kalerkantho

শনিবার । ১৯ অগ্রহায়ণ ১৪২৮। ৪ ডিসেম্বর ২০২১। ২৮ রবিউস সানি ১৪৪৩

আক্রান্ত ১৩৯, মৃত্যু ৩

যেভাবে সুস্থ আছে পঞ্চগড়...

পঞ্চগড় প্রতিনিধি   

১ জুলাই, ২০২০ ১৭:৩০ | পড়া যাবে ৫ মিনিটে



যেভাবে সুস্থ আছে পঞ্চগড়...

সারাদেশে করোনা পরিস্থিতির অবনতির মধ্যেও উত্তরের জেলা পঞ্চগড় রয়েছে বেশ ভাল অবস্থানে। জেলার পাঁচটি উপজেলার মধ্যে শুধুমাত্র পঞ্চগড় সদর রয়েছে হলুদ জোনে। এ ছাড়া আটোয়ারী, বোদা, দেবীগঞ্জ ও তেঁতুলিয়া উপজেলা রয়েছে সবুজ জোনে। করোনা সংক্রমণ শূন্যের দিকে নিয়ে যাওয়ার জন্য প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ, পুলিশ ও জনপ্রতিনিধিরা সম্মিলিতভাবে চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। তবে প্রধান ভূমিকা রেখে চলেছে বাংলাদেশ পুলিশ। শিগগিরই পুরো জেলা সবুজ জোনে আওতায় আসবে বলে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা।

দেশে করোনার সংক্রমণ শুরু হলেও ভাল অবস্থানেই ছিলো পঞ্চগড়। পঞ্চগড়ের প্রথম করোনা রোগী শনাক্ত হয় ১৭ এপ্রিল। প্রথম ঢাকাফেরত তেঁতুলিয়ার এক নারীর করোনা শনাক্ত হয়।

পঞ্চগড় সিভিল সার্জন ডা. ফজলুর রহমান জানান, ১৭ এপ্রিল থেকে জুন পর্যন্ত পঞ্চগড়ের পাঁচ উপজেলায় মোট ২ হাজার ১২৬ জনের নমুনা সংগ্রহ করে পরীক্ষার জন্য রংপুর ও দিনাজপুরে পাঠানো হয়। এর মধ্যে ২০৭৬ জনের ফলাফল পাওয়া গেছে। এর মধ্যে করোনা শনাক্ত হয়েছে ১৩৯ জনের। আক্রান্তের মধ্যে মারা গেছেন ৩ জন। সুস্থ হয়েছেন ১২০ জন। বাকি ১৬ জনের মধ্যে ১ জন পঞ্চগড় ডেডিকেটেড করোনা হাসপাতালে এবং বাকিরা বাড়িতে অবস্থান করছেন। তাদের শারীরিক অবস্থাও ভাল। কয়েক দিনের মধ্যেই তারাও সুস্থ হয়ে উঠবেন বলে জানান তিনি।

পঞ্চগড়ে আক্রান্তদের অধিকাংশই ঢাকা, নারায়নগঞ্জ, গাজীপুরসহ করোনা সংক্রমিত এলাকা থেকে ফেরা। বাকি আক্রান্তরা তাদের দ্বারা সংক্রমিত হয়েছে। আক্রান্তদের মধ্যে চিকিৎসক, স্বাস্থ্যকর্মী, পুলিশ, কয়েদী, জনপ্রতিনিধিসহ নানা শ্রেণি পেশার মানুষ রয়েছেন।

পঞ্চগড়ে করোনার সংক্রমণ ঠেকাতে সবচেয়ে বড় ভূমিকা রেখেছে পুলিশ। পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইউসুফ আলীর দক্ষ প্রদক্ষেপে করোনার সংক্রমণ অনেকটাই ঠেকানো সম্ভব হয়েছে। দেশে করোনার শুরুতেই বিদেশফেরত এবং পরে দেশের হটস্পট থেকে পঞ্চগড়ে ফেরতদের ১৪ দিনের হোম কোয়ারেন্টিন নিশ্চিত করতে শক্ত অবস্থান নেয় পুলিশ। তাদের সাথে সার্বক্ষণিক যোগাযোগ করে তারা। এমনকি যারা কোয়ারেন্টিন মেনে চলেছে তাদের পুলিশের পক্ষ থেকে স্বাস্থ্য সুরক্ষা সামগ্রী উপহার দেওয়া হয়। করোনা আক্রান্ত রোগীদের সহযোগিতা ও তাদের যেন কেউ হয়রানি করতে না পারে সেজন্য পুলিশের পক্ষ থেকে প্রতিটি থানায় ৩ সদস্য বিশিষ্ট একটা টিম গঠন করেছে। তারা ২৪ ঘণ্টা করোনা রোগিদের সেবা দিচ্ছেন। এ ছাড়া সচেতনামূলক প্রচার, জেলায় প্রবেশ দ্বারে চেকপোস্ট স্থাপন, সামাজিক দূরত্ব মানায় শক্ত অবস্থান নেয়া, দুস্থদের মধ্যে খাদ্য বিতরণ, অসহায় ও অসুস্থ মানুষের পাশে দাঁড়ানো এবং কৃষকের সবজি বিক্রির ব্যবস্থা করাসহ পুলিশের মানবিক কার্যক্রমগুলো ছিলো চোখে পড়ার মতো। এমনকি সেবা দিতে গিয়ে কয়েকজন পুলিশ সদস্যও করোনায় আক্রান্ত হন। 

এ ছাড়া জেলা স্বাস্থ্য বিভাগ, জেলা প্রশাসন ও স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের ভূমিকাও কম নয়। এ ছাড়া সরকারের অর্থ সহায়তা হিসেবে আক্রান্ত রোগীদের ৫ হাজার টাকা করে অর্থ সহায়তা দেওয়া হচ্ছে। করোনাজয়ীদের ফুল ফলে শুভেচ্ছা জানানো হচ্ছে। করোনা ঠেকাতে সম্মিলিত এই তৎপরতায় সন্তুষ্ট স্থানীয়রা। শিগগিরই পঞ্চগড় জেলা সবুজ জোনে অন্তর্ভূক্ত হবে আশা করছেন সংশ্লিষ্টরা। তবে পঞ্চগড়ের করোনার এই পরিস্থিতি ধরে রাখাটাই এখন বড় চ্যালেঞ্জ। তাই প্রশাসন চাইছে জনগণের সহযোগিতা।

পঞ্চগড়ের বাসিন্দা আবু তাহের বলেন, আমরা এখন অনেক ভাল আছি। ভয় হলো যে এই ভাল অবস্থান আমরা নিজেরাই যেন অবহেলায় নষ্ট না করি। প্রশাসনের পাশাপাশি আমাদের সুরক্ষার বিষয়টি নিয়ে আমাদের নিজেদেরকেই ভাবতে হবে। তাহলেই করোনামুক্ত একটা পরিবেশ পাবো আমরা।

পঞ্চগড়ের রাজনীতিবিদ আবু সালেক বলেন, পঞ্চগড়ে করোনা সংক্রমণ ঠেকাতে পুলিশের ভূমিকা প্রশংসনীয়। রাত নেই দিন নেই তারা কাজ করে যাচ্ছে। সেবা দিতে গিয়ে পুলিশের সদস্যরাও করোনায় আক্রান্ত হয়েছে। একই সাথে জেলা প্রশাসন, স্বাস্থ্য বিভাগ ও জনপ্রতিনিধিরাও ভাল কাজ করেছেন বলেই আজ পঞ্চগড়ের একটা উপজেলা হলুদ জোনে বাকি সবগুলোই সবুজ জোনে। আশা করি দ্রুতই পুরো জেলা সবুজ জোনে আসবে। তবে আমাদের আরও কিছুদিন কষ্ট শিকার করতে হবে। স্বাস্থ্যবিধিসহ সরকারি নির্দেশনাগুলো মেনে চলতে হবে।

পঞ্চগড় পুলিশ সুপার মোহাম্মদ ইউসুফ আলী বলেন, আমাদের লক্ষ্য এখন পঞ্চগড়ে করোনা সংক্রমণ শূণ্যে নামিয়ে আনা। খুব শিগগিরই পুরো জেলাই সবুজ জোন হিসেবে ঘোষণা করতে পারবো আমরা। করোনা সংক্রমণ হতে পারে এমন জায়গাগুলোতে আমরা নজর দিচ্ছি। সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে আমরা সেখানে পুলিশ মোতায়েন করেছি। জেলার প্রবেশ পথগুলোতে চেকপোস্ট বসানো হয়েছে। যারা করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন তাদের সেবা ও যেকোন প্রয়োজনে প্রত্যেক থানায় কাজ করছে পুলিশের টিম। এই পরিস্থিতিতেও আমরা মানুষকে ২৪ ঘণ্টা সেবা দিয়ে যাচ্ছি। পঞ্চগড়কে ভাল রাখতে হবে সকলকেই এগিয়ে আসতে হবে। বিশেষ করে প্রত্যেককেই নিজ নিজ জায়গা থেকে সচেতন হতে হবে এবং সরকারি নির্দেশনা মেনে চলতে হবে।

জেলা প্রশাসক সাবিনা ইয়াসমিন বলেন, সবার সহযোগিতায় আমাদের একটি উপজেলা বাদে সবগুলোই সবুজ জোনে আছে। জেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির সভায় কিভাবে পঞ্চগড়ে করোনা সংক্রমণ শূন্যে নিয়ে আসা যায় সেটি নিয়ে আলোচনা করে বিভিন্ন প্রদক্ষেপ নিয়েছি। আমাদের জেলায় যারা আক্রান্ত হয়েছে অধিকাংশই ঢাকা, নারায়নগঞ্জ ও গাজীপুরসহ করোনার হটস্পট এলাকা থেকে ফেরা। তবে আশার কথা হলো আমাদের জেলার আক্রান্তরা বেশিরভাগই উপসর্গহীন। তারা দ্রুতই তারা সুস্থ হয়ে উঠছেন। আমরা করোনা রোগীদের বাড়ি বাড়ি নগদ টাকা, পুষ্টিকর ফলমূলসহ খাদ্যসামগ্রী পৌঁছে দিয়েছি।



সাতদিনের সেরা