kalerkantho

রবিবার । ২৮ আষাঢ় ১৪২৭। ১২ জুলাই ২০২০। ২০ জিলকদ ১৪৪১

কক্সবাজার সদর হাসপাতাল পেল ৩টি হাই-ফ্লো ন্যাজাল ক্যানোলা

বিশেষ প্রতিনিধি, কক্সবাজার   

১ জুলাই, ২০২০ ০৩:৫৮ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



কক্সবাজার সদর হাসপাতাল পেল ৩টি হাই-ফ্লো ন্যাজাল ক্যানোলা

করোনা রোগীদের চিকিৎসাসেবায় তিনটি হাই-ফ্লো ন্যাজাল ক্যানোলা পেয়েছে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতাল। যেখানে ছিল না একটি হাই-ফ্লো ন্যাজাল ক্যানোলা অক্সিজেন, সেখানে মঙ্গলবার এক দিনে ৩টি হাই-ফ্লো অক্সিজেন হস্তান্তর করা হয়েছে। এত দিন কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে এ রকম হাই-ফ্লো অক্সিজেনের অভাবেই ঢাকা-চট্টগ্রাম পাড়ি দিতে হয়েছে কভিড আক্রান্তদের উন্নত চিকিৎসার জন্য।

আগামী কয়েক দিনের মধ্যে আরো সাতটি এ রকম অক্সিজেন রোগীর সেবায় যোগ হবে হাসপাতালটিতে। করোনালয়ের এমন দুর্বিষহ সময়ে সমাজের কিছু দানশীল ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান করোনায় আক্রান্ত মানুষের সেবায় এগিয়ে আসায় স্বস্তি এসেছে দেশের প্রধান পর্যটন শহর কক্সবাজারে।

তা-ও সরকারি কোনো অনুদানে নয়। অনেকটা নিজেদের তাগিদেই এই তিনটি অক্সিজেন ন্যাজাল নিয়ে এমন দুঃসময়ে কক্সবাজারবাসীর সহযোগিতায় এসেছেন কিছু মানুষ। প্রতিটি অক্সিজেন ন্যাজালপিছু প্রায় সাড়ে সাত লাখ টাকা খরচ। ঢাকাস্থ কক্সবাজার সমিতির সদস্যরা নিজেদের উদ্যোগেই টাকা জোগাড় করে পাঠিয়েছেন নিজ এলাকার মানুষগুলোর জন্য। এতদিন পর্যন্ত সরকারি আড়াই শ শয্যার হাসপাতালটিতে করোনায় আক্রান্তদের সেবায় হাই-ফ্লো ন্যাজাল ক্যানোলা অক্সিজেনের কোনো ব্যবস্থাই ছিল না।

স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব, বাংলাদেশ অ্যাডমিনিস্ট্রেটিভ সার্ভিস অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি এবং ঢাকাস্থ কক্সবাজার জেলা সমিতির সভাপতি হেলালুদ্দিন আহমদ এ প্রসঙ্গে বলেন, ‘হাই-ফ্লো ন্যাজাল ক্যানোলা স্থাপন কক্সবাজারবাসীর দাবি ছিল। আমিও কক্সবাজারের নাগরিক হিসেবে সেটির প্রয়োজনীয়তা তীব্রভাবে আনুভব করেছি। তাই যত দ্রুত সম্ভব শূন্যতা পূরণের চেষ্টা করেছি।’

করোনা পরিস্থিতি মোকাবেলায় কক্সবাজার জেলার দায়িত্বপ্রাপ্ত সমন্বয়ক সিনিয়র সচিব হেলালুদ্দিন আহমদ বলেন, মহামারি মোকাবেলায় সরকারের পাশাপাশি স্থানীয় ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানেরও এগিয়ে আসতে হবে। ঢাকাস্থ কক্সবাজার জেলা সমিতির সদস্যরা মাত্র এক দিনের মধ্যেই টাকা জোগাড় করে জেলাবাসীর জন্য পাঠিয়েছে হাই-ফ্লো ন্যাজাল ক্যানোলা অক্সিজেন।

অপর দিকে কক্সবাজারের জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে স্বচ্ছতা রক্ষার জন্য ফেসবুকে প্রচারের মাধ্যমে আরো দুটি অক্সিজেন ক্রয়ের টাকা জোগাড় করেন। তিনি জানান, দেশের বিভিন্ন জেলার লোকজনও অক্সিজেন দুটি ক্রয়ের জন্য হাত বাড়িয়েছেন। প্রশাসনেরও সবাই এ বিষয়ে আন্তরিক ছিলেন। 

এ উপলক্ষে মঙ্গলবার সচিবালয় থেকে কক্সবাজার জেলা প্রশাসনে অনলাইন জুম কনফারেন্সিঙয়ের মাধ্যমে যুক্ত হয়ে স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব এবং ঢাকাস্থ কক্সবাজার জেলা সমিতির সভাপতি হেলালুদ্দিন আহমদের মধ্যে এসব আলাপ হয়।

প্রায় ২৩ লাখ টাকা মূল্যের মোট ৩টি হাই-ফ্লো ন্যাজাল ক্যানোলা মঙ্গলবার এক অনুষ্ঠানের মাধ্যমে জেলা সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মহিউদ্দিনের কাছে জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন হস্তান্তর করেন। জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন জানিয়েছেন, করোনালয়ের এমন দুর্বিষহ সময়ে সমাজের দানশীল ব্যক্তিরা করোনাক্রান্ত মানুষের সেবায় এগিয়ে এসে এক নজির সৃষ্টি করেছেন।

জেলা প্রশাসক জানান, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে কক্সবাজার জেলা সদর হাসপাতালে আরো সাতটি হাই-ফ্লো ক্যানোলা অক্সিজেন রোগীদের সেবার জন্য দেওয়ার কথা রয়েছে। এসবের মধ্যে রয়েছে চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশনের মেয়র আ জ ম নাছির উদ্দিন ও কক্সবাজার পৌরসভার মেয়র মুজিবুর রহমান একটি করে, ইউএনএইচসিআর কর্তৃক তিনটি, যুক্তরাজ্যস্থ কক্সবাজার সমিতি কর্তৃক একটি ও শ্রিম্প হ্যাচারি অ্যাসোসিয়েশন বাংলাদেশ (সেবা) কর্তৃক একটিসহ সাতটি হাই-ফ্লো ন্যাজাল ক্যানোলা অক্সিজেন।

জেলা প্রশাসক মনে করেন, কভিড-১৯ আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসা নিশ্চিতকরণে এ চিকিৎসা উপকরণগুলো গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। কভিড পজিটিভ ব্যক্তির অক্সিজেন সেচুরেশন নেমে গেলে এসব হাই-ফ্লো ন্যাজাল ক্যানোলা অক্সিজেন মানুষের জীবন বাঁচাতে ভূমিকা রাখবে এবং এ ধরনের আরো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া অব্যাহত থাকবে বলে জানান জেলা প্রশাসক মো. কামাল হোসেন।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা