে বড়মাছুয়া লঞ্চঘাট ও স্টিমারঘাট বাজার এলাকার দোকানপাট ও বসতি নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। ২৫ বছর ধরে অব্যাহত এ ভাঙনে বড়মাছুয়া লঞ্চঘাট ও স্টিমারঘাট এলাকার দুইশতাধিক ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানসহ বসতি নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। স্টিমারঘাট যাত্রী বিশ্রামাগার ভবন, পাকা মসজিদ, দোকানপাট বিলীন হওয়ায় স্টিমারঘাট ও বাজারের এখন বিপন্ন অবস্থা।

স্থানীয় যুবলীগ নেতা মো. মাইনুল ইসলাম জানান, সম্প্রতি ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের জলোচ্ছ্বসের পর ভাঙনের তীব্রতা আরো বৃদ্ধি পেয়েছে। বর্তমানে বড়মাছুয়া মোহনার বেড়ি বাঁধটি হুমকির মুখে পড়ায় এখানকার গ্রামের বসতির মানুষজন চরম আতঙ্কে রয়েছে। আম্ফানে স্টিমারঘাটের পন্টুন বিচ্ছিন্ন থাকায় অদ্যাবধি স্টিমার সার্ভিস বন্ধ রয়েছে। স্টিমারঘাটটি মেরামত না করার ফলে নৌযাত্রীরা চরম দুর্ভোগের মধ্যে পড়েছেন। 

সম্প্রতি পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী কর্নেল (অব.) জাহিদ ফারুক পরিদর্শনে এসে ক্ষতিগ্রস্ত বেড়ি বাঁধ জরুরি ভিত্তিতে সংস্কারের জন্য প্রাথমিকভাবে পাঁচ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়ার আশ্বাস দিয়েছেন। তবে এ উন্নয়নকাজ দ্রুত শুরু করা না হলে বড়মাছুয়া লঞ্চঘাট ও স্টিমারঘাট সম্পূর্ণ বিলীনের আশঙ্কা রয়েছে। এতে নদীতীরবর্তী এলাকার কয়েক গ্রামের মানুষ চরম আতঙ্কের মধ্যে রয়েছেন। 

পিরোজপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, মঠবাড়িয়ার বলেশ্বর নদের ভাঙনকবলিত পাঁচটি পয়েন্টের অন্তত ৮.২ কিলোমিটার এলাকায় কার্যকর বাঁধ ও ব্লক নির্মাণের একটি সার্ভে প্রতিবেদন কাজ চলমান। এতে ৭২৪ কোটি টাকার একটি মেগাপ্রকল্পের প্রস্তাবনা পাঠানো হবে। তবে বড়মাছুয়া লঞ্চঘাট বাজার থেকে স্টিমারঘাট বাজার অবধি সাময়িক মেরামতের একটি প্রকল্প প্রস্তাবনা পাঠানো হয়েছে, যা অনুমোদনের অপেক্ষায়।

সম্প্রতি বড়মাছুয়া ভাঙনকবলিত বেড়ি বাঁধ ঘুরে দেখা গেছে, বড়মাছুয়া লঞ্চঘাট বাজারের বেড়ি বাঁধের অর্ধেক অংশ বিলীন হয়ে গেছে। এতে মোহনা লাগোয়া লঞ্চঘাট ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ও বিদ্যুতের খুঁটি হুমকির মুখে রয়েছে। চলতি বর্ষা মৌসুমে বড়মাছুয়া বাজার থেকে কাটাখাল পর্যন্ত প্রায় দুই কিলোমটিার এলাকায় এখন ভাঙনের তীব্রতা বাড়ছে।

বড়মাছুয়া লঞ্চঘাট বাজারের মৎস্য আড়তদার ফারুক তালুকদার জানান, টানা ২৫ বছর ধরে বড়মাছুয়া বেড়ি বাঁধ এলাকায় ভাঙন চললেও আজ অবধি ভাঙন রোধে কার্যকার কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। ভাঙনে লঞ্চঘাট যাত্রীছাউনি, দুই শতাধিক দোকানপাট নদীগর্ভে বিলীন হয়ে গেছে। এখানে দ্রুত বেড়ি বাঁধ ও ব্লক নির্মাণ অতি জরুরি।

স্থানীয় ইউপি সদস্য কাইয়ুম হোসেন জানান, ভাঙন রোধে ব্যবস্থা না নেওয়ায় বড়মাছুয়া স্টিমারঘাট ও বাজারের বহু ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান, বসতিসহ একটি পাকা মসজিদ ও যাত্রীছাউনি ইতিমধ্যে বিলীন হয়ে গেছে। বর্তমানে ভাঙনের তীব্রতা এত বেশি যে স্টিমারঘাট দোকানপাট সম্পূর্ণ বিলীন হওয়ার পথে। বড়মাছুয়া লঞ্চঘাট বাজার থেকে কাটাখালী দুই কিলোমিটার ব্লক নির্মাণ জরুরি।

এ বিষয়ে বড়মাছুয়া ইউপি চেয়ারম্যান মো. নাছির হাওলাদার জানান, বলেশ্বর নদের ভাঙনে বড়মাছুয়া লঞ্চঘাট বাজার ও স্টিমারঘাট এলাকা এখন বিলীনের দিকে। ভাঙনে বেড়ি বাঁধ এখন হুমকির মুখে। ইতিমধ্যে জমি, বসতি আর ব্যবসা-প্রতিষ্ঠান নদীগর্ভে চলে গেছে।  বিপন্ন লঞ্চঘাট ও স্টিমারঘাট বাজার দুটির ভাঙন রোধের দাবিতে এলাকাবাসী মানববন্ধন করে কোনো ফল পাচ্ছে না। বড়মাছুয়া বেড়ি বাঁধের অন্তত দুই কিলোমিটার এলাকায় নদীতীরে ব্লক নির্মাণ জরুরি।

এ বিষয় পানি উন্নয়ন বোর্ডের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী মো. শাহ আলম বালী বলেন, ভাঙনকবলিত বলেশ্বরের বড় মাছুয়া মোহনা সরেজমিনে পানিসম্পদ প্রতিমন্ত্রী সম্প্রতি পরিদর্শন করেছেন। ওই স্থানে ভাঙন রোধে ব্লক নির্মাণ করাও জরুরি। বলেশ্বরের ভাঙনর রোধে অন্তত ৮.২ কিলোমিটার অংশে বাঁধ ও ব্লক নির্মাণের  বিষয়ে একটি সার্ভে প্রতিবেদন প্রস্তুতির কাজ চলছে। প্রকল্প অনুমোদন শেষে নির্মাণকাজ শুরু করা সম্ভব হবে।  

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা