kalerkantho

মঙ্গলবার । ৩০ আষাঢ় ১৪২৭। ১৪ জুলাই ২০২০। ২২ জিলকদ ১৪৪১

করোনার সঙ্গে লড়াই করা ডাক্তার শফিকুল নিজেই জীবন সংকটে

ঈশ্বরদী (পাবনা) প্রতিনিধি   

৬ জুন, ২০২০ ২০:২১ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



করোনার সঙ্গে লড়াই করা ডাক্তার শফিকুল নিজেই জীবন সংকটে

করোনাভাইরাসে আক্রান্ত কিংবা উপসর্গধারী রোগীদের চিকিৎসা দিতে দেশের বিভিন্ন হাসপাতালের কিছু চিকিৎসক ও নার্সরা যখন ভীতস্থ, তখন ঈশ্বরদী আলো ডায়াগোনেস্টিক সেন্টারের সত্ত্বাধিকারী ও উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসক (আএমও) ডাক্তার শফিকুল ইসলাম শামিম নির্ভয়ে দিয়েছেন করোনাভাইরাসের উপসর্গধারী ও আক্রান্তদের চিকিৎসা। দিয়েছেন নিজের ফেসবুক পেজে সচেতনামূলক পোস্ট। কেউ যেন এই রোগে ভীতস্থ হয়ে না পড়েন এবং চিকিৎসাসহ যেকোনো পরামর্শ গ্রহণের জন্য নিজের মুঠোফোনের নম্বরটিও পোস্ট করেন। উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অন্যান্য চিকিৎসকদের মধ্যে করোনা চিকিৎসক হিসেবে সকলের নিকট পরিচিত হয়ে উঠেন ডাক্তার শামিম।

সেই চিকিৎসকই করোনা উপসর্গ নিয়ে জীবন সংকটে পড়েছেন। তাকে ভর্তি করা হয়েছে পাবনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে। কিন্তু অবস্থা গুরুতর হওয়ায় এয়ার অ্যাম্বুল্যান্সে করে নেওয়া হচ্ছে ঢাকাতে। আজ শনিবার বিকেলে কালের কণ্ঠকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার এফ এ আসমা খান। 

উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও থানা সূত্রে জানা যায়, ডাক্তার শফিকুল ইসলাম শামিম খুবই জনপ্রিয় মানুষ। তিনি রাশিয়ান ভাষা জানেন। এই জন্য রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পে (আএনপিপি) কর্মরত রাশিয়ানসহ বিদেশি নাগরিক ও সেখানকার শ্রমিকদের করোনা উপসর্গ শনাক্ত ও নমুনা সংগ্রহের বেশির ভাগ কাজই করতেন ডাক্তার শামিম। এই কারণে তার মধ্যে করোনা উপসর্গ দেখা দেয়। গত শুক্রবার তার মা করোনাভাইরাসের উপসর্গ নিয়ে মারা যান। একই সঙ্গে ডাক্তার শামিমের শ্বাসকষ্ট বেড়ে যায়। এই জন্য তাকে বাড়িতে রেখেই অক্সিজেন দেওয়া হয়। কিন্তু তার অবস্থা আশংকা জনক হওয়ায় বিশেষ ব্যবস্থায় দুপুরে পাবনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে করোনা ওয়ার্ডে নেওয়া হয়। 

সূত্রগুলো আরো জানায়, ঈশ্বরদী শহর ও ইউনিয়নগুলোতে করোনা রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। এরমধ্যে রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎ প্রকল্পের (আএনপিপি) কর্মরত শ্রমিকরা ঈদের ছুটি শেষে ও বিদেশি নাগরিকরা দেশ থেকে প্রকল্প এলাকায় ফিরেছেন। নতুন করে কাজের যোগদানের পূর্বে তাদের প্রত্যেকের করোনাভাইরাসের নমুনা সংগ্রহের কাজ চলছে। এদের মধ্যে তিন শ্রমিক করোনা ভাইরাসের পজিটিভ রিপোর্ট এসেছে। 

ঈশ্বরদী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডাক্তার এফ এ আসমা খান কালের কণ্ঠকে বলেন, আরএমও ডাক্তার শফিকুল ইসলাম শামিমসহ তার মৃত মায়ের নমুনা সংগ্রহ করে রাজশাহী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে প্রেরণ করা হয়েছে। রিপোর্ট এখনও পাওয়া যায়নি। তবে ডাক্তার শামিমের উপসর্গে লক্ষণ খুবই খারাপ। তাই তাকে পাবনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল থেকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে ঢাকাতে নেওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা