kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৩ আষাঢ় ১৪২৭। ৭ জুলাই ২০২০। ১৫ জিলকদ  ১৪৪১

সেতুটির করুণ হাল!

চৌগাছা (যশোর) প্রতিনিধি   

৭ জুন, ২০২০ ১৪:৪৪ | পড়া যাবে ৪ মিনিটে



সেতুটির করুণ হাল!

প্রায় ৭ কোটি টাকা ব্যয়ে বহু আকাঙ্ক্ষিত নারায়াণপুর কপোতাক্ষ নদের ওপর নির্মিত সেতুটির দুই পাশের একাধিক স্থানে রাস্তায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। সম্প্রতি ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের আঘাতে এই ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। এ ভাঙন দ্রুত মেরামত করা না হলে দুই পাশের সড়কই কপোতাক্ষের গর্ভে বিলীন হবার সমূহ সম্ভাবনা। এমন অবস্থায় সেতুটি দুই পাশ মেরামতের জন্য কর্তৃপক্ষের আশু দৃষ্টি কামনা করেছেন চৌগাছাবাসী।

জানা গেছে, উপজেলার নারায়ণপুর ও হাকিমপুর ইউনিয়নবাসীসহ এলাকার কমপক্ষে ১ লাখ জনসাধারণের চলাচলের একমাত্র মাধ্যম নারায়ণপুর কপোতাক্ষ নদের ওপর সেতু। দেশ বিভাগের পরও এই স্থানটি দিয়ে মানুষ খেয়া পারাপার হতো। স্বাধীনতার পর যতবার নির্বাচন হয়েছে প্রতিটি নির্বাচনে এ জনপদের মানুষের প্রাণের দাবি ছিল কপোতাক্ষ নদের ওপর একটি সেতু নির্মাণ করা। ১৯৯৬ সালের শেষের দিকে এলাকার মানুষের কথা বিবেচনা করে সাবেক বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অধ্যাপক রফিকুল ইসলাম ব্রিজ নির্মাণের জন্য ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। পরবর্তীতে নারায়ণপুর গ্রামের নিচে ব্রিজ নির্মাণের কাজ শুরু হয়। সরকার পরিবর্তনের পরপরই ব্রিজটির নির্মাণ কাজ বন্ধ হয়ে যায়। এরপর ব্রিজটি পুনরায় নির্মাণের জন্য সাবেক মন্ত্রী তরিকুল ইসলাম পুনরায় ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন। কাজও শুরু হয়। কিন্তু অজ্ঞাত কারণে নির্মাণের কাজ বন্ধ হয়ে দীর্ঘ ১৫ বছর পরিত্যক্ত অবস্থায় অসমাপ্ত ব্রিজটি পড়ে থাকে। ফলে জনগণের আশায় গুড়ে বালি পড়ে। জনগণ হন দিশেহারা। এক প্রকার ফাইলবন্দি হয়ে পড়ে ব্রিজের সকল কার্যক্রম।

সর্বশেষ বর্তমান সরকারের যোগাযোগ মন্ত্রণালয় ব্রিজটি নির্মানের জন্য ৬ কোটি ৮৭ লাখ ৭৪ হাজার ১৫৬ টাকা বরাদ্দ দেয়। এই বরাদ্দের পর সরকারের প্রথম দিকে সেতুটি পুনরায় নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়। দীর্ঘদিন সেতুর কাজ শেষ হওয়ার পর নির্মাণ কর হয় সেতুর দুই পাশের রাস্তা। রাস্তার কাজ শেষে সেতুটি ব্যবহারে খুলে দেওয়া হয়। সেতু নির্মাণের কয়েক বছর যেতে না যেতেই সেতুর পূর্ব পাশে রাস্তায় দেখা দেয় ভাঙন। বিষয়টি গণমাধ্যমে লেখালেখি হলে তা সংস্কার করা হয়। 

সম্প্রতি ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের আঘাত ও প্রবল বৃষ্টিপাতে ব্রিজে পুনরায় ভাঙনের সৃষ্টি হয়েছে। মূল সেতুর দুই পাশে প্রায় ১৫ শ গজ সড়কের দুই পাশ ভেঙে সড়কের ইট খোয়া পিচ বালু সব কিছুই এখন পুকুরের পানিতে। ঘূর্ণিঝড় আম্ফানের আঘাত ও বৃষ্টিপাতে সেতুর পূর্ব পাশে মূল সেতুসংলগ্ন সড়কে দেখা দিয়েছে ভাঙন। বিশাল একটি অংশ এর মধ্যে ভেঙে কপোতাক্ষের গর্ভে চলে গেছে। এই অবস্থার উন্নতি না হলে সেতুতে ওঠার সড়ক পুরোটাই ভেঙে মিশে যাবে কপোতাক্ষ নদে- এমনটি মনে করছেন স্থানীয়রা। বর্তমান ভাঙন স্থান দিয়ে অত্যন্ত সতর্কতার সাথে যানবাহনসহ পথচারীরা পারাপার হচ্ছেন। 

নারায়ণপুর গ্রামের আবু সাঈদ রাজু জানান, কপোতাক্ষ নদ গ্রামটির পাশ দিয়ে প্রবাহমান। যুগযুগ ধরে সেতুসংলগ্ন স্থান দিয়ে খেয়া পারাপার হতো। মানুষের কষ্টের দিক বিবেচনা করে বর্তমান সরকার নদের ওপর সেতুটি নির্মাণ করেন। সেতুটি নির্মাণের পর এ অঞ্চলের মানুষের কষ্ট বহুলাংশে কমে গেছে। বিশেষ করে কৃষক তার উৎপাদিত ফসল যথা সময়ে বাজারে নিয়ে ন্যায্য দামে বিক্রি করে লাভবান হতে থাকে। অসুস্থ মানুষ দ্রুত সময়ের মধ্যে উপজেলা সদরে যেয়ে চিকিৎসাসেবা গ্রহণ করতে পারছেন। অনেকে সেতুটি দেখার জন্য লোকজন বেড়াতে আসেন। কিন্তু হঠাৎ করে সেতুর দুই পাশের সড়ক ভেঙে পাশে পুকুরে গিয়ে পড়েছে। 

নারায়ণপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান জয়নাল আবেদিন মুকুল বলেন, সম্প্রতি ঝড় ও বৃষ্টিপাতের কারণে সেতুর পূর্ব পাশের সংযোগ সড়কে ভাঙন দেখা দিয়েছে। আমি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি অবহিত করেছি। ব্রিজটির ভাঙা অংশ মেরামত না করা হলে মূল ব্রিজের বড় ক্ষতি হবার সম্ভাবনা রয়েছে।

উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল মতিনের সাথে কথা বললে তিনি কালের কণ্ঠকে জানান, সেতুটি সড়ক ও জনপদ বিভাগের অধীনে ছিল। বর্তমানে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরে (এলজিইডি) হস্তান্তর করা হয়েছে। ফলে রক্ষণাবেক্ষণের দায়িত্ব আমাদের। তিনি বলেন, সেতুর দুই পাশে ক্ষতির খবরটি শুনেছি। দ্রুত তা মেরামত করা হবে। তবে জনগণকেও একটু সচেতন হতে হবে। রাস্তার দুই পাশে জনগণ যেন মাটি না কাটে বা রাস্তার ক্ষতিসাধন না করে সেদিকে খেয়াল রাখারও অনুরোধ করেন তিনি। 

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা