kalerkantho

মঙ্গলবার । ৩০ আষাঢ় ১৪২৭। ১৪ জুলাই ২০২০। ২২ জিলকদ ১৪৪১

আড়াই মাস বন্ধ হিলি স্থলবন্দর: ৭৫ কোটি টাকা রাজস্ব ঘাটতি

দিনাজপুর প্রতিনিধি   

৬ জুন, ২০২০ ২০:১৬ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



আড়াই মাস বন্ধ হিলি স্থলবন্দর: ৭৫ কোটি টাকা রাজস্ব ঘাটতি

ভারতের অভ্যন্তরে স্বাস্থ্যবিধি ও বাংলাদেশ থেকে ফেরত ভারতীয় ট্রাক-ডাইভারদের কোয়ারেন্টিন জায়গা নিশ্চিত না হওয়ায় হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি চালু হয়নি। তবে ভারতে ডিএমের সঙ্গে আলোচনা শেষে কাল রবিবার থেকে আমদানি-রপ্তানি শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছে ভারতীয় ব্যবসায়ীরা।

বিশ্বজুড়ে মহামারী আকার ধারণ করা করোনাভাইরাসের প্রভাব পড়েছে দেশের অন্যতম স্থলবন্দর দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দরে। বন্দরে প্রায় আড়াই মাস আমদানী-রপ্তানি বন্ধ রয়েছে। এতে ৭৫ কোটি টাকা রাজস্ব কম আদায় হয়েছে। তবে আগামীকাল রবিবার থেকে স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশ-ভারত মধ্যে আমদানী-রপ্তানি কার্যক্রম শুরু হলে সরকার নতুন করে রাজস্ব পেতে শুরু করবে।

গতকাল শুক্রবার বিকালে হিলি সীমান্তের চেকপোস্ট গেটের শূন্যরেখায় বিজিবি ও বিএসএফের উপস্থিতিতে দুই দেশের ব্যবসায়ীদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে শনিবার থেকে বাংলাদেশ-ভারতের মধ্যে আমদানী-রপ্তানী কার্যক্রম শুরু করার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়। কিন্তু বাংলাদেশ থেকে ফেরত ভারতীয় ট্রাক-ডাইভারদের কোয়ারেন্টিনের জায়গা নিশ্চিত না হওয়ায় হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি চালু হয়নি। তবে ভারতে ডিএমের সঙ্গে আলোচনা শেষে রবিবার থেকে আমদানি-রপ্তানি শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছে ভারতীয় ব্যবসায়ীরা।

কিন্তু করোনার কারণে দীর্ঘ আড়াই মাস হিলি স্থলবন্দরে দুই দেশের আমদানী-রপ্তানি বন্ধ থাকায় কাঙ্খিত রাজস্ব আদায় করতে পারেনি কাস্টমস কর্তৃপক্ষ। গেলো দুই মাসে ৭৫ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করার কথা থাকলেও করোনার কারণে রাজস্ব আদায় শূন্যের কোঠায়। গেলো অর্থবছর জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এনবিআর ২৭১ কোটি টাকা লক্ষ্যমাত্রা বেধে দিলেও তা আদায় করা সম্ভব হয়নি শুল্ক স্টেশনটির। চলতি অর্থ বছরে এই স্থলবন্দর ১৯৬ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে। 

হিলি কাস্টমস সহকারী কমিশনার আব্দুল হান্নান জানান, করোনাভাইরাসের কারণে প্রায় আড়াই মাস হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি রপ্তানি বন্ধ থাকায় গেলো অর্থবছর জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এনবিআর থেকে বেধে দেওয়া রাজস্ব আদায়ের টার্গেট পূরণ করা সম্ভব হয়নি। সব থেকে বেশি রাজস্ব আদায় হয় এপ্রিল, মে এবং জুন মাসে। কারণ রমজান মাস এবং কোরবানি ঈদকে সামনে রেখে এই বন্দর দিয়ে মসলা জাতীয় পণ্য জিরা, আদা, বাদামসহ অনেক পণ্য বেশি আমদানি হয়ে থাকে। এসব পণ্য আমদানি না হওয়াতে রাজস্ব থেকে বঞ্চিত হয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড এনবিআর। 

বাংলাহিলি কাস্টমস সিএন্ডএফ এজেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি কামাল হোসেন  জানান, শুক্রবার বিকালে হিলির জিরো পয়ন্টে দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর উপস্থিতিতে দুদেশের ব্যবসায়ীদের বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকে সকল ধরনের স্বাস্থ্যবিধি মেনে শনিবার থেকে ২০টি করে মোট ৪০ ট্রাক পণ্য ভারতীয় ব্যবসায়ীরা রপ্তানি করবে মর্মে বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়। আমরা দুপক্ষই এই সিদ্ধান্তে একমত হয়েছি। কিন্তি বাংলাদেশ থেকে ফেরত ভারতীয় ট্রাক-ডাইভারদের কোয়ারেন্টিনের জায়গা নিশ্চিত না হওয়ায় হিলি স্থলবন্দর দিয়ে আমদানি-রপ্তানি চালু হয়নি। তবে ভারতে ডিএমের সঙ্গে আলোচনা শেষে  রবিবার থেকে আমদানি-রপ্তানি শুরু হতে পারে বলে জানিয়েছে ভারতীয় ব্যবসায়ীরা।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা