kalerkantho

শুক্রবার। ২৬ আষাঢ় ১৪২৭। ১০ জুলাই ২০২০। ১৮ জিলকদ ১৪৪১

শূন্যরেখার কাছে মিয়ানমারের গুলিবর্ষণ, আতঙ্কে রোহিঙ্গারা

বিশেষ প্রতিনিধি, কক্সবাজার   

৬ জুন, ২০২০ ০২:৪৬ | পড়া যাবে ২ মিনিটে



শূন্যরেখার কাছে মিয়ানমারের গুলিবর্ষণ, আতঙ্কে রোহিঙ্গারা

বাংলাদেশ-মিয়ানমার সীমান্তের তুমবুরু শূন্যরেখার কাছে গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। বৃহস্পতিবার বিকালের এ ঘটনায় তুমবুরু কোনারপাড়া শূন্যরেখায় আশ্রিত রোহিঙ্গাদের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে। এমন ঘটনায় মিয়ানমারের পক্ষ থেকে বিজিবিকে জানানো হয়েছে, দেশটির আইন প্রয়োগকাঈ সংস্থার সদস্যরা তাদের দেশের অভ্যন্তরে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে একটি যৌথ অভিযান পরিচালনা করছিল। বিজিবি বলেছে, তারা বরাবরই সীমান্তে সতর্ক অবস্থানে রয়েছে।

বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আনোয়ার হোসেন শুক্রবার রাতে কালের কণ্ঠকে জানান, বৃহস্পতিবার বিকালে গুলির ঘটনাটি হয়েছে মিয়ানমারের ভেতরে তাদের ভূখণ্ডে। সীমান্তে পরিস্থিতি স্বাভাবিক রয়েছে। 

কক্সবাজার ৩৪ বিজিবি’র অধিনায়ক লে. কর্নেল আলী হায়দার আজাদ আহমেদ শুক্রবার  জানান, বৃহস্পতিবার (৪ মে) বিকালে সীমান্তের শূন্যরেখায় গুলিবর্ষণের ঘটনাটি ঘটেছে। এ ব্যাপারে মিয়ানমারের সঙ্গে যোগাযোগ করা হয়েছে। তারা বলেছে, দেশটির ৫০০ গজ ভেতরে মিয়ানমার সেনাবাহিনী এবং দেশটির সীমান্তরক্ষী বাহিনী-বিজিপি যৌথভাবে সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে একটি অভিযান চালিয়েছিল। এ সময় গোলাগুলির ঘটনা ঘটে।

বিজিবি অধিনায়ক বলেন, এ ঘটনায় বিজিবির পক্ষ থেকে একটি প্রতিবাদলিপি পাঠানোর প্রস্তুতি চলছে। গুলিবর্ষণের সময় শূন্যরেখায় আশ্রিত রোহিঙ্গারা ভয়ে ছিল। পরে তারা জানতে পারে ঘটনাটি সে দেশের ভেতরে ঘটছে। এ জন্য পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়ে পড়ে।

স্থানীয়রা জানিয়েছেন, শূন্যরেখার কোনারপাড়া নামক এলাকায় এক হাজারের বেশি পরিবারের ৫ হাজার মতো রোহিঙ্গা রয়েছেন। তারা ২০১৭ সালে ২৪ আগস্টের পরে মিয়ানমার থেকে পালিয়ে আসার সময় সেখানে আটকা পড়েন। সেখান থেকে তারা যেন বাংলাদেশে ঢুকে পড়ে এ লক্ষ্যে মিয়ানমার বার বার গুলিবর্ষণ করে আসছিল। পাশাপাশি সীমান্তে কাঁটাতারের বেষ্টনির পাশ ঘেঁষে মিয়ানমার সেনাবাহিনী একটি সড়ক নির্মাণ করেছে। 

শূন্যরেখার কোনারপাড়া ক্যাম্পের রোহিঙ্গারা জানান, বৃহস্পতিবার বিকাল সাড়ে ৫টার দিকে জিরো লাইনের কাছাকাছি মিয়ানমারে ব্যাপক গুলিবর্ষণ চলে। প্রায় ঘণ্টাখানেক গুলিবর্ষণের শব্দ পাওয়া গেছে। এতে রোহিঙ্গা শিবিরের লোকজন আতঙ্কিত হয়ে পড়ে। মিয়ানমার সীমান্তরক্ষী বাহিনী মাঝে মাঝে রোহিঙ্গাদের ভয় দেখানোর জন্য গুলিবর্ষণ করে।

মন্তব্য



সাতদিনের সেরা