kalerkantho

শুক্রবার। ২৬ আষাঢ় ১৪২৭। ১০ জুলাই ২০২০। ১৮ জিলকদ ১৪৪১

জমি লিখে না দেওয়ায় মা-বোনকে বাড়ি ছাড়া করল ছেলে

মাগুরা প্রতিনিধি   

৬ জুন, ২০২০ ০৪:৪০ | পড়া যাবে ৩ মিনিটে



জমি লিখে না দেওয়ায় মা-বোনকে বাড়ি ছাড়া করল ছেলে

জমি লিখে না দেওয়ার কারণে মাগুরার মহম্মদপুরের দীঘা গ্রামে মেয়েসহ এক মা ছেলে কর্তৃক বাড়ি ছাড়া হওয়ার অভিযোগ উঠেছে। মেয়ে মাসুরা খাতুনকে নিয়ে সালমা বেগম (৫৫) এখন তার ভাই বিল্লাল হোসেনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। মহম্মদপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিজানুর রহমানের কাছে এ বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে বৃহস্পতিবার লিখিত আবেদন দিয়েছেন সালমা বেগম। অভিযুক্ত ছেলের নাম হাবিবুর রহমান (৩৫)।

সালমা বেগমের অভিযোগ ১৭ বছর আগে গাছ থেকে পড়ে মারা যান তার স্বামী কায়েম মোল্যা। তারপর থেকে তিনি অনেক কষ্টে দুই ছেলে হাবিবুর ও আব্দুল্লাহ, একমাত্র মেয়ে মাসুরাকে বড় করে তুলেছেন তিনি। বড় ছেলে হাবিবুর রহমান এখন প্রাইভেটকার চালক। ছোট ছেলে আব্দুল্লাহ ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে লেখাপড়া করে।

২০১৯ সালের অক্টোবরে তিনি বিয়ে দেন ছেলে হাবিবুরকে। প্রথমদিকে সব কিছু ভালোই চলছিল। কিন্তু সম্প্রতি বসত বাড়িতে থাকা পাকা ঘরসহ ২ শতক জমি হাবিবুর রহমান তার নামে লিখে দিতে বলে। এটি সালমা বেগমের নিজের নামীয় জমি। সালমা বেগম এতে রাজি না হওয়ায় বিভিন্ন সময়ে নানা রকম হুমকি দেওয়ার পাশাপাশি সালমা বেগম ও তার মেয়ে মাসুরাকে ২৯ মে বাড়ি থেকে বের করে দেয়। তারপর থেকে সালমা বেগম নিজ গ্রাম দিঘার পার্শ্ববর্তী রায়পুরে ভাই বিল্লাল হোসেনের বাড়িতে আশ্রয় নিয়েছেন। ছোট ছেলে আব্দুল্লাহ বড় ভাইয়ের সৃষ্ট এ ধরনের পারিবারিক অশান্তির কারণে দীর্ঘদিন বাড়িতে আসে না।

সালমা বেগমের অভিযোগ অস্বীকার করে হাবিবুর রহমান বলেন, ‘আমি যে প্রাইভেট কার চালিয়ে জীবিকা নির্বাহ করি সেটি কেনার আমার মামা বিল্লাল হোসেন কিছু টাকা ধার দিয়েছিলেন। সেই টাকা ফেরত দেওয়ার জন্য মা দীর্ঘদিন চাপ দিচ্ছেন।

কিন্তু সামর্থ্য না থাকায় আমি দিতে পারছি না। এ নিয়ে কয়েক দিন আগে মায়ের সঙ্গে কিছুটা কথা কাটাকাটি হয় আমার। পরে মা আমার বোনকে নিয়ে মামার বাড়িতে উঠেছে। আমি তাদেরকে বাড়িতে ফিরিয়ে আনতে গিয়েছি কিন্তু আসেননি’।

এ বিষয়ে মহম্মদপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মো. মিজানূর রহমান বলেন, ‘সালমা বেগমের আবেদন পেয়েছি। এ বিষয়ে আইনগত ব্যবস্থার জন্য মহম্মদপুর থানাকে নির্দেশ দিয়েছি’।

ঘটনার তদন্তের দায়িত্বে নিয়োজিত মহম্মদপুর থানার উপ-পরিদর্শক (এস আই) রাজু হোসেন এ ব্যাপারে বলেন, ‘হাবিবুরকে আজ শনিবার মহম্মদপুর থানায় হাজির হতে বলা হয়েছে। এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় আইনগত সব ব্যবস্থা নেওয়া হবে’।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা