kalerkantho

মঙ্গলবার  । ২০ শ্রাবণ ১৪২৭। ৪ আগস্ট  ২০২০। ১৩ জিলহজ ১৪৪১

বুড়িগঙ্গায় মা-বাবা-ভাই হারিয়ে দুই ভাই

‘লেখাপড়া তো বাদই, খেয়ে বাঁচাই দায় এখন’

মো. মাসুদ খান, মুন্সীগঞ্জ    

৩ জুলাই, ২০২০ ০১:৫৮ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



‘লেখাপড়া তো বাদই, খেয়ে বাঁচাই দায় এখন’

‘সব কিছু শেষ হয়ে গেছে। আপন বলতে কেউ রইল না। লেখাপড়া তো বাদই, খেয়ে বাঁচাই দায় এখন আমাদের।’ এমনটাই বলছিলেন ঢাকার বুড়িগঙ্গায় লঞ্চডুবির ঘটনায় মা, বাবা ও ছোট ভাই হারানো মুন্সীগঞ্জের টঙ্গিবাড়ী উপজেলার আব্দুল্লাহপুরের দুই ভাই হাসিব ও রিফাত। পাঁচ সদস্যের এই পরিবারটির তিনজনই লঞ্চডুবিতে মারা গেছেন। বাড়িতে থাকা দুই ভাই বেঁচে গেলেও তাঁদের সব স্বপ্ন ভেঙে গেছে। লেখাপড়া করা তো দূরের কথা, কিভাবে নিজেরা বাঁচবেন তা ভেবেই এখন দুই ভাই দিশাহারা। বোবা কান্নাই যেন এখন তাঁদের একমাত্র সঙ্গী। 

বাবা আব্দুর রহমান (৪৮), মা হাসিনা বেগম (৩৫) এবং ছোট ভাই সিফাতকে (৯) নিয়ে পাঁচজনের সুখের সংসার ছিল হাসিফ ও রিফাতের। রিফাত ঢাকার একটি স্কুলে নবম শ্রেণিতে পড়াশোনা করে। আর হাসিফ গত বছর এইচএসসি পাস করেছেন। দেশের বাইরে পড়াশোনার চিন্তা-ভাবনা ছিল হাসিফের। কিন্তু ঘাতক ময়ূর-২ লঞ্চ তাঁদের সব স্বপ্ন বুড়িগঙ্গায় শেষ করে দিয়েছে। পড়াশোনার স্বপ্ন তো গেছেই, মা-বাবার অনুপস্থিতিতে খেয়ে-পরে কিভাবে বাঁচবেন তাই বুঝতে পারছেন না তাঁরা। 

হাসিফ রহমান (২০) জানান, তাঁদের বাবা আব্দুর রহমান ঢাকা জজকোর্টে কাজ করতেন। তাঁরা পুরান ঢাকায় কসাইটুলী এলাকায় থাকতেন। করোনাভাইরাস পরিস্থিতিতে বাবার কাজ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় কয়েক মাস আগে তাঁরা দাদার বাড়ি আবদুল্লাহপুর গ্রামে চলে আসেন। কিন্তু তাঁদের ঢাকার ভাড়াবাসার কিছু ভাড়া বাকি থাকায় বাড়ির মালিক তাঁদের আসবাব ও কিছু মালামাল আটকে রেখেছিলেন। গত সোমবার সেসব জিনিস আনতেই ঢাকা যাচ্ছিলেন তাঁর বাবা, মা ও ছোট ভাই। 

পরে সকাল ৯টার দিকে লঞ্চডুবির ঘটনা ঘটলে ওই লঞ্চ থেকে সাঁতরে বাঁচা এক প্রতিবেশীর মাধ্যমে তাঁরা জানতে পারেন, লঞ্চটিতে তাঁদের মা-বাবা-ভাইও ছিলেন। খবর পেয়েই মা-বাবার খোঁজে বেরিয়ে পড়েন দুজন। সেদিন মা ও ছোট ভাইয়ের লাশ খুঁজে পেলেও বাবার লাশ খুঁজে পান পরদিন মঙ্গলবার বিকেলে। তিনজনকেই আব্দুল্লাহপুর কবরস্থানে দাফন করা হয়।

ওই বাড়িতে এখনো চলছে শোকের মাতম। আত্মীয়-স্বজনসহ প্রতিবেশীদের আসা-যাওয়া চলছে। বিভিন্ন কথা দিয়ে, সব হারানো দুই ভাই হাসিফ ও রিফাতকে সান্ত্বনা দিচ্ছে তারা। কিন্তু কোনো সান্ত্বনাই দুই ভাইকে শান্ত করতে পারছে না।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা