kalerkantho

শুক্রবার । ২৩ শ্রাবণ ১৪২৭। ৭ আগস্ট  ২০২০। ১৬ জিলহজ ১৪৪১

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ২২ দিনে তিনগুণ আক্রান্ত, মৃত্যু পাঁচগুণ

বিশ্বজিৎ পাল বাবু, ব্রাহ্মণবাড়িয়া   

৩ জুলাই, ২০২০ ১০:২০ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় ২২ দিনে তিনগুণ আক্রান্ত, মৃত্যু পাঁচগুণ

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলা সহকারি কমিশনার (ভূমি) মো. ইকবাল হাসানকে উন্নত চিকিৎসার জন্য ঢাকার মুগদা হাসপাতালে পাঠানো হয় বুধবার সন্ধ্যায়। বিষয়টি জানার পর ইকবাল হাসানের সিনিয়র কর্মকর্তা হতাশার সুরে ওই কর্মকর্তার জন্য দোয়া চেয়ে ম্যাসেঞ্জারে এ প্রতিবেদককে লিখেন, ‘ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় যেন এ কুবাতাস না লাগে।’ ওই কর্মকর্তার কার্যালয়েরও বেশ কয়েকজন আক্রান্ত হওয়ায় সরকারি নির্দেশনার কার্যক্রম চালিয়ে যাওয়া নিয়েও তিনি শঙ্কা প্রকাশ করেন।

সরকারি ওই কর্মকর্তার মতো ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সবার মাঝেই এখন করোনা আতঙ্ক বিরাজ করছে। বেশ লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ছে এ জেলার করোনা আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা। একই সঙ্গে বাড়ছে মৃত্যু। 

সর্বশেষ বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা নাগাদ আসা ফলাফলে নতুন করে আরো ২১ জন আক্রান্ত নিয়ে জেলা মোট আক্রান্তের সংখ্যা ১ হাজার ৯৩ জন। মারা গেছেন ১৯ জন।

জেলা প্রশাসন থেকে পাওয়া এক পরিসংখ্যান থেকে দেখে গেছে, গত ২২ দিনে আক্রান্তের সংখ্যা বেড়েছে তিনগুণ। ১০ জুন পর্যন্ত যেখানে মাত্র ৩০৫ জন আক্রান্ত হয়েছিলে সেখানে ২ জুলাই নাগাদ আক্রান্তের সংখ্যা বেড়ে গিয়ে দাঁড়িয়েছে হাজারের উপর। একইভাবে মৃত্যু সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে চার গুণের বেশি। ১০ জুন পর্যন্ত চারজন মারা গেলেও ২ জুলাই নাগাদ এ সংখ্যা ১৯, যা ২২ দিনে প্রায় পাঁচগুণ। সবচেয়ে আশঙ্কার বিষয় হলো সর্বশেষ সাত দিনেই ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্র জানায়, বুধবার ঢাকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব ল্যাবরেটরি মেডিসিন অ্যান্ড রেফারাল সেন্টার ল্যাব ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া মেডিকেল কলেজ এন্ড হাসপাতালে ৭৭৮ জনের নমুনার ফলাফল বুধবার সন্ধ্যা নাগাদ এসে পৌঁছায়। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ৩০ জন, বাঞ্ছারামপুরে তিন জন, আখাউড়ায় ১৭ জন, নবীনগরে ১৩ জন, বিজয়নগরে ১৩ জন, সরাইলে চার জন, নাসিরনগরে আট জন, কসবায় আট জন ও আশুগঞ্জে আট জন রয়েছেন। বৃহস্পতিবার শুধু ব্রাহ্মণবাড়িয়া মেডিকেল কলেজ এন্ড হাসপাতাল থেকে ফলাফল আসে, যাতে ২১ জনের পজেটিভ। এ পর্যন্ত জেলায় আইসোলেশন শেষে সুস্থ হয়ে উঠেছেন ২৩৩ জন। এখনো আইসোলেশনে রয়েছেন ৭২৯ জন।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় আক্রান্তদের মধ্যে পদস্থ সরকারি কর্মকর্তা, জনপ্রতিনিধি, চিকিৎসক, সাংবাদিকও রয়েছেন। এ অবস্থায় করোনা সংক্রমনরোধে মাঠ পর্যায়ে কাজ করার মতো লোকের অভাব পড়ারও আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। আতঙ্কিত হয়ে অনেকে পিছপা হন কি-না সেটিও এখন ভাবনার বিষয়। যদিও সংশ্লিষ্টরা সরকারি নির্দেশনা মোতাবেক প্রয়োজনীয় সব ধরণের ব্যবস্থা নিতে প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন।

ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, চলতি জুন মাসে ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় সংক্রমন হার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। ওই সময়ে সংক্রমনের হার প্রায় ৮৭ শতাংশ। জেলায় ১০ এপ্রিল

প্রথম একজনের করোনা ধরা পড়ে। ২৫ এপ্রিল পর্যন্ত আক্রান্তের সংখ্যা ছিলো ৩১ জন। দেড় মাসে অর্থাৎ ২৫ মে আক্রান্তের সংখ্যা গিয়ে দাঁড়ায় ১০০ তে। ৩১ তে পর্যন্ত আক্রান্ত হন ১৩১ জন। ১০ জুন পর্যন্ত ৩০৫ জন, ২৫ জুন পর্যন্ত ৬৫২ জন আক্রান্ত ছিলেন। ১ থেকে ৩০ জুন পর্যন্ত আক্রান্ত হয়েছেন ৮৩৭ জন।

এদিকে আরেক ফলাফল বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, জেলায় ২ জুলাই পর্যন্ত ১০৫১০ জনের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। ফলাফল পাওয়া গেছে নয় হাজার ৪৩৯ জনের। এর মধ্যে আক্রান্ত ১০৯৩ জন। সেই হিসেবে নমুনা সংগ্রহের প্রায় ১০ ভাগ করোনায় আক্রান্ত। তবে বেসরকারিভাবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া মেডিকেল কলেজ ও হাসপাতালে পিসিআর ল্যাব চালু হলে সেখান থেকে পাওয়া ফলাফলে আক্রান্তের হার অনেক বেশি, শতকরা প্রায় ৩০ ভাগ।

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সিভিল সার্জন মোহাম্মদ একরাম উল্লাহ জেলায় করোনা সংক্রমনের হার বেড়ে যাওয়ার বিষয়টি ¯^ীকার করেছেন। তিনি জানান, মানুষকে সচেতন করতে সংশ্লিষ্ট সকলে একসঙ্গে কাজ করে যাচ্ছেন। এ পরিস্থিতি থেকে উত্তরণে সচেতনতার কোনো বিকল্প নেই।

এই রকম আরো খবর

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা