kalerkantho

শুক্রবার । ২৩ শ্রাবণ ১৪২৭। ৭ আগস্ট  ২০২০। ১৬ জিলহজ ১৪৪১

প্রাণ ফিরে পেল খড়খড়িয়া নদী

পার্বতীপুর (দিনাজপুর) ও সৈয়দপুর (নীলফামারী) প্রতিনিধি   

২ জুলাই, ২০২০ ১৫:৫৫ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



প্রাণ ফিরে পেল খড়খড়িয়া নদী

প্রধানমন্ত্রীর অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত প্রকল্প ৬৪ জেলার অভ্যন্তরস্থ ছোট নদী খাল ও জলাশয় পুনঃখনন প্রকল্প প্রথম পর্যায় খড়খড়িয়া নদী পুনঃখননের ৩টি প্যাকেজের ৫৭ কিলোমিটারের কাজ সম্পন্ন হয়েছে। এরফলে ইতিমধ্যে নদীতে পানি প্রবাহ শুরু হয়েছে।

সরজমিন গত রবিবার গিয়ে কথা হয় লক্ষী, অবিনাশ, প্রবীর, সজলসহ কয়েকজন জেলের সাথে। এসময় জেলেরা বলেন, সারা বছর এ নদীতে পানি প্রবাহ থাকলে আমাদের জীবন জীবিকা নিয়ে আর দুর্ভাবনায় থাকতে হবে না। 

নদীর দুইপারের বাসিন্দা অহিদুল ইসলাম, রইচ উদ্দিন মখলেসার রহমান বলেন, বোরো মৌসুমে আমাদের বোরো ধানের উৎপাদন ও ফলন আগের চেয়ে বেশি হবে। পার্বতীপুর কৃষি সম্প্রসারণ অফিস কৃষকদের বক্তব্য সমর্থন করে বলেছে, সব ধরণের ফসলের উৎপাদন ও ফলন বেশি হবে এখন থেকে।

বাংলাদেশ পানি উন্নয়ন বোর্ড সৈয়দপুর অফিস সূত্র জানায়, সৈয়দপুর উপজেলার ১৮ কিলোমিটার থেকে ৩৫ কিলোমিটার পর্যন্ত কাজ করেছে রংপুরের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান মেসার্স রূপান্তর। কাজের চুক্তিমূল্য ছিল ৫ কোটি ৪৮ লাখ টাকা। রূপান্তর তার প্যাকেজের কাজ শুরু করেছিল নির্ধারিত দিন ২০১৯ সালের ১৬ মার্চ। নির্দিষ্ট দিনের মধ্যে,গত ৩১ মে রূপান্তর তার প্যাকেজের কাজ সম্পন্ন করতে সমর্থ হয়। ৩৫ কিলোমিটার থেকে ৫৫ কিলোমিটার পর্যন্ত কাজ পায় মেসার্স জুয়েল ইলেকট্রনিক্স, নওগাঁর ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানের কাজের চুক্তিমূল্য ছিল ৫ কোটি ২৫ লাখ টাকা। প্রতিষ্ঠানটি তার প্যাকেজের কাজ শুরু করেছিল ২০১৯ সালের ৪ মার্চ। কাজ শেষ করেছিল নির্ধারিত সময় ৩১ মে।

অন্যদিকে ৫৫ কিলোমিটার থেকে ৭৫ কিলোমিটার পর্যন্ত নদী খনন কাজ করে মেসার্স রূপান্তর, রংপুরের ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠান। এই প্রতিষ্ঠানের চুক্তিমূল্য ছিল ৪ কোটি ৭৩ লাখ টাকা। ঠিকাদাররা কাজ শুরু করে ২০১৯ সালের ১০ মার্চ এবং শেষ করে চলতি বছরের ৩১ মে।

মেসার্স জুয়েল ইলেকট্রনিক্স এর স্বত্ত্বাধিকারী মো. সাজেদুর আলম লাল্টু ও মেসার্স রূপান্তরর মালিক মো. রফিকুল ইসলাম এ প্রতিনিধিকে বলেন, আমরা নির্দিষ্ট সময়ের মধ্যে কাজ শেষ করেছি। পাড় রক্ষা ও সৌন্দর্য বৃদ্ধির জন্য ৮ হাজার গাছও লাগিয়েছি। ইতিমধ্যে আর্থিক বছর শেষ হয়েছে। কিন্তু আমাদের বিল পরিশোধ করা হয়েছে মাত্র ৩০ শতাংশ। অবশিষ্ট ৭০ শতাংশ বিল পরিশোধ না পাওয়ায় সমস্যায় পড়তে হচ্ছে। তারা আরও বলেন, আমরা ব্যাংক থেকে লোন নিয়ে কাজ শেষে বিল উঠিয়ে ব্যাংকের লোন পরিশোধ করে থাকি। 

এ ব্যপারে জানতে চাইলে পানি উন্নয়ন বোর্ড সৈয়দপুরের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী আলহাজ্ব রফিকুল ইসলাম এ প্রতিনিধিকে জানান, নানা প্রতিকুলতার মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার পর আমরা ইতিমধ্যে চাহিদাপত্র পাঠিয়েছি। কিন্তু অর্থ বরাদ্দ না হওয়ায় ঠিকাদাররা তাদের অবশিষ্ট টাকা পায়নি। তবে তিনি জানান, টাস্কফোর্স পরিদর্শন শেষে রিপোর্ট জমা দিলে ঠিকাদারদের বিল পরিশোধ দ্রুত হবে। 

পানি উন্নয়ন বোর্ড সৈয়দপুরের নির্বাহী প্রকৌশলী কৃষ্ণ কমল সরকার বলেন, খুব তাড়াতাড়ি তাঁরা অবশিষ্ট টাকা পেয়ে যাবেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা