kalerkantho

মঙ্গলবার । ২৩ আষাঢ় ১৪২৭। ৭ জুলাই ২০২০। ১৫ জিলকদ  ১৪৪১

নবীনগরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন থামছেই না

নবীনগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি   

৭ জুন, ২০২০ ০৮:৩৭ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



নবীনগরে অবৈধভাবে বালু উত্তোলন থামছেই না

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নবীনগর উপজেলায় অবৈধভাবে বালু উত্তোলন যেন কোনভাবেই থামানো যাচ্ছেনা। বাবু এন্টারপ্রাইজের পর এবার সরকার এন্টারপ্রাইজ নামের একটি প্রতিষ্ঠান পার্শ্ববর্তী রায়পুরায় ইজারা পেলেও ইজারাদারের লোকজন সীমানা লংঘন করে মেঘনা নদীর নবীনগর অংশে ঢুকে বালু উত্তোলন করছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। এতে নবীনগরের নদী তীরবর্তী বাড়িঘর ও ফসলী জমির ব্যাপক ক্ষতি হওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে। 

এ অবস্থায় নবীনগর পশ্চিম ইউনিয়ন আওয়ামী লীগ সভাপতি আনোয়ার হোসেন বিষয়টির প্রতিকার চেয়ে গতকাল স্থানীয় এমপি এবাদুল করিম বুলবুলের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন। আবেদনের কপি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার জেলা প্রশাসক ও নবীনগরের উপজেলা চেয়ারম্যানকেও দেয়া হয়েছে।

জানা গেছে, নবীনগরের সীসান্তবর্তী নরসিংদীর রায়পুরা উপজেলার বাবু এন্টারপ্রাইজ নামের একটি প্রতিষ্ঠান সম্প্রতি সীমানা লংঘন করে নবীনগর উপজেলার পাঁচ কিলোমিটার অভ্যন্তরে ঢুকে নদী থেকে জোরপূর্বক বালু উত্তোলন করে আসছিল। এ বিষয়ে স্থানীয়রা এর প্রতিকার চেয়ে ডিসি বরাবর আবেদন করার রেশ কাটতে না কাটতেই রায়পুরার সরকার এন্টারপ্রাইজ নামের আরেকটি প্রতিষ্ঠান নবীনগরের অভ্যন্তরে ঢুকে পাঁচটি ড্রেজারের মাধ্যমে ব্যাপকভাবে বালু উত্তোলন করছে।

এতে নবীনগরের চর লাপাং ও সাহেবনগর মৌজার নদী তীরবর্তী গ্রামগুলোর বাড়ি ঘর ও ফসলী জমি নদীগর্ভে বিলিন হওয়ার আশংকা দেখা দিয়েছে। 

শুক্রবার সরজমিনে নবীনগরের সাহেবনগর এলাকায় গিয়ে  গিয়ে পাঁচ পাচটি ড্রেজারের মাধ্যমে ইজারাদারের লোকজনকে মেঘনা নদীর নবীনগরের অংশ থেকে নির্বিঘ্নে ব্যাপকভাবে বালু উত্তোলন করতে দেখা গেছে।

এ বিষয়ে আবেদনকারী আওয়ামীলীগ নেতা আনোয়ার হোসেন বলেন,'নদী থেকে অবৈধভাবে এসব বালু উত্তোলন শিগগীরই বন্ধ করা না হলে মেঘনা নদীর তীরবর্তী নবীনগরের বহু বাড়িঘর ও ফসলি জমির ব্যাপক ক্ষতি হয়ে যাবে। তাই দ্রুত বালি উত্তোলন বন্ধ করা দরকার।"

এ বিষয়ে সরকার এন্টারপ্রাইজের মালিক ইজারাদার মতিন সরকার বলেন, "এ বছর ৯২ লাখ টাকায় ইজারা এনে আমি নিয়ম মেনেই বালু উত্তোলন করছি। গত চার বছর ধরে আমি এই ব্যবসা করছি। আজ পর্যন্ত আমাকে কেউ বাধা দেয়নি। মূলত আমার কাছে নানা সুযোগ সুবিধা চেয়ে যারা পাচ্ছেন না, তারাই এসব অসত্য অভিযোগ নানা জায়গায় করছেন।"

এ বিষয়ে নবীনগরের এমপি এবাদুল করিম বুলবুলের সঙ্গে একাধিকবার কথা বলার চেষ্টা করেও কথা বলা যায়নি। তবে নবীনগরের উপজেলা চেয়ারম্যান মোহাম্মদ মনিরুজ্জামান মনির আবেদনের প্রাপ্তি স্বীকার করে শনিবার কালের কণ্ঠকে বলেন,"বিষয়টি এমপি মহোদয় অবগত আছেন। খুব শিগগীরই নবীনগর ও রায়পুরার প্রশাসনকে একসঙ্গে নিয়ে এ বিষয়ে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেয়া হবে।"

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা