kalerkantho

শুক্রবার । ২৩ শ্রাবণ ১৪২৭। ৭ আগস্ট  ২০২০। ১৬ জিলহজ ১৪৪১

প্রেমিকের সহযোগিতায় স্বামীকে গলা কেটে হত্যা

পঞ্চগড় প্রতিনিধি   

২ জুলাই, ২০২০ ১৫:৫৩ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



প্রেমিকের সহযোগিতায় স্বামীকে গলা কেটে হত্যা

পঞ্চগড়ে কাজের কথা বলে ডেকে নিয়ে প্রেমিকের সহযোগিতায় স্বামীকে গলা কেটে হত্যার ঘটনা ঘটেছে। মৃত্যুর আগে ঘাতকদের নাম বলে গেছেন নিহত ওই ব্যক্তি। বৃহস্পতিবার ভোরে ঘটনাটি ঘটেছে জেলার তেঁতুলিয়া উপজেলার বাংলাবান্ধা এলাকায়। নিহত ওই ব্যক্তির নাম জহুর আলী (৬৫)। হত্যাকারীরা হলেন জহুর আলী দ্বিতীয় স্ত্রী জাহেদা বেগম (৪৫) এবং তার প্রেমিক ইদ্রিস আলী (৫০)। জহুর আলীর বাড়ি পঞ্চগড় জেলার আটোয়ারী উপজেলার বলরামপুর ইউনিয়নের গাঠিয়াপাড়া এলাকায়। 

পুলিশ ও নিহতের পরিবার জানায়, গত ৩ বছর ধরে জহুর আলীর স্ত্রী জাহেদা বেগমের সাথে আটোয়ারী উপজেলার সাতখামার এলাকার ইদ্রিস আলীর সাথে অবৈধ সম্পর্ক চলছিল। করোনা পরিস্থিতিতে বেকার হয়ে পড়ে জহুর আলী। ইদ্রিস কৌশলে জাহেদা ও জহুর আলীকে বাংলাবান্ধা এলাকায় পাথর ভাঙার কাজ দেওয়ার কথা বলে বুধবার সেখানে নিয়ে যায়। সেখানে হকিকুল ইসলামের একটি ঘর ভাড়া নেয় তারা। অন্য শ্রমিকরাও ভাড়ায় থাকেন। গভীর রাতে জহুর আলী তার স্ত্রী ও ইদ্রিসকে আপত্তিকর অবস্থায় দেখে ফেলে। এ সময় কথাকাটাকাটির একপর্যায়ে জহুর আলীর গলায় ছুরিকাঘাত করে পালিয়ে যায় ইদ্রিস ও জাহেদা।

জহুর আলীর চিৎকারে প্রতিবেশীরা ছুটে এসে তাকে গলায় ছুরিকাহত অবস্থায় দেখতে পায়। রক্তে সারা শরীর ভিজে গেছে। তখনো কথা বলছিল জহুর। এ সময় স্থানীয় এক ব্যক্তি ভিডিও ধারণ করে। ওই ভিডিওতে ইদ্রিস ও তার স্ত্রী জাহেদা খাতুন তার গলায় ছুরি চালিয়ে দিয়ে পালিয়ে গেছে বলে জানায়। পরে স্থানীয়রা তাকে প্রথমে তেঁতুলিয়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যায়। সেখান থেকে তাকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় পঞ্চগড় আধুনিক সদর হাসপাতালে নেওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়। 

ঘটনাস্থল থেকে হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত ছুরিটি জব্দ করেছে পুলিশ। লাশ ময়নাতদন্তের জন্য পাঠানো হয়েছে। এ ঘটনায় নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার প্রস্তুতি চলছে। এখন পর্যন্ত আসামিদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। তেঁতুলিয়া মডেল থানার ওসি আবু সাঈদ বলেন, পরকীয়ার জেরেই এই হত্যাকাণ্ড ঘটেছে বলে আমরা প্রাথমিকভাবে ধারণা করছি। নিহতের পরিবারের পক্ষ থেকে মামলার প্রস্তুতি চলছে। লাশ ময়নাতদন্তে পাঠানো হয়েছে। আসামি গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা