kalerkantho

বুধবার । ২৮ শ্রাবণ ১৪২৭। ১২ আগস্ট ২০২০ । ২১ জিলহজ ১৪৪১

গাইবান্ধায় পানি বৃদ্ধির আশঙ্কা, বাঁধে আশ্রিতদের দুর্ভোগ চরমে

গাইবান্ধা প্রতিনিধি   

২ জুলাই, ২০২০ ১৮:১৫ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



গাইবান্ধায় পানি বৃদ্ধির আশঙ্কা, বাঁধে আশ্রিতদের দুর্ভোগ চরমে

গাইবান্ধায় ব্রহ্মপুত্র ও ঘাঘট নদীর পানি থমকে দাঁড়িয়েছে। বৃহস্পতিবার সকাল ৬টা থেকে ব্রহ্মপুত্রের পানি তিস্তামুখ ঘাটে এক লেভেলে দাঁড়িয়ে থেকে বিকাল ৩টা পর্যন্ত বিপদসীমার ৩৭ সে.মি উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। অপরদিকে ঘাঘট নদীর পানি সকাল ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত নতুন ব্রিজ পয়েন্টে ১ সে.মি. কমলেও দুপুর ১২টা পর্যন্ত একই লেভেল থেকে বিপদসীমার ৩৭ সে.মি. উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।

অপরদিকে তিস্তার পানি বিকাল ৩ টায় ১ সে.মি. বেড়েছে। এ ছাড়া করতোয়া নদীর পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপদসীমার সামান্য নিচ দিয়ে বইতে থাকায় গোবিন্দগঞ্জ উপজেলার নতুন নতুন এলাকা প্লাবিত হচ্ছে।

পানি উন্নয়ন বোর্ডের গাইবান্ধা নির্বাহী প্রকৌশলী মো. মোখলেছুর রহমান জানান, আসামে ভারী বৃষ্টি হচ্ছে। ওই পানি নামতে শুরু করলে দু’একদিনের মধ্যে  ব্রহ্মপুত্রের পানি বাড়বে। তাছাড়া বৃহস্পতিবার আকাশ সারাদিন মেঘাছন্ন ছিল। বৃষ্টিপাত শুরু হলেই নদীর পানি বাড়তে থাকবে বলে তিনি জানান।

এদিকে ব্রহ্মপুত্রের পানি এক সপ্তাহ ধরে যে হারে বেড়েছে সেই তুলনায় গত তিনদিনে কমেছে ধীরগতিতে। এবারে ব্রহ্মপুত্রের পানি সর্বোচ্চ বিপদসীমার ৮২ সে.মি. উপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। অথচ বৃহস্পতিবার বিকেল পর্যন্ত কমেছে মাত্র ৯ সে.মি.।

এদিকে নদনদীর পানি না কমায় বন্যা দুর্গত মানুষের দুর্দশা বেড়েছে। ঘরবাড়িতে পানি উঠেছে, রাস্তাঘাট ডুবে গেছে যোগাযোগ ব্যাহত হচ্ছে। কোনো কোনো এলাকায় বিশুদ্ধ পানির অভাব দেখা দিয়েছে। ত্রাণ সামগ্রী অপ্রতুল বলে জানান সাঘাটা উপজেলার হলদিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান মো. ইয়াকুব আলী। তার ইউনিয়নে ১৪টি গ্রামের মানুষ পানিবন্দি।

তিনি বলেন, বন্যার পানির পাশাপাশি বিভিন্ন গ্রামে নদী ভাঙন শুরু হয়েছে। গত এক সপ্তাহে পাতিলাবাড়ি, নলছিয়া, গোবিন্দপুর, গাড়ামারা, দীঘলকান্দি, গুয়াবাড়িসহ কয়েকটি গ্রামে ৪ শতাধিক ঘরবাড়ি যমুনা গর্ভে বিলীন হয়েছে।

এদিকে জেলা প্রশাসক কার্যালয় সূত্রে জানা গেছে, সুন্দরগঞ্জ, সাঘাটা, ফুলছড়ি ও সদর উপজেলার ২৬টি ইউনিয়ন বন্যা কবলিত হয়ে পড়ায় ১ লাখ ২২ হাজার ৩২০ জন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বন্যা দুর্গত মানুষের জন্য এ পর্যন্ত ২০০ মে. টন চাল ও ১৩ লাখ টাকা বরাদ্দ দেয়া হয়েছে। যা এখনও বিতরণের প্রক্রিয়ায়। 

গাইবান্ধা সিভিল সার্জন ডা. এ বি এম আবু হানিফ জানিয়েছেন, বন্যা দুর্গত ৪টি উপজেলায় ৬১টি মেডিক্যাল টিম কাজ করছে। 

বাঁধে আশ্রিতদের দুর্ভোগ চরমে

বাড়িঘরে পানি ওঠায় বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধে আশ্রিতরা নানা সমস্যায় দিন কাটাচ্ছেন। বৃহস্পতিবার দুপুরে ফুলছড়ির ভাসারপাড়া সংলগ্ন বাঁধে গেলে বানভাসীরা তাদের কষ্টের কথা তুলে ধরেন। কৃষি শ্রমিক আবদুল মালেক (৪২) ও তহুরা বেগম বলেন, তারা পরিবার নিয়ে গত ৮ দিন থেকে বাঁধে আছেন। ত্রাণ সামগ্রী নিয়ে কেউ আসেনি। খাবারের সমস্যা এখন পর্যন্ত কোনোভাবে মিটছে। কিন্তু তাদের জন্য  বড় সমস্যা পানি ও বাথরুম। যারাই এসেছেন তাদের কাছেই টিউবয়েল ও ভ্রাম্যমাণ বাথরুমের জন্য কাকুতিমিনতি করে কোনো কাজ হয়নি। বিশেষ করে বাথরুম ল্যাট্রিনের জন্য মহিলারা কষ্ট ভোগ করছেন। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক গৃহবধূ বলেন, সন্ধ্যার পর অন্ধকারও নারীদের জন্য একটা বড় সমস্যা।

এ ব্যাপারে কালের কণ্ঠের পক্ষ থেকে জেলা প্রশাসক মো. আবদুল মতিনকে অবহিত করা হলে তিনি অবিলম্বে ব্যবস্থা গ্রহণের আশ্বাস দেন। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা