kalerkantho

শনিবার । ২৪ শ্রাবণ ১৪২৭। ৮ আগস্ট  ২০২০। ১৭ জিলহজ ১৪৪১

গফরগাঁওয়ে তুলি শিল্পী-গ্রাফিক্স ডিজাইনারদের দুঃসময়

গফরগাঁও (ময়মনসিংহ) প্রতিনিধি    

২ জুলাই, ২০২০ ২২:৪২ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



গফরগাঁওয়ে তুলি শিল্পী-গ্রাফিক্স ডিজাইনারদের দুঃসময়

ময়মনসিংহের গফরগাঁওয়ে করোনা পরিস্থিতিতে স্কুল, কলেজ, অফিস, অনুষ্ঠানাদি বন্ধ থাকায় চরম দুঃসময় পার করছেন তুলি শিল্পী, গ্রাফিক্স শিল্পী ও ডিজিটাল প্রিন্টিং প্রেসের কর্মচারীরা। আয় উপার্জন না থাকায় অনেকে ঘর ভাড়া পর্যন্ত দিতে পারছেন না। এ অবস্থায় অনেকে পেশা পাল্টানোর কথাও ভাবছেন।

জানা যায়, গফরগাঁও থানা গেইটের সামনে অবস্থিত হিমু আর্ট এর স্বত্বাধিকারী তুলি শিল্পী আহাদ মিয়া মহামারী করোনা সংক্রমণ পরিস্থিতির আগে গভীর রাত পর্যন্ত রংতুলি দিয়ে ব্যানার ফেস্টুন, সাইনবোর্ড লেখা, জার্সিতে নাম লেখাসহ আর্টের যাবতীয় কাজ করতেন। কিন্তু কাজ না থাকায় তিনি এখন চোখে অন্ধকার দেখছেন। দোকান খোলে দিনভর বসে থাকলেও কোনো লোক আসেন না। এ অবস্থায় দোকান ভাড়াই দিতে পারছেন না। মানবিক কারণে মালিক পক্ষ তার এক মাসের দোকান ভাড়া মাফ করলেও তিনি আরো এক মাসের ভাড়া মওকুফের আবেদন করেছেন।

একই রকম দুঃসময় পার করছেন বদরুল আর্ট, আনোয়ার আর্ট, রফিক আর্ট, সুজন আর্টসহ উপজেলার বিভিন্ন প্রান্তে থাকা ২০-২৫ জন তুলি শিল্পী। অনেকেই জীবন বাঁচাতে পেশা পাল্টে অন্য কিছু করার কথা ভাবছেন।

অন্যদিকে ডিজিটাল প্রিন্টিংপ্রেসের গ্রাফিক্স ডিজাইনার, শ্রমিক-কর্মচারীদেরও একই রকম দুঃসময় পার করতে হচ্ছে। পৌর শহরে মুক্ত ডিজিটাল সাইন, সরকার ডিজিটাল সাইন, কাহার প্রেসসহ ৪-৫টি প্রিন্টিং প্রেস রয়েছে। বর্তমানে মানুষ বিভিন্ন অনুষ্ঠানাদিতে ডিজিটাল ব্যানান, ফেস্টুন, নেমপ্লেট, ক্রেস্ট, সাইনবোর্ড তৈরিতে আগ্রহী। তাই ডিজিটাল প্রিন্টিং প্রেসগুলোতে গ্রাফিক্স ডিজাইনার শিল্পীদের বেশ কদর। কিন্তু করোনা সংক্রমণ মোকাবেলা জনিত কারণে স্কুল-কলেজ, অফিসসহ সকল ধরনের অনুষ্ঠান বন্ধ থাকায় ডিজিটাল প্রিন্টিং প্রেসের গ্রাফিক্স ডিজাইনার শিল্পী, শ্রমিক-কর্মচারীরা কর্মহীন হয়ে পড়েছেন।

মুক্ত সাইনের সত্ত্বাধিকারী গ্রাফিক্স ডিজাইনার জাহিদ হাসান বলেন, করোনা পরিস্থিতির আগে বিভিন্ন দিবস, স্কুল কলেজের বার্ষিক ক্রীড়ানুষ্ঠান, মিলাদ মাহফিল উপলক্ষে দিনরাত কাজ করেও শেষ করা যায়নি। কিন্তু এখন সারাদিন বসে থাকলেও কেউ অর্ডার দিতে আসেন না।

গফরগাঁও আর্টিস্ট পরিবারের সভাপতি ও আনোয়ার আর্ট এর সত্ত্বাধিকারী আনোয়ার হোসেন ফিরোজ বলেন, আর্টিস্ট তুলি শিল্পী, গ্রাফিক্স ডিজাইনারদের প্রায় সবাই অস্বচ্ছল। মেধা ও সময় বিক্রি করে তাদের জীবন চলে। এখন তাদের বেচে থাকাই কষ্টকর হয়ে পড়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা